Jashore , Friday, 23 October 2026
সর্বশেষ:
যশোরে জাতীয় পার্টির বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ যশোরে ইয়াবাসহ ‘আইনজীবী সহকারী’ ও আলোচিত লাবনী গ্রেপ্তার যশোরে সার ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে হাটসভা জাতীয় নাগরিক পার্টির পুনর্গঠিত কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ, সদস্যসচিব আখতার মণিরামপুরে পাঁচ শহীদ বিপ্লবীর ৫৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত যশোর জেনারেল হাসপাতালে ৪০ লাখ টাকার চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণ বিশ্ব পোলিও দিবস উপলক্ষে যশোরে রোটারির সচেতনতামূলক র‍্যালি কাল যশোরে ঢাক-কাঁসরের শব্দে প্রতিমা বিসর্জন রংপুর মেডিকেলে শর্টসার্কিট থেকে আগুন; আহত ৪০ হেফাজতে ইসলামের মধ্যস্থতায় ৭ কওমি দলের নতুন রাজনৈতিক জোট ‘সমমনা ইসলামি দল’

কুষ্টিয়া দৌলতপুর শেরপুর মাঠ নামক স্থানে ৭১ সালের ২৬ নভেম্বর কুষ্টিয়ায় সর্ববৃহৎ গেরিলা যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল

কুষ্টিয়া দৌলতপুর প্রতিনিধি:- ৭১ সালের ২৬ নভেম্বর কুষ্টিয়ায় সর্ববৃহৎ গেরিলা যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল । বর্তমান দৌলতপুর উপজেলার শেরপুর মাঠ নামক স্থানে।

এ যুদ্ধে নের্তৃত্ব দেন তৎকালীন কুষ্টিয়া ই-আর্ট এর গ্রুফ কমান্ডার, মিরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সাবেক কমান্ডার ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কুষ্টিয়া জেলা ইউনিট কমান্ডের সহকারী ইউনিট কমান্ডার আফতাব উদ্দিন খান।

২৫ নভেম্বর রাতে আফতাব উদ্দিন ও তার সহযোগীরা প্রায় একশ সুসজ্জিত মুক্তিযোদ্ধা একটি গেরিলা দল নিয়ে শেরপুর সংলগ্ন সেন পাড়ায় অবস্থান করে।

পাক হানাদার বাহিনীরা সংবাদটি তাদের দোসরদের মাধ্যমে পেয়ে যায় এবং অত্যন্ত পরিকল্পিত ভাবে ওই এলাকার কাছে দেড় শ’ জনের সুসজ্জিত একটা দল নিয়ে ২৫ নভেম্বর মধ্য রাতে শেরপুরের নিরীহ গ্রামবাসীর ঘরে আগুন ধরিয়ে বেপরোয়া ভাবে গুলিবর্ষণ শুরু করে।

মুক্তি বাহিনী পাক হানাদারদের উপস্থিতি ও অবস্থান জানতে পেরে বর্তমান মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া এবং দৌলতপুর উপজেলার শেরপুরের মধ্যবর্তী স্থানে সাগরখালী নদীর তীরে তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করে এবং রাত অনুমান তিনটার দিকে মুক্তি বাহিনী পাক বাহিনীকে মোকাবিলা করার জন্য ক্রমান্বয়ে অগ্রসর হতে থাকে। ২৬ নভেম্বর ভোর ৫টায় উভয়পক্ষ পরস্পরের মুখোমুখী হয়। ৬ ঘন্টা তুমুল যুদ্ধের পর পাক হানাদার বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং ৬০ জন পাক সৈন্য নিহত হয়।

এ যুদ্ধে শেরপুর গ্রামের হাজী মেহের আলীর ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান হাবিব শহীদ হন। একই গ্রামে হীরা ও আজিজুল নামে দু’জন মুক্তিযোদ্ধা গুরুত্বর জখম হন। এছাড়াও ওই যুদ্ধের কমান্ডার আফতাব উদ্দিন খান, মইন উদ্দিন, আবদুল জব্বার, হায়দার আলী সহ ২০জন মুক্তিযোদ্ধা আহত হন।

কুষ্টিয়া জেলায় সংঘটিত সর্ববৃহৎ এই গেরিলা যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর পরাজয় এবং ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির কারণে দৌলতপুর ও মিরপুর থানার একটা বিরাট এলাকা মুক্তি বাহিনীর অবস্থান আরো সুদৃঢ় হয় এবং পাহাড়পুর গ্রামে একটি শক্তিশালী মুক্তি বাহিনীর ঘাঁটি স্থাপন করা সম্ভব হয়।

এ যুদ্ধের পরই দৌলতপুর ও মিরপুর উপজেলায় পাক বাহিনীর ভীত নড়বড়ে হয়ে পড়ে। এবং এই এলাকা শত্রুমুক্ত হবার পথে আরো একধাপ এগিয়ে যায়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 03:48 pm, Thursday, 26 November 2020
26 Time View

কুষ্টিয়া দৌলতপুর শেরপুর মাঠ নামক স্থানে ৭১ সালের ২৬ নভেম্বর কুষ্টিয়ায় সর্ববৃহৎ গেরিলা যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল

Update Time : 03:48 pm, Thursday, 26 November 2020

কুষ্টিয়া দৌলতপুর প্রতিনিধি:- ৭১ সালের ২৬ নভেম্বর কুষ্টিয়ায় সর্ববৃহৎ গেরিলা যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল । বর্তমান দৌলতপুর উপজেলার শেরপুর মাঠ নামক স্থানে।

এ যুদ্ধে নের্তৃত্ব দেন তৎকালীন কুষ্টিয়া ই-আর্ট এর গ্রুফ কমান্ডার, মিরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সাবেক কমান্ডার ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কুষ্টিয়া জেলা ইউনিট কমান্ডের সহকারী ইউনিট কমান্ডার আফতাব উদ্দিন খান।

২৫ নভেম্বর রাতে আফতাব উদ্দিন ও তার সহযোগীরা প্রায় একশ সুসজ্জিত মুক্তিযোদ্ধা একটি গেরিলা দল নিয়ে শেরপুর সংলগ্ন সেন পাড়ায় অবস্থান করে।

পাক হানাদার বাহিনীরা সংবাদটি তাদের দোসরদের মাধ্যমে পেয়ে যায় এবং অত্যন্ত পরিকল্পিত ভাবে ওই এলাকার কাছে দেড় শ’ জনের সুসজ্জিত একটা দল নিয়ে ২৫ নভেম্বর মধ্য রাতে শেরপুরের নিরীহ গ্রামবাসীর ঘরে আগুন ধরিয়ে বেপরোয়া ভাবে গুলিবর্ষণ শুরু করে।

মুক্তি বাহিনী পাক হানাদারদের উপস্থিতি ও অবস্থান জানতে পেরে বর্তমান মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া এবং দৌলতপুর উপজেলার শেরপুরের মধ্যবর্তী স্থানে সাগরখালী নদীর তীরে তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করে এবং রাত অনুমান তিনটার দিকে মুক্তি বাহিনী পাক বাহিনীকে মোকাবিলা করার জন্য ক্রমান্বয়ে অগ্রসর হতে থাকে। ২৬ নভেম্বর ভোর ৫টায় উভয়পক্ষ পরস্পরের মুখোমুখী হয়। ৬ ঘন্টা তুমুল যুদ্ধের পর পাক হানাদার বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং ৬০ জন পাক সৈন্য নিহত হয়।

এ যুদ্ধে শেরপুর গ্রামের হাজী মেহের আলীর ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান হাবিব শহীদ হন। একই গ্রামে হীরা ও আজিজুল নামে দু’জন মুক্তিযোদ্ধা গুরুত্বর জখম হন। এছাড়াও ওই যুদ্ধের কমান্ডার আফতাব উদ্দিন খান, মইন উদ্দিন, আবদুল জব্বার, হায়দার আলী সহ ২০জন মুক্তিযোদ্ধা আহত হন।

কুষ্টিয়া জেলায় সংঘটিত সর্ববৃহৎ এই গেরিলা যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর পরাজয় এবং ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির কারণে দৌলতপুর ও মিরপুর থানার একটা বিরাট এলাকা মুক্তি বাহিনীর অবস্থান আরো সুদৃঢ় হয় এবং পাহাড়পুর গ্রামে একটি শক্তিশালী মুক্তি বাহিনীর ঘাঁটি স্থাপন করা সম্ভব হয়।

এ যুদ্ধের পরই দৌলতপুর ও মিরপুর উপজেলায় পাক বাহিনীর ভীত নড়বড়ে হয়ে পড়ে। এবং এই এলাকা শত্রুমুক্ত হবার পথে আরো একধাপ এগিয়ে যায়।