Jashore , Monday, 26 October 2026
সর্বশেষ:
খুলনায় আতঙ্কের নাম ‘বি কোম্পানি’: আড়ালে সন্ত্রাসী তাণ্ডব ও রাজনৈতিক ছত্রছায়া যশোরে সড়ক দূর্ঘটনায় মা ও শিশু নিহত; আহত বাবা চুরির অপবাদে কিশোর স্বাধীনকে হত্যা: বিচারের দাবিতে মায়ের সংবাদ সম্মেলন ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ সফল করতে যশোরে এনসিপির লিফলেট বিতরণ চার দিনের সরকারি সফরে জাপানের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাস পর খুলছে সেন্টমার্টিন: পর্যটকদের জন্য নতুন নিয়ম ও শত টাকা ফি নির্ধারণ যশোরে অনুমতি ছাড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছের ডাল কেটে বিক্রির অভিযোগ বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক ও ভারতীয় মালামাল আটক দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ন্যানো-ইউরিয়ার পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবির গবেষক ড. জাভেদ যশোরে কলিমুদ্দিন সরদার ট্রাস্টের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাক্যাম্প অনুষ্ঠিত

খুলনায় আতঙ্কের নাম ‘বি কোম্পানি’: আড়ালে সন্ত্রাসী তাণ্ডব ও রাজনৈতিক ছত্রছায়া

বিশেষ প্রতিনিধি
ভারতের আন্ডারওয়ার্ল্ডের কুখ্যাত ‘ডি কোম্পানি’র আদলে খুলনায় গড়ে উঠেছে এক নতুন সন্ত্রাসী সাম্রাজ্য, যা স্থানীয়ভাবে ‘বি কোম্পানি’ নামে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় মানুষের মুখে একে ভুলবশত ‘ডি কোম্পানি’ বলা হলেও, অনুসন্ধানে জানা গেছে এটি খুলনার একটি কুখ্যাত কিশোর গ্যাং ও সংগঠিত অপরাধী চক্র। গত কয়েক বছর ধরে খুলনা মহানগরী ও এর আশপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক ও তাণ্ডব চালিয়ে আসছে এই বাহিনীর সদস্যরা।

অনুসন্ধান ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রটি সব সময়ই প্রভাবশালী রাজনৈতিক আশ্রয়ে নিজেদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। সরকার বা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও চক্রটি নতুন কোনো ছায়াতলে এসে নিজেদের অপরাধের ধারা বজায় রাখে। গ্যাংটির অন্যতম শীর্ষ নিয়ন্ত্রক হিসেবে ‘গ্রেনেড বাবু’ নামের এক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, যার নেতৃত্বে পুরো শহরে অস্ত্র ও মাদকের সিন্ডিকেট পরিচালিত হয়।

খুলনা শহর ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে এই বি কোম্পানি। তাদের প্রধান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে-স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাড়ির মালিক ও জমি ক্রয়-বিক্রেতাদের কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে চাঁদা আদায় এবং জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। খুলনা মহানগরীতে অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ধরনের মাদকের বিস্তার ঘটাতে এই চক্রটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা-পয়সা ও জিনিসপত্র ছিনতাই করা তাদের নিয়মিত তাণ্ডবের অংশ।

‘বি কোম্পানি’র তাণ্ডব ও অপরাধের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় অভিযানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ এবং র‍্যাব যৌথভাবে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।

ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও মাদকসহ এই বাহিনীর অন্যতম সক্রিয় সদস্য দিনু, হাসিব, আবুজর ও রাসেলসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

খুলনা ডিবি ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—খুলনা শহরে কোনো সন্ত্রাসী গ্যাং বা চক্রের ঠাঁই হবে না। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : One minute ago
1 Time View

খুলনায় আতঙ্কের নাম ‘বি কোম্পানি’: আড়ালে সন্ত্রাসী তাণ্ডব ও রাজনৈতিক ছত্রছায়া

Update Time : One minute ago

বিশেষ প্রতিনিধি
ভারতের আন্ডারওয়ার্ল্ডের কুখ্যাত ‘ডি কোম্পানি’র আদলে খুলনায় গড়ে উঠেছে এক নতুন সন্ত্রাসী সাম্রাজ্য, যা স্থানীয়ভাবে ‘বি কোম্পানি’ নামে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় মানুষের মুখে একে ভুলবশত ‘ডি কোম্পানি’ বলা হলেও, অনুসন্ধানে জানা গেছে এটি খুলনার একটি কুখ্যাত কিশোর গ্যাং ও সংগঠিত অপরাধী চক্র। গত কয়েক বছর ধরে খুলনা মহানগরী ও এর আশপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক ও তাণ্ডব চালিয়ে আসছে এই বাহিনীর সদস্যরা।

অনুসন্ধান ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রটি সব সময়ই প্রভাবশালী রাজনৈতিক আশ্রয়ে নিজেদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। সরকার বা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও চক্রটি নতুন কোনো ছায়াতলে এসে নিজেদের অপরাধের ধারা বজায় রাখে। গ্যাংটির অন্যতম শীর্ষ নিয়ন্ত্রক হিসেবে ‘গ্রেনেড বাবু’ নামের এক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, যার নেতৃত্বে পুরো শহরে অস্ত্র ও মাদকের সিন্ডিকেট পরিচালিত হয়।

খুলনা শহর ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে এই বি কোম্পানি। তাদের প্রধান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে-স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাড়ির মালিক ও জমি ক্রয়-বিক্রেতাদের কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে চাঁদা আদায় এবং জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। খুলনা মহানগরীতে অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ধরনের মাদকের বিস্তার ঘটাতে এই চক্রটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা-পয়সা ও জিনিসপত্র ছিনতাই করা তাদের নিয়মিত তাণ্ডবের অংশ।

‘বি কোম্পানি’র তাণ্ডব ও অপরাধের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় অভিযানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ এবং র‍্যাব যৌথভাবে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।

ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও মাদকসহ এই বাহিনীর অন্যতম সক্রিয় সদস্য দিনু, হাসিব, আবুজর ও রাসেলসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

খুলনা ডিবি ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—খুলনা শহরে কোনো সন্ত্রাসী গ্যাং বা চক্রের ঠাঁই হবে না। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।