মেহেদী হাসান বিশেষ প্রতিনিধি//রাজধানীর প্রগতি সরণীতে ১০ বছরের একটি মেয়ে শিশুকে বাস থেকে ফেলে হত্যার ঘটনায় চালক ও সহকারীকে আটক করেছে র্যাব।
আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, রাইদা পরিবহনের চালক রাজু মিয়া ও তার সহযোগী ইমরান হোসেন। আর ঘটনাটি গেল মঙ্গলবার যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে ঘটে।
শুক্রবার (১২ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর ও টঙ্গী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।শনিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান বাহিনীটির মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
কোন ধরনের সূত্র ছাড়া মর্মান্তিক এই ঘটনায় ৫০টির বেশি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বাসটিকে শনাক্ত করা হয়। সেখান থেকেই জানা যায় চালক ও সহকারীর নাম।
র্যাব জানায়, নিহত মেয়েটির নাম মরিয়ম আক্তার। তার বয়স দশ। সে প্রগতি সরণী এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবন চালাতো।ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বিশ্লেষণ করে র্যাব জানিয়েছে, ৯ নভেম্বর সকালেও মেয়েটি প্রতিদিনের মতো রাস্তায় ঘুরে ঘুরে এবং বাসে উঠে সাহায্য চাচ্ছিলো।
এক পর্যায়ে মরিয়ম রাইদা নামক একটি বাসে ওঠে। অল্প কিছুক্ষণ পরেই সহকারী তাকে ‘গেটলক বাস’ বলে বাস থেকে নামিয়ে দেন। এ সময় যথাযথভাবে গাড়িটি না থামানোয় মরিয়ম রাস্তায় পড়ে গুরুতর আহত হয়ে মারা যায়।
ওই সময় বাসে বেশ কয়েকজন যাত্রীও ছিলো বলে জানায় র্যাব। সকালে সাড়ে ৭:৩০ দিকে এমন ঘটনা ঘটায় অনেকে মনে করেন বাসে শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করে ফেলে যাওয়া হয়েছে।
কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছু ঘটেনি বলে জানিয়েছে র্যাব কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, অর্থ সহায়তা চাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসটিতে উঠেছিল মরিয়ম।
কিন্তু তার বাসে উঠা ও পড়ে যাওয়ার কোনো সিসিটিভি ফুটেজ না পাওয়ায় ঘাতক চালক এবং সহকারীকে শনাক্ত করতে গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং নজরদারি আরও বাড়ানো হয়।
এরপরই আলাদা অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা দুই জনই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে র্যাব।
এই ঘটনায় শিশুটির বাবা রনি মিয়া অজ্ঞাতপরিচয় চালককে আসামি করে ভাটারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মরিয়ম তার পরিবারের সঙ্গে খিলক্ষেতের কুড়াতলী এলাকায় বসবাস করতো। তার বাবা রনি একজন প্রাইভেটকারচালক। মরিয়ম ২০১৯ সালে স্থানীয় একটি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়।
তবে, অর্থের অভাবে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সে বিভিন্ন জায়গায় অর্থ সহায়তা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কুড়িল ও আশপাশের এলাকায় ঘোরাঘুরি করত। ঘটনার দিন সকালে মরিয়ম বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় পথচারী ও বাস যাত্রীদের কাছে ঘুরে ঘুরে সাহায্য চাচ্ছিলো।







