Jashore , Friday, 23 October 2026
সর্বশেষ:
যশোরে ঢাক-কাঁসরের শব্দে প্রতিমা বিসর্জন রংপুর মেডিকেলে শর্টসার্কিট থেকে আগুন; আহত ৪০ হেফাজতে ইসলামের মধ্যস্থতায় ৭ কওমি দলের নতুন রাজনৈতিক জোট ‘সমমনা ইসলামি দল’ সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগে সিপিবির বিক্ষোভ সাত দশকের ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’! কোটি টাকার মাছ কেনাবেচার উৎসব যশোরে সার ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ বিরোধী দলের ৫ এমপির অস্ত্র নিয়ে হামলা ও জমি দখলের হুমকি; যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন জামায়াত জুলাইকে ধারণ করে না, বিএনপির এমন অভিযোগ হাস্যকর: গোলাম পরওয়ার সরকার চায় ঐক্য, কিন্তু একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি : প্রধানমন্ত্রী যশোরে চিহ্নিত চোর ও চাঁদাবাজ মনিরুল ইসলাম সাগর আটক

সারের কৃত্রিম সংকট নিরসনের দাবিতে যশোরে কৃষক সংগ্রাম সমিতির বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, নদী পুনঃখনন, ন্যায্যমূল্যে পর্যাপ্ত সার ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে যশোরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কৃষক সংগ্রাম সমিতি যশোর জেলা কমিটির উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। শহরের পাইপপট্টি মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে যশোর প্রেসক্লাবের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

কৃষক সংগ্রাম সমিতি যশোর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান ও যুগ্ম-সম্পাদক কামরুল হক লিকুর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে অপরিকল্পিত নদী খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে ১৪০ কোটি টাকার সরকারি অর্থ অপচয় করা হয়েছে। পলি কেটে নদীর পাড়ে বা মাঝেই ফেলায় নদী এখন খালে পরিণত হয়েছে। উপরন্তু ভদ্রা, শ্রী ও হরি নদীতে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে অপরিকল্পিত খননের ফলে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে, যা জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

বক্তারা বলেন, এ অঞ্চলের নিম্নভূমি উঁচু করা ও নদীকে নাব্য রাখার একমাত্র বিজ্ঞানসম্মত পথ হলো বিলগুলোতে অবাধ ‘জোয়ার-ভাটা’ (টিআরএম) চালু রাখা। দীর্ঘস্থায়ী সমাধান না করে বারবার ভুল প্রকল্প হাতে নেওয়ায় জনগণের দুর্ভোগ বাড়ছে। এ বিষয়ে স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হলেও কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

কৃষি খাতের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, জেলাজুড়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলারদের কাছে গিয়ে কৃষকরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে চড়া দামে প্রয়োজনের তুলনায় কম সার কিনতে হচ্ছে। তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের কারণেও চলতি মৌসুমে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত ও নীতিমালার তীব্র সমালোচনা করে কৃষক নেতারা অবিলম্বে ন্যায্যমূল্যে সার ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জনস্বার্থবিরোধী সকল বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 08:17 pm, Saturday, 5 September 2026
35 Time View

সারের কৃত্রিম সংকট নিরসনের দাবিতে যশোরে কৃষক সংগ্রাম সমিতির বিক্ষোভ

Update Time : 08:17 pm, Saturday, 5 September 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, নদী পুনঃখনন, ন্যায্যমূল্যে পর্যাপ্ত সার ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে যশোরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কৃষক সংগ্রাম সমিতি যশোর জেলা কমিটির উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। শহরের পাইপপট্টি মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে যশোর প্রেসক্লাবের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

কৃষক সংগ্রাম সমিতি যশোর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান ও যুগ্ম-সম্পাদক কামরুল হক লিকুর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে অপরিকল্পিত নদী খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে ১৪০ কোটি টাকার সরকারি অর্থ অপচয় করা হয়েছে। পলি কেটে নদীর পাড়ে বা মাঝেই ফেলায় নদী এখন খালে পরিণত হয়েছে। উপরন্তু ভদ্রা, শ্রী ও হরি নদীতে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে অপরিকল্পিত খননের ফলে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে, যা জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

বক্তারা বলেন, এ অঞ্চলের নিম্নভূমি উঁচু করা ও নদীকে নাব্য রাখার একমাত্র বিজ্ঞানসম্মত পথ হলো বিলগুলোতে অবাধ ‘জোয়ার-ভাটা’ (টিআরএম) চালু রাখা। দীর্ঘস্থায়ী সমাধান না করে বারবার ভুল প্রকল্প হাতে নেওয়ায় জনগণের দুর্ভোগ বাড়ছে। এ বিষয়ে স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হলেও কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

কৃষি খাতের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, জেলাজুড়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলারদের কাছে গিয়ে কৃষকরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে চড়া দামে প্রয়োজনের তুলনায় কম সার কিনতে হচ্ছে। তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের কারণেও চলতি মৌসুমে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত ও নীতিমালার তীব্র সমালোচনা করে কৃষক নেতারা অবিলম্বে ন্যায্যমূল্যে সার ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জনস্বার্থবিরোধী সকল বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।