বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে মেয়র আব্বাস আলীকে অব্যাহতি

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

বনি রাজশাহী বিভাগীয় সংবাদদাতা:- কাটাখালীর পৌরমেয়র আব্বাস আলীকে আ.লীগ থেকে অব্যাহতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল স্থাপন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে মেয়র আব্বাস আলীকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

বুধবার বিকেলে রাজশাহীর পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইয়াসিন আলী জানান, এক জরুরি বৈঠকে কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক পদ থেকে আব্বাস আলীকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। আগামী তিনদিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠানো হবে। কেন্দ্র তাকে চূড়ান্ত বহিষ্কার করবে।

এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল বলেন, আব্বাস আলীর মন্তব্য সংগঠনের আদর্শ ও চেতনা পরিপন্থি। তাকে কারণ দর্শানোর জন্য জেলা আওয়ামী লীগকে চিঠি দিতে বলেছি।

জবাব পেলে চূড়ান্তভাবে সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেয়া হবে।এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে পড়া অডিওর ব্যাপারে আব্বাস আলী পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি লিখেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালসহ গেট নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানানোর পর থেকে একটি অশুভ শক্তি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালসহ যেন গেট নির্মাণ করতে না পারি, এ ব্যাপারে ষড়যন্ত্র শুরু করে।

গতকাল থেকে কিছু সংবাদমাধ্যম এবং ফেসবুকে আমার কথোপকথনের একটি অডিও ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে। অডিওটি সবাই মনোযোগ দিয়ে শুনুন, আপনারা বুঝতে পারবেন, অডিওটি এডিট করে তৈরি করা হয়েছে। আমি কখনো কারও সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালসহ গেট নির্মাণ করা হবে না কিংবা কেউ ম্যুরাল নির্মাণ করলে বাধা দেয়া হবে, এ রকম কথা কারও সামনে কখনো বলিনি।

উল্লেখ্য, আব্বাস আলী রাজশাহীর পবা উপজেলার কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। তিনি আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে টানা দুই মেয়াদে মেয়রের দায়িত্ব আছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল স্থাপন নিয়ে তার বিরুদ্ধে কটূক্তি করার অভিযোগ উঠেছে। এ–সংক্রান্ত একটি অডিও কথোপকথন মঙ্গলবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে বিভিন্ন সময়ে রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া, বোয়ালিয়া ও চন্দ্রিমা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মেয়র আব্বাসের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করা হয়।

বোয়ালিয়া থানায় করা অভিযোগে বাদী রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মোমিন।এর আগে, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি এবং দলীয় সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে রাজবাড়ীর আদালতে মামলাও দায়ের হয়েছে।