বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬
Homeজাতীয়তুরস্ক হয়ে ব্রাসেলস যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তুরস্ক হয়ে ব্রাসেলস যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

দুই দিনের সফরে তুরস্ক যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তুরস্কে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠেয় আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে তিনি অংশ নেবেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের  উদ্যোগে আগামী ১৭-১৯ এপ্রিল আন্টালিয়ায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলন শেষ করে ১৯ এপ্রিল বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দফতরে যাবেন। সেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউ’র অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি (পিসিএ) চুক্তি সই অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকবেন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এই সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ূন কবিরও যাচ্ছেন।

মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটি দ্বিতীয় তুরস্ক সফর। এর আগে গত ১৩ মার্চ জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদের নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে তুরস্ক সফরে যান।

আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরাম হচ্ছে কূটনীতিকদের উচ্চ পর্যায়ের একটি সম্মেলন। ২১টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, ৫২টি দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যরা এতে অংশ নেবেন। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি সেতু হিসেবে কাজ করে এই সম্মেলন।

ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন, ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য বাধা এবং বহুপাক্ষিকতার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে বর্তমান বৈশ্বিক ল্যান্ডস্কেপ ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তা দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে এই সম্মেলনে। এই বছরের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘ম্যাপিং-টুমরো, ম্যানেজিং আনসারটেইনিটিস’ পূর্বাভাস এবং সমাধানের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। এই থিমের মাধ্যমে ভবিষ্যতের উন্নয়নে এগিয়ে থাকার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

আগামী ১৭ এপ্রিল এই সম্মেলনের উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেবন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। এরপর প্যানেল আলোচনায় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি এবং রাষ্ট্র প্রধানরা বক্তব্য রাখবেন।

১৯ এপ্রিল সম্মেলন শেষে ব্রাসেলসের উদ্দেশে রওনা হবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি (পিসিএ) স্বাক্ষরের জন্য বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নের লক্ষে অংশীদারত্ব চুক্তি করতে আগ্রহী বাংলাদেশ। পিসিএ সই হলে বাংলাদেশ-ইইউ কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের জন্য আইনি ও রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এটি মানবাধিকার ও সুশাসন থেকে শুরু করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পরিবেশগত টেকসই ও জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি, পরিবহন ও বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন নীতিগত ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে সহায়তা করবে। তাছাড়া বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে পিসিএ সই করা প্রথম দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার সময় এই চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে।

এই পিসিএ চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের  নভেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ এবং ইইউ’র মধ্যে বৈঠকের মাধ্যমে। এরপর থেকে দুই পক্ষ ঢাকা ও ব্রাসেলসে শারীরিক ও ভার্চুয়ালি পাঁচ দফা আলোচনা ও বেশ কয়েকটি কারিগরি বৈঠকে অংশ নেয়। পঞ্চম দফায় বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে আইনি ও বিচার বিভাগীয় সহযোগিতা, মেধাস্বত্ব অধিকার, জ্বালানি সহযোগিতা, মৎস্যচাষ, জলজ চাষ ও মহাসাগর প্রশাসন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, মানবাধিকার, শুল্ক সহযোগিতা ইত্যাদি।

উভয় পক্ষ একটি সর্বাঙ্গীন, ভারসাম্যপূর্ণ এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেয় যা বাংলাদেশ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান অগ্রাধিকারগুলো প্রতিফলিত করে এবং উদীয়মান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে। সফল আলোচনার পর উভয় পক্ষই পিসিএ চুক্তির বিষয়ে সহমত পোষণ করেছে।

এদিকে বুধবার সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। বৈঠকে আসন্ন সফরে পিসিএ চুক্তি সই নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এই বিভাগের আরো খবর

জনপ্রিয়