Jashore , Monday, 26 October 2026
সর্বশেষ:
৩১ অক্টোবরের লংমার্চ সফল করতে যশোরে এনসিপির লিফলেট বিতরণ চার দিনের সরকারি সফরে জাপানের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাস পর খুলছে সেন্টমার্টিন: পর্যটকদের জন্য নতুন নিয়ম ও শত টাকা ফি নির্ধারণ যশোরে অনুমতি ছাড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছের ডাল কেটে বিক্রির অভিযোগ বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক ও ভারতীয় মালামাল আটক দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ন্যানো-ইউরিয়ার পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবির গবেষক ড. জাভেদ যশোরে কলিমুদ্দিন সরদার ট্রাস্টের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাক্যাম্প অনুষ্ঠিত যশোরে মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে জমজ শিশুদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ টানা আট দিনের ছুটি শেষে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরে পুরোদমে আমদানি-রপ্তানি শুরু জাতিসংঘের অর্থবহ সংস্কারে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

চোরাই তামার তারে কোটি টাকার ম্যাগনেটিক কয়েন!

স্টাফ রিপোর্টার:- চোরাই তামার তার গলিয়ে তৈরি করা হতো বিভিন্ন আকৃতির ধাতব মুদ্রা। পরে সেগুলোকে ৫ কোটি টাকা মূল্যের দুর্লভ ম্যাগনেটিক কয়েন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ বলে দাবি করা হতো। এরপর লোভের ফাঁদে পা দেওয়া বিত্তশালী ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে পাঁচ তারকা কোনো হোটেলে চলত বিক্রির দেন দরবার। এ সময় কয়েনটি পরীক্ষা করে ৪০০ বছর আগের প্রত্নতাত্ত্বিক বস্তু হিসেবে নিশ্চিত করত চক্রের সদস্য ভুয়া রসায়নবিদ।

চক্রটির সদস্যরা এভাবে নিজেদের লোকদের বিক্রেতা ও দালাল সাজিয়ে এমন পরিবেশ তৈরি করত যে, ম্যাগনেটিক হওয়ায় কয়েনটির অনেক চাহিদা রয়েছে।

পরে কৌশলে বিত্তশালী ব্যক্তির মাধ্যমে কয়েনটি বিদেশি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রির ফাঁদ পেতে হাতিয়ে নেয়া হতো কোটি কোটি টাকা।

এমনই এক চক্রের ভুয়া রসায়নবিদসহ চার সদস্যকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের গুলশান বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো সাইফুল ইসলাম ওরফে বিষ্ণু মালো ওরফে শঙ্কর মালো ওরফে শংকর ওরফে স্বপন, সাইদুল ইসলাম জিহাদ ওরফে রাজা, ভুয়া রসায়নবিদ সৈয়দ মুস্তাকিন ওরফে অহিদুজ্জামান ও মতিন মোল্লা ওরফে মোল্ল্যা আতিক।

গত শুক্রবার থেকে উত্তরা, সাভার এবং মানিকগঞ্জে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, এক আনা, দুই আনা এবং বিভিন্ন প্রতিকৃতি খচিত ৪২টি ধাতব মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে।ডিবির গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান বলেন, বিভিন্ন ভাঙারি দোকান থেকে চোরাই তামার তার সংগ্রহ করে গলিয়ে বিভিন্ন কয়েন বানিয়ে গুলিস্তানের টাকা বদল ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন।

৩৫ টাকায় কেনা ঐ কয়েন গুলিস্তানের টাকা বদল ব্যবসায়ীদের কাছে। ৩৫ টাকায় কেনা ওই কয়েন গুলিস্তানের ব্যবসায়ীরা বিক্রি করেন ৭০-৮০ টাকায়। গ্রেপ্তারকৃত চক্রটি গুলিস্তান থেকে ওই কয়েন সংগ্রহ করতো। তারপর লোভী বিত্তশালী লোকদের টার্গেট করে স্বজনদের মাধ্যমে প্রলোভনে ফেলা হয়। একপর্যায়ে বিদেশী বায়ার, দালাল ও রসায়নবিদ মিলে পাঁচ তারকা হোটেলে দেন দরবার বসানো হয়।

রসায়নবিদ ম্যাগনিফায়িং গ্যাস দিয়ে কয়েনটি পরীক্ষা করেন। সাজানো পরীক্ষায় রসায়নবিদ ৪ ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করেন জানান, কয়েনটি ৪০০ বছরের পুরনো প্রত্নতত্ত্ব ম্যাগনেটিক কয়েন। যার মূল্য ৫ কোটি টাকা। তখন বিদেশি বায়ার সাজা প্রতারক কয়েনটি কেনার জন্য ছটফট করতে থাকেন।

মশিউর রহমান আরো বলেন, বিদেশী বায়ারের কাছে মুদ্রা বিক্রি করে তারা দামের দিক দিয়ে ঠকতে পারে। তাই কয়েনটি বাংলাদেশী বিত্তশালী ব্যক্তির মাধ্যমে বিদেশী বায়ারের কাছে বিক্রীর অনুরোধ করে।

ঠিক এসময় প্রতারক বায়ার বলতে থাকে, তার কাছে নির্ধারিত মূল্যের অর্ধেক টাকা আছে। এসময়, প্রতারকরা বাংলাদেশী বিত্তশালী ব্যক্তিকে অনুরোধ করে, কয়েনটি রেখে ওই অর্ধেক টাকা দিয়ে দিতে। বিদেশী বায়ার তার (বিত্তশালীর) টাকা পরিশোধ করে কয়েন নিয়ে যাবে। সরল বিশ্বাসে অর্ধেক টাকা দেয়ার পর প্রতারকরা নিরুদ্দেশ হয়ে যেত।

ডিবি কর্মকর্তা বলেন, উত্তরা পশ্চিম থানায় রুজু হওয়া একটি মামলার সূত্র ধরে এ চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে কমপক্ষে ৬ জন বিত্তশালীকে তারা এই প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছে এবং প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 08:49 am, Sunday, 16 January 2022
36 Time View

চোরাই তামার তারে কোটি টাকার ম্যাগনেটিক কয়েন!

Update Time : 08:49 am, Sunday, 16 January 2022

স্টাফ রিপোর্টার:- চোরাই তামার তার গলিয়ে তৈরি করা হতো বিভিন্ন আকৃতির ধাতব মুদ্রা। পরে সেগুলোকে ৫ কোটি টাকা মূল্যের দুর্লভ ম্যাগনেটিক কয়েন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ বলে দাবি করা হতো। এরপর লোভের ফাঁদে পা দেওয়া বিত্তশালী ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে পাঁচ তারকা কোনো হোটেলে চলত বিক্রির দেন দরবার। এ সময় কয়েনটি পরীক্ষা করে ৪০০ বছর আগের প্রত্নতাত্ত্বিক বস্তু হিসেবে নিশ্চিত করত চক্রের সদস্য ভুয়া রসায়নবিদ।

চক্রটির সদস্যরা এভাবে নিজেদের লোকদের বিক্রেতা ও দালাল সাজিয়ে এমন পরিবেশ তৈরি করত যে, ম্যাগনেটিক হওয়ায় কয়েনটির অনেক চাহিদা রয়েছে।

পরে কৌশলে বিত্তশালী ব্যক্তির মাধ্যমে কয়েনটি বিদেশি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রির ফাঁদ পেতে হাতিয়ে নেয়া হতো কোটি কোটি টাকা।

এমনই এক চক্রের ভুয়া রসায়নবিদসহ চার সদস্যকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের গুলশান বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো সাইফুল ইসলাম ওরফে বিষ্ণু মালো ওরফে শঙ্কর মালো ওরফে শংকর ওরফে স্বপন, সাইদুল ইসলাম জিহাদ ওরফে রাজা, ভুয়া রসায়নবিদ সৈয়দ মুস্তাকিন ওরফে অহিদুজ্জামান ও মতিন মোল্লা ওরফে মোল্ল্যা আতিক।

গত শুক্রবার থেকে উত্তরা, সাভার এবং মানিকগঞ্জে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, এক আনা, দুই আনা এবং বিভিন্ন প্রতিকৃতি খচিত ৪২টি ধাতব মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে।ডিবির গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান বলেন, বিভিন্ন ভাঙারি দোকান থেকে চোরাই তামার তার সংগ্রহ করে গলিয়ে বিভিন্ন কয়েন বানিয়ে গুলিস্তানের টাকা বদল ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন।

৩৫ টাকায় কেনা ঐ কয়েন গুলিস্তানের টাকা বদল ব্যবসায়ীদের কাছে। ৩৫ টাকায় কেনা ওই কয়েন গুলিস্তানের ব্যবসায়ীরা বিক্রি করেন ৭০-৮০ টাকায়। গ্রেপ্তারকৃত চক্রটি গুলিস্তান থেকে ওই কয়েন সংগ্রহ করতো। তারপর লোভী বিত্তশালী লোকদের টার্গেট করে স্বজনদের মাধ্যমে প্রলোভনে ফেলা হয়। একপর্যায়ে বিদেশী বায়ার, দালাল ও রসায়নবিদ মিলে পাঁচ তারকা হোটেলে দেন দরবার বসানো হয়।

রসায়নবিদ ম্যাগনিফায়িং গ্যাস দিয়ে কয়েনটি পরীক্ষা করেন। সাজানো পরীক্ষায় রসায়নবিদ ৪ ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করেন জানান, কয়েনটি ৪০০ বছরের পুরনো প্রত্নতত্ত্ব ম্যাগনেটিক কয়েন। যার মূল্য ৫ কোটি টাকা। তখন বিদেশি বায়ার সাজা প্রতারক কয়েনটি কেনার জন্য ছটফট করতে থাকেন।

মশিউর রহমান আরো বলেন, বিদেশী বায়ারের কাছে মুদ্রা বিক্রি করে তারা দামের দিক দিয়ে ঠকতে পারে। তাই কয়েনটি বাংলাদেশী বিত্তশালী ব্যক্তির মাধ্যমে বিদেশী বায়ারের কাছে বিক্রীর অনুরোধ করে।

ঠিক এসময় প্রতারক বায়ার বলতে থাকে, তার কাছে নির্ধারিত মূল্যের অর্ধেক টাকা আছে। এসময়, প্রতারকরা বাংলাদেশী বিত্তশালী ব্যক্তিকে অনুরোধ করে, কয়েনটি রেখে ওই অর্ধেক টাকা দিয়ে দিতে। বিদেশী বায়ার তার (বিত্তশালীর) টাকা পরিশোধ করে কয়েন নিয়ে যাবে। সরল বিশ্বাসে অর্ধেক টাকা দেয়ার পর প্রতারকরা নিরুদ্দেশ হয়ে যেত।

ডিবি কর্মকর্তা বলেন, উত্তরা পশ্চিম থানায় রুজু হওয়া একটি মামলার সূত্র ধরে এ চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে কমপক্ষে ৬ জন বিত্তশালীকে তারা এই প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছে এবং প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে।