বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬
Homeঅপরাধঅনিয়মযশোর বিজিবির সফল অভিযানের অংশ বিশেষ

যশোর বিজিবির সফল অভিযানের অংশ বিশেষ

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

সীমান্ত এলাকায় ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচার প্রতিরোধ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং আসন্ন পহেলা বৈশাখ ও ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে ব্যাপক ও সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন, যশোর থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যশোর রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২টি সেক্টরের অধীনে ৭টি ইউনিটের ১১৬টি বিওপি থেকে প্রতিদিন দিন-রাত মিলিয়ে ৪৬৪টি টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন, অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে তেল মজুদ ও পাচার প্রতিরোধে গৃহীত বিশেষ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বেনাপোল, ভোমরা ও দর্শনা স্থলবন্দর এলাকায় আমদানি-রপ্তানির যানবাহনে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩টি বিশেষ নজরদারি ও তল্লাশি চালানো হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ২২টি তেল পাম্পে নিয়মিত নজরদারি, বিশেষ চেকিং এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবি জানায়, সম্ভাব্য পাচার রুট চিহ্নিত করে ইতোমধ্যে ২৪২৫টি নিয়মিত ও বিশেষ টহল এবং ৯১৩টি বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে ৮৮৪টি জনসচেতনতামূলক সভা ও মতবিনিময় আয়োজন করা হয়েছে।

তেল পাচার প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও শুল্ক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে ৩৩টি টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে অবৈধভাবে মজুদকৃত জ্বালানি তেল জব্দসহ ১ জনকে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ জনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ৬৬টি যৌথ নজরদারি, তল্লাশি ও চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়েছে।

আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার রোধে বিজিবি নজরদারি আরও জোরদার করেছে। অতিরিক্ত টহল, চেকপোস্ট স্থাপন এবং সন্দেহভাজন চলাচল পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনগণের মধ্যে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

চলতি ২০২৬ সালে যশোর রিজিয়ন ৯১ জন আসামিসহ প্রায় ৬১ কোটি ৯৯ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২.৬১৯৬৪ কেজি স্বর্ণ, ১৫৫.৭৬ গ্রাম হিরক, ১০.৫ কেজি রৌপ্য, ৪২টি অস্ত্র ও ১৫২ রাউন্ড গুলি। অন্যদিকে ২০২৫ সালে ৪২০ জন আসামিসহ প্রায় ৩৭৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়, যার মধ্যে ৫৮ কেজি স্বর্ণ, ৫৩ কেজি রৌপ্য, ২৭টি অস্ত্র ও ১৫২ রাউন্ড গুলি উল্লেখযোগ্য।

মাদকবিরোধী অভিযানে ২০২৬ সালে ২৩৬৯ বোতল মদ, ১০০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ, ১২২ কেজি গাঁজা, ২৬,৭৭১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ০.০০২০ গ্রাম হেরোইন এবং ৪১০০ বোতলের বেশি ফেন্সিডিলসহ প্রায় ২২ কোটি ২৩ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে ৩০,৮০০ বোতল মদ, ৩৭ কেজি হেরোইন, ১,৬১,০০০ পিস ইয়াবা, ৪৯,০০০ বোতল ফেন্সিডিল ও ২০০০ কেজির বেশি গাঁজাসহ প্রায় ১৯ কোটি ৫২ লাখ টাকার মাদক জব্দ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিজিবি মহাপরিচালকের ভিশন—‘সীমান্তে নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক’—বাস্তবায়নে বাহিনীর প্রতিটি সদস্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্তে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা অপরিহার্য বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান।

এই বিভাগের আরো খবর

জনপ্রিয়