মানিক কুমার স্টাফ রিপোর্টার// মুষ্টিমেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যাতে ঘুরেফিরে সব কাজ পেতে না পারে সেই লক্ষ্যে ঠিকাদারের যোগ্যতা বিবেচনায় ম্যাট্রিক্স পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল।
পুরনো লাইসেন্সধারী ঠিকাদারদের পাশাপাশি নতুনরাও যেন কাজ পেতে পারে—সেই সুযোগ সৃষ্টিই ছিল এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্য। কিন্তু ম্যাট্রিক্স পদ্ধতির অপব্যবহারের কারণে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনসহ (ডিএনসিসি) বিভিন্ন দপ্তরের সিংহভাগ কাজ ঘুরেফিরে পেয়ে যাচ্ছে ‘মুষ্টিমেয়’ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আর তা ঘটছে বিদ্যমান দরপত্র প্রক্রিয়ার নিয়ম-কানুন অনুসরণ করেই। এতে বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন ছোট ও নতুন ঠিকাদাররা।একই ঠিকাদার একাধিক কাজ করার ফলে কাজের গুণমান নিয়ে যেমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তেমনি নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারার ঘটনাও ঘটছে অহরহ।
ফলে সময়ের ব্যবধানে এখন ম্যাট্রিক্স পদ্ধতি বাতিলের পক্ষে মত দিচ্ছেন অনেকে।সওজ ও ডিএনসিসিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ম্যাট্রিক্স পদ্ধতি ব্যবহার করে সওজ ঠিকাদারের যোগ্যতা বিচার করে। এ পদ্ধতিতে আগের কাজের অভিজ্ঞতা, সর্বোচ্চ কত টাকায় কাজ করেছেন ও কত বেশি কাজ চলমান আছে, তা বিবেচনায় নেওয়া হয়। ফলে যিনি এসব যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে পারেন, তিনিই কাজ পাচ্ছেন। এক্ষেত্রে অন্য ঠিকাদারদের কাজ পাওয়ার সুযোগ কম।কাজের ক্ষেত্রে অধিকতর প্রতিযোগিতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সমপ্রতি কিছু প্রস্তাব দিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়াধীন ‘বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)’ এবং ‘সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট ও টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ)’।
কিন্তু আইএমইডি ও সিপিটিইউর সেসব প্রস্তাব আলোর মুখ দেখেনি। গত বছরের ২১ অক্টোবর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) ভার্চুয়াল বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। ঐ সভায় অভিমত দিয়ে বলা হয় ‘ক্রয়কার্যে অধিকতর প্রতিযোগিতা সৃষ্টির লক্ষ্যে দরপত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা পর্যাপ্ত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ক্রয়কার্যে কতিপয় প্রতিষ্ঠানই পৌনঃপুনিকভাবে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে থাকে যা সমীচীন নয়।







