Jashore , Monday, 26 October 2026
সর্বশেষ:
৩১ অক্টোবরের লংমার্চ সফল করতে যশোরে এনসিপির লিফলেট বিতরণ চার দিনের সরকারি সফরে জাপানের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাস পর খুলছে সেন্টমার্টিন: পর্যটকদের জন্য নতুন নিয়ম ও শত টাকা ফি নির্ধারণ যশোরে অনুমতি ছাড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছের ডাল কেটে বিক্রির অভিযোগ বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক ও ভারতীয় মালামাল আটক দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ন্যানো-ইউরিয়ার পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবির গবেষক ড. জাভেদ যশোরে কলিমুদ্দিন সরদার ট্রাস্টের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাক্যাম্প অনুষ্ঠিত যশোরে মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে জমজ শিশুদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ টানা আট দিনের ছুটি শেষে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরে পুরোদমে আমদানি-রপ্তানি শুরু জাতিসংঘের অর্থবহ সংস্কারে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে ১২ লাখ টাকার হিসাবে গরমিলের অভিযোগ

লাহাব বগুড়া জেলা প্রতিনিধি// বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় করোনায় মৃত এক নারীকে গোসল করিয়ে সারাদেশে আলোচনায় আসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে ১২ লাখ টাকার হিসাবে গরমিলের অভিযোগ উঠেছে।

করোনার সময়ে মানবিক সহায়তার ত্রাণসামগ্রী ক্রয়ের সরকারি বরাদ্দ হিসেবে দেওয়া ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ১১ লাখ ৭৮ হাজার টাকার কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না।

শুধু তাই নয়, দুই হাজার ৫৮টি শুকনো খাবার প্যাকেটের মধ্যে মাত্র ৭০০ প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। অথচ ত্রাণ বিতরণের অফিস ফাইল নোটে ৩৬৪ প্যাকেট করে বিতরণ দেখানো হয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যানরা মাত্র ১০০ প্যাকেট করে শুকনা খাবার বরাদ্দ পেয়েছেন। ফাইল নোট ও রেজিস্টারের মধ্যে ব্যাপক গড়মিল লক্ষ্য করা গেছে।

বিজ্ঞাপনসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, করোনা ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র ও দুস্থ পরিবারের সহায়তার জন্য বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় চলতি বছরের গত ৮ জুন ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

তবে এ পর্যন্ত এ উপজেলায় ৬৭ হাজার ৩০০ টাকার ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।সোনাতলা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রতিটিতে ৩৬৪ করে মোট দুই হাজার ৫৮৪টি শুকনা খাবারের প্যাকেট বিতরণের কথা থাকলেও সেখানে প্রতিটি ইউনিয়নে ১০০ করে শুকনা খাবারের প্যাকেট স্ব-স্ব ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া হয়।

প্রতিটি প্যাকেটের মূল্য ধরা হয়েছে ৬৭৩ টাকা। শুকনা খাবারের প্যাকেটগুলো সরবরাহ করেছে মেসার্স শাহানা ভ্যারাইটিজ স্টোরের স্বত্বাধিকারী শহিদুল ইসলাম। প্রতি প্যাকেটে ছিল সাত কেজি চাল, আধাকেজি লবণ, এককেজি চিনি, এককেজি ডাল, ১০ টাকা মূল্যের একটি সাবান।

মালামাল কেনার ক্ষেত্রে কোনো পিপিআর নিয়মনীতি মানা হয়নি। শুকনা খাবারের যে মাস্টার রোল করা হয়েছে তাতে ইজিপিপির লেবারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের এক কর্মচারী জানান, অফিস ফাইল নোটে প্রতিটি ইউনিয়নে ৩৬৪টি শুকনা খাবারের প্যাকেট বিতরণের কথা থাকলেও বাস্তবে ইউপি চেয়ারম্যানরা তাদের মালামাল বুঝিয়ে পাওয়া রেজিস্টারে ১০০ প্যাকেটের কথা উল্লেখ করেছেন। সে মোতাবেক ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ১০ লাখ ৬৩ হাজার টাকার হিসাব মিলছে না।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আয়েশা সিদ্দিকার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ডেইলি বাংলাদেশ টুডে কে তিনি বলেন, বিষয়টি করোনার সময়ের। তখন তিনি অন্য উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। তবে অফিসের ফাইল নোট ও বিতরণ রেজিস্টারের গরমিলের কথা তিনি স্বীকার করেন।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, চলতি বছরের গত ২৬ জুলাই ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট উপজেলায় করোনাকালীন মানবিক সহায়তার আরও তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। এরমধ্যে গত ১৮ আগস্ট ব্যাংক থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেড় লাখ টাকা উত্তোলন করেন। যা দিয়ে তিনি ৫০টি শুকনা খাবারের প্যাকেট ক্রয় করেন। এখানে প্রতিটি প্যাকেটের মূল্য ধরা হয়েছে ৭০০ টাকা।

এতে করে দেড় লাখ টাকার মধ্যে ৫০ প্যাকেটে ব্যয় হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। অবশিষ্ট এক লাখ ১৫ হাজার টাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে রয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।জানতে চাইলে তৎকালীন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) সারওয়ার আলম বলেন, এ ধরনের গরমিল লক্ষ্য করার পর তিনি মাস্টার রোলে সই করেননি।

তিনি আরও বলেন, মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি কোনো নিয়মনীতি মানা হয়নি।এ বিষয়ে সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া আফরিন ডেইলি বাংলাদেশ টুডে কে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানদের শুকনা খাবার বিতরণের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ কর্মহীন ও গুচ্ছ আবাসনবাসীদের মধ্যে এ ধরনের শুকনা খাবার ও নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের (অনিয়ম) কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটি তার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 04:35 pm, Saturday, 2 October 2021
25 Time View

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে ১২ লাখ টাকার হিসাবে গরমিলের অভিযোগ

Update Time : 04:35 pm, Saturday, 2 October 2021

লাহাব বগুড়া জেলা প্রতিনিধি// বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় করোনায় মৃত এক নারীকে গোসল করিয়ে সারাদেশে আলোচনায় আসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে ১২ লাখ টাকার হিসাবে গরমিলের অভিযোগ উঠেছে।

করোনার সময়ে মানবিক সহায়তার ত্রাণসামগ্রী ক্রয়ের সরকারি বরাদ্দ হিসেবে দেওয়া ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ১১ লাখ ৭৮ হাজার টাকার কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না।

শুধু তাই নয়, দুই হাজার ৫৮টি শুকনো খাবার প্যাকেটের মধ্যে মাত্র ৭০০ প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। অথচ ত্রাণ বিতরণের অফিস ফাইল নোটে ৩৬৪ প্যাকেট করে বিতরণ দেখানো হয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যানরা মাত্র ১০০ প্যাকেট করে শুকনা খাবার বরাদ্দ পেয়েছেন। ফাইল নোট ও রেজিস্টারের মধ্যে ব্যাপক গড়মিল লক্ষ্য করা গেছে।

বিজ্ঞাপনসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, করোনা ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র ও দুস্থ পরিবারের সহায়তার জন্য বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় চলতি বছরের গত ৮ জুন ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

তবে এ পর্যন্ত এ উপজেলায় ৬৭ হাজার ৩০০ টাকার ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।সোনাতলা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রতিটিতে ৩৬৪ করে মোট দুই হাজার ৫৮৪টি শুকনা খাবারের প্যাকেট বিতরণের কথা থাকলেও সেখানে প্রতিটি ইউনিয়নে ১০০ করে শুকনা খাবারের প্যাকেট স্ব-স্ব ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া হয়।

প্রতিটি প্যাকেটের মূল্য ধরা হয়েছে ৬৭৩ টাকা। শুকনা খাবারের প্যাকেটগুলো সরবরাহ করেছে মেসার্স শাহানা ভ্যারাইটিজ স্টোরের স্বত্বাধিকারী শহিদুল ইসলাম। প্রতি প্যাকেটে ছিল সাত কেজি চাল, আধাকেজি লবণ, এককেজি চিনি, এককেজি ডাল, ১০ টাকা মূল্যের একটি সাবান।

মালামাল কেনার ক্ষেত্রে কোনো পিপিআর নিয়মনীতি মানা হয়নি। শুকনা খাবারের যে মাস্টার রোল করা হয়েছে তাতে ইজিপিপির লেবারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের এক কর্মচারী জানান, অফিস ফাইল নোটে প্রতিটি ইউনিয়নে ৩৬৪টি শুকনা খাবারের প্যাকেট বিতরণের কথা থাকলেও বাস্তবে ইউপি চেয়ারম্যানরা তাদের মালামাল বুঝিয়ে পাওয়া রেজিস্টারে ১০০ প্যাকেটের কথা উল্লেখ করেছেন। সে মোতাবেক ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ১০ লাখ ৬৩ হাজার টাকার হিসাব মিলছে না।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আয়েশা সিদ্দিকার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ডেইলি বাংলাদেশ টুডে কে তিনি বলেন, বিষয়টি করোনার সময়ের। তখন তিনি অন্য উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। তবে অফিসের ফাইল নোট ও বিতরণ রেজিস্টারের গরমিলের কথা তিনি স্বীকার করেন।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, চলতি বছরের গত ২৬ জুলাই ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট উপজেলায় করোনাকালীন মানবিক সহায়তার আরও তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। এরমধ্যে গত ১৮ আগস্ট ব্যাংক থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেড় লাখ টাকা উত্তোলন করেন। যা দিয়ে তিনি ৫০টি শুকনা খাবারের প্যাকেট ক্রয় করেন। এখানে প্রতিটি প্যাকেটের মূল্য ধরা হয়েছে ৭০০ টাকা।

এতে করে দেড় লাখ টাকার মধ্যে ৫০ প্যাকেটে ব্যয় হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। অবশিষ্ট এক লাখ ১৫ হাজার টাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে রয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।জানতে চাইলে তৎকালীন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) সারওয়ার আলম বলেন, এ ধরনের গরমিল লক্ষ্য করার পর তিনি মাস্টার রোলে সই করেননি।

তিনি আরও বলেন, মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি কোনো নিয়মনীতি মানা হয়নি।এ বিষয়ে সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া আফরিন ডেইলি বাংলাদেশ টুডে কে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানদের শুকনা খাবার বিতরণের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ কর্মহীন ও গুচ্ছ আবাসনবাসীদের মধ্যে এ ধরনের শুকনা খাবার ও নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের (অনিয়ম) কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটি তার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র।