Jashore , Friday, 23 October 2026
সর্বশেষ:
যশোরে জাতীয় পার্টির বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ যশোরে ইয়াবাসহ ‘আইনজীবী সহকারী’ ও আলোচিত লাবনী গ্রেপ্তার যশোরে সার ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে হাটসভা জাতীয় নাগরিক পার্টির পুনর্গঠিত কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ, সদস্যসচিব আখতার মণিরামপুরে পাঁচ শহীদ বিপ্লবীর ৫৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত যশোর জেনারেল হাসপাতালে ৪০ লাখ টাকার চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণ বিশ্ব পোলিও দিবস উপলক্ষে যশোরে রোটারির সচেতনতামূলক র‍্যালি কাল যশোরে ঢাক-কাঁসরের শব্দে প্রতিমা বিসর্জন রংপুর মেডিকেলে শর্টসার্কিট থেকে আগুন; আহত ৪০ হেফাজতে ইসলামের মধ্যস্থতায় ৭ কওমি দলের নতুন রাজনৈতিক জোট ‘সমমনা ইসলামি দল’

যশোরে রোগীর মুখে ফাইল ছুড়লেন ডাক্তার, থানায় অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে অন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে আসায় আসমা চৌধুরী (৪৮) নামে এক ভুক্তভোগী নারী রোগীর সাথে উগ্র ও আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ উঠেছে অধ্যাপক ডা. মোঃ আকমত আলী (দিপু)-র বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত চিকিৎসক ঢাকা আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক এবং যশোরের কুইন্স হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডের চেম্বার চিকিৎসক। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বিচার ও আইনি প্রতিকার চেয়ে যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর শারীরিক অসুস্থতার কারণে যশোর শহরের পুরাতন কসবা এলাকার বাসিন্দা আসমা চৌধুরী কুইন্স হাসপাতালে অধ্যাপক ডা. আকমত আলীর শরণাপন্ন হন। চিকিৎসক ৭০০ টাকা ফি নিয়ে তাকে কিছু শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেন। ভুক্তভোগী নারী হওয়ায় পরীক্ষাগুলো মহিলা চিকিৎসকের মাধ্যমে করাতে ইবনে সিনা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও এন্ডোস্কপি করান।

পরবর্তীতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাত ১০টার দিকে রিপোর্টগুলো নিয়ে পুনরায় চিকিৎসকের চেম্বারে গেলে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে কেন পরীক্ষা করানো হলো—এ নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ডা. আকমত আলী। অভিযোগকারী জানান, চিকিৎসক তার সাথে চরম উগ্র আচরণ করেন, ধমক দেন এবং রিপোর্টগুলো ‘ভুল’ দাবি করে তার মুখের ওপর ছুঁড়ে মারেন। হৃদরোগী আসমা চৌধুরী চিকিৎসকের এমন অপেশাদার আচরণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, রিপোর্ট দেখার নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত ফি না নেওয়ার কথা থাকলেও ডা. আকমত আলী জবরদস্তিমূলকভাবে পুনরায় ৭০০ টাকা ফি আদায় করেন এবং পূর্বের রিপোর্ট বাতিল করে কুইন্স হাসপাতাল থেকেই পুনরায় পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেন।

ভুক্তভোগী জানান, সরকারি ছুটির দিন থাকায় সিভিল সার্জন ও বিএমডিসিতে তাৎক্ষণিক অভিযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আগামী রবিবার তিনি উভয় দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করবেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডা. আকমত আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি রোগী দেখায় ব্যস্ত আছেন জানিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক আল আমিন জানান, অভিযোগটি স্পর্শকাতর হওয়ায় গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 07:50 pm, Friday, 18 September 2026
48 Time View

যশোরে রোগীর মুখে ফাইল ছুড়লেন ডাক্তার, থানায় অভিযোগ

Update Time : 07:50 pm, Friday, 18 September 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে অন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে আসায় আসমা চৌধুরী (৪৮) নামে এক ভুক্তভোগী নারী রোগীর সাথে উগ্র ও আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ উঠেছে অধ্যাপক ডা. মোঃ আকমত আলী (দিপু)-র বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত চিকিৎসক ঢাকা আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক এবং যশোরের কুইন্স হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডের চেম্বার চিকিৎসক। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বিচার ও আইনি প্রতিকার চেয়ে যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর শারীরিক অসুস্থতার কারণে যশোর শহরের পুরাতন কসবা এলাকার বাসিন্দা আসমা চৌধুরী কুইন্স হাসপাতালে অধ্যাপক ডা. আকমত আলীর শরণাপন্ন হন। চিকিৎসক ৭০০ টাকা ফি নিয়ে তাকে কিছু শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেন। ভুক্তভোগী নারী হওয়ায় পরীক্ষাগুলো মহিলা চিকিৎসকের মাধ্যমে করাতে ইবনে সিনা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও এন্ডোস্কপি করান।

পরবর্তীতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাত ১০টার দিকে রিপোর্টগুলো নিয়ে পুনরায় চিকিৎসকের চেম্বারে গেলে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে কেন পরীক্ষা করানো হলো—এ নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ডা. আকমত আলী। অভিযোগকারী জানান, চিকিৎসক তার সাথে চরম উগ্র আচরণ করেন, ধমক দেন এবং রিপোর্টগুলো ‘ভুল’ দাবি করে তার মুখের ওপর ছুঁড়ে মারেন। হৃদরোগী আসমা চৌধুরী চিকিৎসকের এমন অপেশাদার আচরণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, রিপোর্ট দেখার নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত ফি না নেওয়ার কথা থাকলেও ডা. আকমত আলী জবরদস্তিমূলকভাবে পুনরায় ৭০০ টাকা ফি আদায় করেন এবং পূর্বের রিপোর্ট বাতিল করে কুইন্স হাসপাতাল থেকেই পুনরায় পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেন।

ভুক্তভোগী জানান, সরকারি ছুটির দিন থাকায় সিভিল সার্জন ও বিএমডিসিতে তাৎক্ষণিক অভিযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আগামী রবিবার তিনি উভয় দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করবেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডা. আকমত আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি রোগী দেখায় ব্যস্ত আছেন জানিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক আল আমিন জানান, অভিযোগটি স্পর্শকাতর হওয়ায় গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।