Jashore , Tuesday, 27 October 2026
সর্বশেষ:
যশোরে গণঅধিকার পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন যশোরে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ সফল করতে এনসিপির লিফলেট বিতরণ আইডিইএক্স ২০২৭-এ অংশ নিতে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ শার্শায় ৩০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার যশোরে ২৪ লাখ টাকার স্বর্ণের বারসহ আটক ১ খুলনায় আতঙ্কের নাম ‘বি কোম্পানি’: আড়ালে সন্ত্রাসী তাণ্ডব ও রাজনৈতিক ছত্রছায়া যশোরে সড়ক দূর্ঘটনায় মা ও শিশু নিহত; আহত বাবা চুরির অপবাদে কিশোর স্বাধীনকে হত্যা: বিচারের দাবিতে মায়ের সংবাদ সম্মেলন ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ সফল করতে যশোরে এনসিপির লিফলেট বিতরণ চার দিনের সরকারি সফরে জাপানের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

টাকার অভাবে ছোট ভাইয়ের মরদেহ কোলে নিয়ে গেলেন বড় ভাই

বাপ্পি বিশ্বাস (ভারত) সংবাদদাতা :- গাড়িচাপায় মৃত্যু হয় ছোট ভাইয়ের। ২ বছরের শিশুটির ময়নাতদন্ত হয় হাসপাতালে। মরদেহ নিয়ে যাওয়ার মত অর্থ ছিলো না ১০ বছরের বড় ভাইয়ের। তাই উপায় না দেখে ছোট ভাইয়ের মরেদেহ কোলে নিয়ে যাত্রা শুরু করে বড় ভাই

শনিবার (২৭ আগস্ট) ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের বাগপতের জেলা হাসপাতালে।ইন্ডিয়া টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গাড়ির নিচে পিষ্ট হয়ে মৃত্যুর পর গত শনিবার উত্তরপ্রদেশের বাগপতের জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হয় কালা নামে ২ বছর বয়সী ওই শিশুটির।

ময়নাতদন্তের পরে মরদেহ বাড়ি নেয়ার জন্য বহু অনুরোধ করেও কোনো গাড়ির ব্যবস্থা করতে পারেনি মৃতের পরিবার।বাধ্য হয়ে কালার মরদেহ হাতে তুলে হাঁটতে শুরু করে তার ১০ বছর বয়সী বড়ভাই। পেছনে হাঁটছিলেন তার বাবাও।

একপর্যায়ে স্থানীয়রা ভিডিও করা শুরু করলে এবং কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করা হলে তাদেরকে একটি গাড়ির ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। মরদেহ কোলে নিয়ে হাঁটার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত শিশু কালার বাবার নাম প্রবীণ কুমার।

তিনি বাগপতের একজন দিনমজুর। বাগপতের জেলা হাসপাতাল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে শামলি জেলার লিলনখেডিতে নিজেদের পারিবারিক গ্রামে যাওয়ার জন্যই তারা একটি গাড়ি খুঁজছিলেন। তবে সেটি ভাড়া করার জন্য এক হাজার রুপির প্রয়োজন ছিল, যা প্রবীণ কুমারের কাছে ছিল না।

যে কিশোরটি নিজের কোলে সাদা কাপড়ে মোড়া শিশুটিকে নিয়ে হাঁটছিল সেই শিশুটি তার ভাই। বয়স মাত্র দু’বছর। শিশুটি কান্না করায় সৎ মা তাকে রাস্তায় চলন্ত গাড়ির নিচে ছুঁড়ে ফেলেন। এতে চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় শিশুটির। খবর পেয়ে পুলিশ এসে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে বাগপত হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

ছেলের মৃত্যুতে শোকে পাথর প্রবীণ কুমার তার বছর দশেকের ছেলে সাগরকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সন্তানের ময়নাতদন্ত হওয়ার পর মরদেহ তুলে দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।গাড়ি ভাড়ার টাকা না থাকায় বাধ্য হয়েই সন্তানের মরদেহ নিয়ে বাড়ির পথে হাঁটতে শুরু করেন তারা।

কিছু দূর যাওয়ার পর সন্তানের দেহ ছেলে সাগরের কোলে তুলে দেন প্রবীণ। এক কিশোরকে শিশুর মরদেহ কোলে নিয়ে হাঁটতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। হাসপাতালের সাথে যোগাযোগ করা হয়। এরপরই গাড়ির ব্যবস্থা হয়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 11:33 am, Tuesday, 30 August 2022
21 Time View

টাকার অভাবে ছোট ভাইয়ের মরদেহ কোলে নিয়ে গেলেন বড় ভাই

Update Time : 11:33 am, Tuesday, 30 August 2022

বাপ্পি বিশ্বাস (ভারত) সংবাদদাতা :- গাড়িচাপায় মৃত্যু হয় ছোট ভাইয়ের। ২ বছরের শিশুটির ময়নাতদন্ত হয় হাসপাতালে। মরদেহ নিয়ে যাওয়ার মত অর্থ ছিলো না ১০ বছরের বড় ভাইয়ের। তাই উপায় না দেখে ছোট ভাইয়ের মরেদেহ কোলে নিয়ে যাত্রা শুরু করে বড় ভাই

শনিবার (২৭ আগস্ট) ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের বাগপতের জেলা হাসপাতালে।ইন্ডিয়া টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গাড়ির নিচে পিষ্ট হয়ে মৃত্যুর পর গত শনিবার উত্তরপ্রদেশের বাগপতের জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হয় কালা নামে ২ বছর বয়সী ওই শিশুটির।

ময়নাতদন্তের পরে মরদেহ বাড়ি নেয়ার জন্য বহু অনুরোধ করেও কোনো গাড়ির ব্যবস্থা করতে পারেনি মৃতের পরিবার।বাধ্য হয়ে কালার মরদেহ হাতে তুলে হাঁটতে শুরু করে তার ১০ বছর বয়সী বড়ভাই। পেছনে হাঁটছিলেন তার বাবাও।

একপর্যায়ে স্থানীয়রা ভিডিও করা শুরু করলে এবং কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করা হলে তাদেরকে একটি গাড়ির ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। মরদেহ কোলে নিয়ে হাঁটার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত শিশু কালার বাবার নাম প্রবীণ কুমার।

তিনি বাগপতের একজন দিনমজুর। বাগপতের জেলা হাসপাতাল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে শামলি জেলার লিলনখেডিতে নিজেদের পারিবারিক গ্রামে যাওয়ার জন্যই তারা একটি গাড়ি খুঁজছিলেন। তবে সেটি ভাড়া করার জন্য এক হাজার রুপির প্রয়োজন ছিল, যা প্রবীণ কুমারের কাছে ছিল না।

যে কিশোরটি নিজের কোলে সাদা কাপড়ে মোড়া শিশুটিকে নিয়ে হাঁটছিল সেই শিশুটি তার ভাই। বয়স মাত্র দু’বছর। শিশুটি কান্না করায় সৎ মা তাকে রাস্তায় চলন্ত গাড়ির নিচে ছুঁড়ে ফেলেন। এতে চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় শিশুটির। খবর পেয়ে পুলিশ এসে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে বাগপত হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

ছেলের মৃত্যুতে শোকে পাথর প্রবীণ কুমার তার বছর দশেকের ছেলে সাগরকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সন্তানের ময়নাতদন্ত হওয়ার পর মরদেহ তুলে দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।গাড়ি ভাড়ার টাকা না থাকায় বাধ্য হয়েই সন্তানের মরদেহ নিয়ে বাড়ির পথে হাঁটতে শুরু করেন তারা।

কিছু দূর যাওয়ার পর সন্তানের দেহ ছেলে সাগরের কোলে তুলে দেন প্রবীণ। এক কিশোরকে শিশুর মরদেহ কোলে নিয়ে হাঁটতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। হাসপাতালের সাথে যোগাযোগ করা হয়। এরপরই গাড়ির ব্যবস্থা হয়।