দৌলতপুরে ঘোড়ামারা গ্রামে অনুষ্ঠিত হলো বাংলার লোকশিল্প এর ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালা

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

আহসান হাবিব লেলিন// “না না না আজ রাতে আর যাত্রা শুনতে যাবো না’- মান্নাদের কণ্ঠে বিখ্যাত গান|

কিন্তু যাত্রার আকর্ষণ এমনি যে না গিয়েও পারা যাবে না। বাংলার জনজীবনের এমনই এক অবিচ্ছেদ্য বিনোদন ছিল যাত্রা।

যাত্রাপালা অভিনয় আগ মুহূর্তে

রাতের পর রাত জেগে বাংলার সাধারণ মানুষ কৃষক, ব্যবসাহিক, তাঁতী,কামার ,কুমার, জেলে দেখেছে যাত্রায় কাহিনি আর মেতেছে পালা গানের সুরে। কখনো ভক্তি, কখনো ভালোবাসা, কখনো দেশপ্রেম তাকে কাঁদিয়েছে, হাসিয়েছে।

আবার সামন্ত রাজা, জমিদার ও অভিজাত শ্রেণির মানুষও যাত্রা দেখেছে। জমিদারবাবু তো আর সাধারণ প্রজার সঙ্গে যাত্রার আসরে গিয়ে বসবেন না। বরং তার প্রাসাদের নাটমণ্ডপেই বসবে যাত্রার আসর। জমিদারবাড়িতে থাকতো বিশাল নাটমণ্ডপ।

সেখানেই যাত্রা, পালাগান, কীর্তনের আসর বসতো। চিক বা পর্দাঘেরা বারান্দায় বসতেন জমিদার গৃহিনী, রানীমা, পরিবারের নারী সদস্যরা। তারা চিকের আড়াল থেকেই দেখতেন যাত্রা পালা।যাত্রাপালার ঐতিহ্য অত্যন্ত প্রাচীন।

অষ্টম ও নবম শতকেও এদেশে পালাগান ও পালার অভিনয় প্রচলিত ছিল। শ্রী চৈতন্যদেবের আবির্ভাবের আগেও রাঢ়, বঙ্গ, সমতট, গৌড়, পুণ্ড্র, চন্দ্রদ্বীপ, হরিকেল, শ্রীহট্টসহ সমগ্র ভূখণ্ডে পালাগান ও কাহিনিকাব্যের অভিনয় প্রচলিত ছিল।

ধর্মীয় বা কোনো উৎসবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার যে রীতি সেখান থেকেই যাত্রা শব্দটি এসেছে। নিচুতলার মানুষ নামে বইটার কাহিনি অভিনয় ও গানের মাধ্যমে দর্শকদের পরিবেশন করা হয়েছে

দর্শকরা তা দেখে ভক্তিরসে সিক্ত হয়েছেন। নিচুতলার মানুষ নামে একটি যাত্রাপালা অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর দেশ স্বাধীন হলে অনেক যাত্রাদল নতুনভাবে গড়ে ওঠে তাদের মধ্যে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুরে ঘোড়ামারা গ্রামে যাত্রাদল অন্যতম। নিচুতলার মানুষ নামক বইটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়।

এতে অভিনয় করেছেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান,বীর কসিমুদ্দিন মেম্বার, চেতন মন্ডল,ডা.মোতালেব, মন্টু বিশ্বাস, রেজা, আমিরুল বিশ্বাস, রফিকুল, হোসেন আলী,আশাদুল,খোলার, ফজলুল হক, ফরিদুল,মহিদুল ইসলাম মাষ্টার, মতিউর,আকতার সহ আরো ১০/১৫ এর সহযোগীতায় ৪ জন নায়িকা সহ অনেক যাত্রাশিল্পী ছিলেন উপস্থিত ছিলেন।

সত্তর দশকের শেষভাগ এবং বিশেষ করে আশির দশকে যাত্রাশিল্পে অবক্ষয় শুরু হয়। আবহমান কাল ধরে চলে আসা এই শিল্প ধ্বংসের মুখোমুখি হয় যাত্রার তখনি ঘোড়ামারা গ্রামে যাত্রাদল একটা বিশেষ উদ্যোগ নেন যা বাস্তবায়িত হয় বুধবার রাতে।

বাঙালির বিনোদনের একটি প্রধান অনুসঙ্গ ছির যাত্রা পালা।‌ এর মধ্য দিয়ে শুধু বিনোদন নয় পুরাণ, ইতিহাস, লোকজ সাহিত্য সম্পর্কে শিক্ষাগ্রহণ চলতো।যাত্রা আমাদের লোকজ সংস্কৃতির মূল্যবান সম্পদ।

যাত্রা শিল্পকে বাঁচাতে প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের অধিকতর পৃষ্ঠপোষকতা।বাংলা লোকযাত্রাপালা অনুষ্ঠিত হলো ঘোড়ামারা গ্রামে – যে লোকজ বিনোদন ধারণ করে ঐতিহ্যকে বহন করে।