Jashore , Friday, 23 October 2026
সর্বশেষ:
জাতীয় নাগরিক পার্টির পুনর্গঠিত কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ, সদস্যসচিব আখতার মণিরামপুরে পাঁচ শহীদ বিপ্লবীর ৫৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত যশোর জেনারেল হাসপাতালে ৪০ লাখ টাকার চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণ বিশ্ব পোলিও দিবস উপলক্ষে যশোরে রোটারির সচেতনতামূলক র‍্যালি কাল যশোরে ঢাক-কাঁসরের শব্দে প্রতিমা বিসর্জন রংপুর মেডিকেলে শর্টসার্কিট থেকে আগুন; আহত ৪০ হেফাজতে ইসলামের মধ্যস্থতায় ৭ কওমি দলের নতুন রাজনৈতিক জোট ‘সমমনা ইসলামি দল’ সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগে সিপিবির বিক্ষোভ সাত দশকের ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’! কোটি টাকার মাছ কেনাবেচার উৎসব যশোরে সার ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ বিরোধী দলের ৫ এমপির

২০২০ সালে নানা আলোচিত অপরাধ ফলোআপ

নিজস্ব প্রতিবেদন:- কক্সবাজার মেজর অবসরপ্রাপ্ত সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যা। আলোচনা পুরো দেশে।

আরো প্রশ্নবিদ্ধ হয় তথাকথিত ক্রসফায়ারের নামে হত্যাকাণ্ড। নড়ে চড়ে বসে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। বছর জুড়ে আলোচনায় ছিল ধর্ষণের নানা ঘটনা।

পাপিয়া, শাহেদ, ডা. সাবরিনা, গোল্ডনে মনির ও এমপি পাপুল গণমাধ্যমের অনেকটা জায়গা জুড়ে ছিল। বছর শুরুর দিকে ২২শে ফেব্রুয়ারি পাঁচতারকা হোটেল ওয়েস্টিন থেকে মদ ও অস্ত্রসহ আটক হন যুবলীগ নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়া।

যা ছিল টক অব দ্যা কান্ট্রি। পাপিয়ার গ্রেপ্তারে বড় বার্তা দেয় সরকারি দলের সহযোগী সংগঠনগুলোকে। রাজনৈতিক দলের পদ বাণিজ্যের অভিযোগের কিছু সত্যতা মিলে পাপিয়া গ্রেপ্তারে।করোনা মোকাবেলায় আলোচনায় ছিল রিজেন্ট হাসপাতাল ও এর চেয়ারম্যান সাহেদের প্রতারণার নানান দিক।

গ্রেপ্তারের পর আবারো আলোচনায় আসে তার রাজনৈতিক পরিচয়।করোনা পরীক্ষার নামে প্রতারণা করে আলোচনায় আসেন জে-কে-জি হেল্থকেয়ারের ডা. সাবরিনা। সরকারি চিকিৎসক হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে ঠিকাদারি নেন। আর পরীক্ষা না করেই ঘরেবসে ফলাফল তৈরি করেন।

অবশেষে গ্রেপ্তার। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতাকারীরা ধরা ছোয়ার বাইরে।৩১শে জুলাই কক্সবাজারের টেকনাফে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদকে গুলি করে হত্যা করে বন্ধুকযুদ্ধ বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা। এখন ওসিসহ পুলিশ সদস্যরা কাঠগড়ায়। ভাবমুর্তি সংকটে পড়ে পুলিশ।

অক্টোবরে দিনজপুরের ঘোড়াঘাটে বাসভবনে ঢুকে ইউএনও ওয়াহিদা আক্তারকে হত্যাচেষ্টা। আলোচনায় ছিল প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তার ঘরেও পাওয়া যায় ৪০ লাখ টাকা। সেটার উৎস নিয়ে আর আলোচনা নেই।পুরো সেপ্টেম্বর জুড়ে আলোচনায় ধর্ষণ। নোয়াখালির বেগমগঞ্জে গৃহবধুকে নির্যাতন, পরে ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ।

সেই গৃহবধুর আর্তনাদ নাড়িয়ে দেয় প্রশাসনকে। ধরা পড়ে প্রধান নির্যাতনকারি। এখানেও উঠে আসে তার রাজনৈতিক পরিচয়।২৫শে সেপ্টেম্বর সিলেটে স্বামীর সাথে বেড়াতে গিয়ে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণের শিকার গৃহবধু। অভিযোগ ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে। একের পর এক ধর্ষণের ঘটনায় উত্তপ্ত রাজপথ।

দাবি উঠে আইন সংশোধনের। অবশেষ ধর্ষণের সাজা যাবজ্জীবন থেকে হয মৃত্যুদণ্ড।আক্টোবরে আলোচনায় আসেন এস আই আকবর। টাকা চেয়ে না পেয়ে নির্যাতন করে মেরে ফেলেন সিলেটের রায়হানকে। প্রতিবাদের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। আকবরও গ্রেপ্তার হন।

আক্টোবরের মাসের শেষে সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের পর গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে।বছরের শেষভাগে আলোচনায় নবাবের কথিত বংশধর আর মনির বা গোল্ডেন।তাদের পেছনে ছিল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতা। দুজনই আটক হন।

এছাড়াও বছরের একটা বড় সময় জুড়েই আলোচনায় ছিল বিদেশে অর্থ ও মানব পাচারের ঘটনায় কুয়েতের জেলে থাকা এমপি পাপুলের ঘটনা। আলোচনায় ছিল বিপুল অর্থের মালিক হওয়া তার স্ত্রী ও শ্যালিকাও।বছর শেষে দেখা যায় প্রতিটি চাঞ্চল্যকর ফৌজদারি অপরাধের ঘটনায় অভিযুক্ত আটক হচ্ছে।

কিন্তু বিচারের ধীর গতিতে সাজা নিশ্চিত হচ্ছে না। আর অভিযুক্তদের পৃষ্ঠপোষকতকারিরা যথারীতি ধরাছোয়ার বাইরেই থাকছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 05:05 pm, Monday, 28 December 2020
46 Time View

২০২০ সালে নানা আলোচিত অপরাধ ফলোআপ

Update Time : 05:05 pm, Monday, 28 December 2020

নিজস্ব প্রতিবেদন:- কক্সবাজার মেজর অবসরপ্রাপ্ত সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যা। আলোচনা পুরো দেশে।

আরো প্রশ্নবিদ্ধ হয় তথাকথিত ক্রসফায়ারের নামে হত্যাকাণ্ড। নড়ে চড়ে বসে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। বছর জুড়ে আলোচনায় ছিল ধর্ষণের নানা ঘটনা।

পাপিয়া, শাহেদ, ডা. সাবরিনা, গোল্ডনে মনির ও এমপি পাপুল গণমাধ্যমের অনেকটা জায়গা জুড়ে ছিল। বছর শুরুর দিকে ২২শে ফেব্রুয়ারি পাঁচতারকা হোটেল ওয়েস্টিন থেকে মদ ও অস্ত্রসহ আটক হন যুবলীগ নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়া।

যা ছিল টক অব দ্যা কান্ট্রি। পাপিয়ার গ্রেপ্তারে বড় বার্তা দেয় সরকারি দলের সহযোগী সংগঠনগুলোকে। রাজনৈতিক দলের পদ বাণিজ্যের অভিযোগের কিছু সত্যতা মিলে পাপিয়া গ্রেপ্তারে।করোনা মোকাবেলায় আলোচনায় ছিল রিজেন্ট হাসপাতাল ও এর চেয়ারম্যান সাহেদের প্রতারণার নানান দিক।

গ্রেপ্তারের পর আবারো আলোচনায় আসে তার রাজনৈতিক পরিচয়।করোনা পরীক্ষার নামে প্রতারণা করে আলোচনায় আসেন জে-কে-জি হেল্থকেয়ারের ডা. সাবরিনা। সরকারি চিকিৎসক হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে ঠিকাদারি নেন। আর পরীক্ষা না করেই ঘরেবসে ফলাফল তৈরি করেন।

অবশেষে গ্রেপ্তার। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতাকারীরা ধরা ছোয়ার বাইরে।৩১শে জুলাই কক্সবাজারের টেকনাফে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদকে গুলি করে হত্যা করে বন্ধুকযুদ্ধ বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা। এখন ওসিসহ পুলিশ সদস্যরা কাঠগড়ায়। ভাবমুর্তি সংকটে পড়ে পুলিশ।

অক্টোবরে দিনজপুরের ঘোড়াঘাটে বাসভবনে ঢুকে ইউএনও ওয়াহিদা আক্তারকে হত্যাচেষ্টা। আলোচনায় ছিল প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তার ঘরেও পাওয়া যায় ৪০ লাখ টাকা। সেটার উৎস নিয়ে আর আলোচনা নেই।পুরো সেপ্টেম্বর জুড়ে আলোচনায় ধর্ষণ। নোয়াখালির বেগমগঞ্জে গৃহবধুকে নির্যাতন, পরে ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ।

সেই গৃহবধুর আর্তনাদ নাড়িয়ে দেয় প্রশাসনকে। ধরা পড়ে প্রধান নির্যাতনকারি। এখানেও উঠে আসে তার রাজনৈতিক পরিচয়।২৫শে সেপ্টেম্বর সিলেটে স্বামীর সাথে বেড়াতে গিয়ে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণের শিকার গৃহবধু। অভিযোগ ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে। একের পর এক ধর্ষণের ঘটনায় উত্তপ্ত রাজপথ।

দাবি উঠে আইন সংশোধনের। অবশেষ ধর্ষণের সাজা যাবজ্জীবন থেকে হয মৃত্যুদণ্ড।আক্টোবরে আলোচনায় আসেন এস আই আকবর। টাকা চেয়ে না পেয়ে নির্যাতন করে মেরে ফেলেন সিলেটের রায়হানকে। প্রতিবাদের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। আকবরও গ্রেপ্তার হন।

আক্টোবরের মাসের শেষে সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের পর গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে।বছরের শেষভাগে আলোচনায় নবাবের কথিত বংশধর আর মনির বা গোল্ডেন।তাদের পেছনে ছিল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতা। দুজনই আটক হন।

এছাড়াও বছরের একটা বড় সময় জুড়েই আলোচনায় ছিল বিদেশে অর্থ ও মানব পাচারের ঘটনায় কুয়েতের জেলে থাকা এমপি পাপুলের ঘটনা। আলোচনায় ছিল বিপুল অর্থের মালিক হওয়া তার স্ত্রী ও শ্যালিকাও।বছর শেষে দেখা যায় প্রতিটি চাঞ্চল্যকর ফৌজদারি অপরাধের ঘটনায় অভিযুক্ত আটক হচ্ছে।

কিন্তু বিচারের ধীর গতিতে সাজা নিশ্চিত হচ্ছে না। আর অভিযুক্তদের পৃষ্ঠপোষকতকারিরা যথারীতি ধরাছোয়ার বাইরেই থাকছেন।