Jashore , Friday, 23 October 2026
সর্বশেষ:
যশোরে ঢাক-কাঁসরের শব্দে প্রতিমা বিসর্জন রংপুর মেডিকেলে শর্টসার্কিট থেকে আগুন; আহত ৪০ হেফাজতে ইসলামের মধ্যস্থতায় ৭ কওমি দলের নতুন রাজনৈতিক জোট ‘সমমনা ইসলামি দল’ সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগে সিপিবির বিক্ষোভ সাত দশকের ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’! কোটি টাকার মাছ কেনাবেচার উৎসব যশোরে সার ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ বিরোধী দলের ৫ এমপির অস্ত্র নিয়ে হামলা ও জমি দখলের হুমকি; যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন জামায়াত জুলাইকে ধারণ করে না, বিএনপির এমন অভিযোগ হাস্যকর: গোলাম পরওয়ার সরকার চায় ঐক্য, কিন্তু একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি : প্রধানমন্ত্রী যশোরে চিহ্নিত চোর ও চাঁদাবাজ মনিরুল ইসলাম সাগর আটক

যশোরে জাল ভিসা ও প্রতারণার অভিযোগে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিদেশে পাঠানোর নামে অর্থ আত্মসাৎ ও জাল ভিসা দেওয়ার অভিযোগ তুলে আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওবায়দুর রহমান ও আব্দুল করিম নামে দুই ভুক্তভোগী। গত ১৬ সেপ্টেম্বর আনোয়ার হোসেনের করা সংবাদ সম্মেলনের দেওয়া বক্তব্যকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে সোমবার প্রেসক্লাব যশোরে এই পাল্টা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা নেওয়া টাকা ও পাসপোর্ট ফেরত সহ পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওবায়দুর রহমান জানান, তার ছেলে ও শ্যালককে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে বিভিন্ন সময়ে আনোয়ার হোসেনকে চার লাখ টাকা দেওয়া হয়। তার ছেলেকে দেওয়া সিঙ্গাপুরের ভিসাটি পরে জাল প্রমাণিত হয়। এছাড়া তার শ্যালক মিকাইল হোসেনকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হলেও ভিসা ভুয়া হওয়ায় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে বিমানবন্দর থেকে দেশে ফেরত পাঠায়। টাকা ফেরত না পেয়ে ২০০৭ সালের ১০ মে সেনা ক্যাম্প কমান্ডারে কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে শুনানির জন্য গেলেও অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন সেখানে উপস্থিত হননি।

অপর ভুক্তভোগী আব্দুল করিম অভিযোগ করেন, সিঙ্গাপুরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি ২০০৪ ও ২০০৫ সালের বিভিন্ন মেয়াদে আনোয়ার হোসেনকে মোট ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ও তার মূল পাসপোর্ট প্রদান করেন। এতদিন পার হয়ে গেলেও টাকা কিংবা পাসপোর্ট কোনটিই ফেরত পাননি তিনি। এ ঘটনায় গত ২ জুন তিনি আদালতে একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়াধীন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত দুই বক্তা বলেন, সম্প্রতি আনোয়ার হোসেন তাদের বিরুদ্ধে যে চাঁদাবাজি ও আদম ব্যবসার অভিযোগ তুলেছেন তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। উল্টো যশোর সদরের ওহায়েদ আলীর ২০ লাখ টাকা, ঝিকরগাছার মনিরা বেগমের ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, বাগআঁচড়ার কবীরের ১৭ লাখ টাকা এবং ঢাকার সুলতানার ১৭ লাখ ১৬ হাজার টাকা বিদেশে পাঠানোর নামে আনোয়ার হোসেন আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে কোন ব্যক্তির সম্মানহানি না করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে সঠিক নিরপেক্ষ তদন্তের জোরালো দাবি জানানো হয়। এসময় সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর রহমান ও আব্দুল করিম এর স্বজন রিয়াদ ইসলাম বাপ্পি, মাহবুবুর রহমান সোহেল ও আনোয়ারা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 07:01 pm, Monday, 28 September 2026
38 Time View

যশোরে জাল ভিসা ও প্রতারণার অভিযোগে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

Update Time : 07:01 pm, Monday, 28 September 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিদেশে পাঠানোর নামে অর্থ আত্মসাৎ ও জাল ভিসা দেওয়ার অভিযোগ তুলে আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওবায়দুর রহমান ও আব্দুল করিম নামে দুই ভুক্তভোগী। গত ১৬ সেপ্টেম্বর আনোয়ার হোসেনের করা সংবাদ সম্মেলনের দেওয়া বক্তব্যকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে সোমবার প্রেসক্লাব যশোরে এই পাল্টা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা নেওয়া টাকা ও পাসপোর্ট ফেরত সহ পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওবায়দুর রহমান জানান, তার ছেলে ও শ্যালককে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে বিভিন্ন সময়ে আনোয়ার হোসেনকে চার লাখ টাকা দেওয়া হয়। তার ছেলেকে দেওয়া সিঙ্গাপুরের ভিসাটি পরে জাল প্রমাণিত হয়। এছাড়া তার শ্যালক মিকাইল হোসেনকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হলেও ভিসা ভুয়া হওয়ায় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে বিমানবন্দর থেকে দেশে ফেরত পাঠায়। টাকা ফেরত না পেয়ে ২০০৭ সালের ১০ মে সেনা ক্যাম্প কমান্ডারে কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে শুনানির জন্য গেলেও অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন সেখানে উপস্থিত হননি।

অপর ভুক্তভোগী আব্দুল করিম অভিযোগ করেন, সিঙ্গাপুরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি ২০০৪ ও ২০০৫ সালের বিভিন্ন মেয়াদে আনোয়ার হোসেনকে মোট ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ও তার মূল পাসপোর্ট প্রদান করেন। এতদিন পার হয়ে গেলেও টাকা কিংবা পাসপোর্ট কোনটিই ফেরত পাননি তিনি। এ ঘটনায় গত ২ জুন তিনি আদালতে একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়াধীন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত দুই বক্তা বলেন, সম্প্রতি আনোয়ার হোসেন তাদের বিরুদ্ধে যে চাঁদাবাজি ও আদম ব্যবসার অভিযোগ তুলেছেন তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। উল্টো যশোর সদরের ওহায়েদ আলীর ২০ লাখ টাকা, ঝিকরগাছার মনিরা বেগমের ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, বাগআঁচড়ার কবীরের ১৭ লাখ টাকা এবং ঢাকার সুলতানার ১৭ লাখ ১৬ হাজার টাকা বিদেশে পাঠানোর নামে আনোয়ার হোসেন আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে কোন ব্যক্তির সম্মানহানি না করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে সঠিক নিরপেক্ষ তদন্তের জোরালো দাবি জানানো হয়। এসময় সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর রহমান ও আব্দুল করিম এর স্বজন রিয়াদ ইসলাম বাপ্পি, মাহবুবুর রহমান সোহেল ও আনোয়ারা বেগম উপস্থিত ছিলেন।