Jashore , Thursday, 29 October 2026
সর্বশেষ:

ফেডারেল নির্বাচনে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রত্যাশা

আন্তর্জাতিক সংবাদ:- অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২১ মে। নিম্নকক্ষের ১৫১টি এবং সিনেটের ৪০টি আসনে এই নির্বাচন হবে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জরিপে জয়লাভের সম্ভাবনায় শতকরা ১০ ভাগ এগিয়ে আছে দেশটির প্রধান বিরোধীদল লেবার পার্টি।অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী অধিকাংশ বাংলাদেশি এবং অন্যান্য দেশের অভিবাসীদের পছন্দের দল লেবার পার্টি।

তাদের ধারনা লেবার পার্টি ‘অভিবাসীবান্ধব’ রাজনৈতিক সংগঠন। অতীতে যখনই তারা ক্ষমতায় ছিল নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে অভিবাসীদের। বিশেষ করে শরণার্থী ইস্যুতে লেবার পার্টি খুব মানবিক।গত ফেডারেল নির্বাচনে লেবার পার্টি শতকরা ৫৫ ভাগ ভোট পেয়ে লিবারেল পার্টি থেকে এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠন করতে পারেনি। কারণ লিবারেলরা আরও কয়েকটি ছোট দলকে নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে সরকার গঠন করে।

এবারের নির্বাচনে দেশটির প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।অপরপক্ষে বিরোধীদলীয় নেতা অ্যান্থনী আলবানেজি একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষ হিসেবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য।এবারের ফেডারেল নির্বাচনে দেশটির প্রধান ২টি রাজনৈতিক দল থেকে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে।

ধারনা করা হচ্ছে, এ সপ্তাহের মধ্যেই সব রাজনৈতিক দল তাদের প্রার্থীদের চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করবে।আগামী ৯ মে থেকে যেহেতু আগ্রিম ভোট দেয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে, তাই এখন থেকেই অস্ট্রেলিয়াজুড়ে নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষেরাও এখন ভোটের আলোচনায় মুখর। কমিউনিটির বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি ফেডারেল নির্বাচন নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারে কাছে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

গত ফেডারেল নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল লিবারেল পার্টি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন শাহে জামান টিটু। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে তিনি এই নির্বাচনে অংশ নিয়ে ইতিহাসের অংশ হয়ে যান। এবার তিনি নির্বাচন না করলেও লাকেম্বা ব্রাঞ্চের সভাপতি হিসেবে লিবারেল পার্টির পক্ষে কাজ করছেন।টিটু বলেন, ‘অ্যান্থনী আলবানেজির দেশের অর্থনীতি বিষয়ে কোন ধারনা নাই।

বর্তমান বিশ্ব এখন যে জটিল ও রাজনৈতিক মানচিত্রে বিরাজ করছে, তাতে অস্ট্রেলিয়ার মত একটি দেশের ক্ষমতায় আসার জন্য যোগ্য নেতার কোন বিকল্প নেই। সেদিক থেকে অস্ট্রেলিয়ানরা স্কট মরিসনকেই আবার নির্বাচিত করবে।’অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল মতিনের মতে, এই নির্বাচনে ক্ষমতাশীন দল লিবারেল পার্টির সরকারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে করোনা ও বিধ্বংসী বন্যার সংকট মোকাবিলায় অব্যবস্থাপনার বিষয়টি।

এদিকে লেবার পার্টির নেতা অ্যান্থনি আলবানিজ ভোটারদের কাছে একজন সৎ মানুষ হিসেবে পরিচিত। তাই অনেকেই আশা করছেন, এবারের নির্বাচনে লেবার পার্টিই জিতবে।’অস্ট্রেলিয়ায় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি রতন কুণ্ডু মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির নেতা স্কট মরিসন অন্যদের দোষারোপ করেন এবং নিজের ভুল স্বীকার করতে চান না।

বুশফায়ার থেকে শুরু করে কোভিড ভ্যাকসিন রোলআউট পর্যন্ত পর্যাপ্ত দ্রুত পরীক্ষা নিশ্চিত না করতে পারার মতো বিষয়গুলোর কারণে অস্ট্রেলিয়ানদের অনেক ভোগান্তি হয়েছে।রতন কুণ্ডু বলেন, ‘পক্ষান্তরে লেবার নেতা অ্যান্থনী আলবানেজি একজন ব্যক্তিত্ব সচেতন ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতা হিসেবে সমাদৃত। তিনি মেডিকেয়ার সুবিধা বিস্তৃতকরণের মাধ্যমে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাসহ শিশু ও বয়ষ্কদের সেবার খরচ কমানো, আয়কর কমিয়ে মধ্যবিত্তের ঋণের বোঝা লাঘব করা, চাকরির সুযোগবৃদ্ধি সহ অনেক গণমুখী কর্মসূচির ঘোষনা দিয়েছেন।

তাই এবার লেবার পার্টিই ক্ষমতায় আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রকাশিত পত্রিকা ‘স্বাধীন কণ্ঠ’র কর্ণধার কাজী আরমানের বক্তব্য, ‘আমরা এমন একজন নেতা চাই যিনি অস্ট্রেলিয়াকে আরো গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবেন। আশা করছি আগামী নির্বাচনে অস্ট্রেলিয়ার মানুষ তাদের নেতা নির্বাচনে ভুল করবে না।’অস্ট্রেলিয়ায় গত কাউন্সিল নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন পলি ফরহাদ। ফেডারেল নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে।

যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা যেন পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, পেট্রোল ও প্রপার্টির দামের উর্ধ্বগতিসহ আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো মাথায় রাখে। তারা যেন জনগণের জন্য জনগণের বন্ধু হয়ে কাজ করে। এটাই আমার প্রত্যাশা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 04:47 pm, Saturday, 16 April 2022
22 Time View

ফেডারেল নির্বাচনে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রত্যাশা

Update Time : 04:47 pm, Saturday, 16 April 2022

আন্তর্জাতিক সংবাদ:- অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২১ মে। নিম্নকক্ষের ১৫১টি এবং সিনেটের ৪০টি আসনে এই নির্বাচন হবে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জরিপে জয়লাভের সম্ভাবনায় শতকরা ১০ ভাগ এগিয়ে আছে দেশটির প্রধান বিরোধীদল লেবার পার্টি।অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী অধিকাংশ বাংলাদেশি এবং অন্যান্য দেশের অভিবাসীদের পছন্দের দল লেবার পার্টি।

তাদের ধারনা লেবার পার্টি ‘অভিবাসীবান্ধব’ রাজনৈতিক সংগঠন। অতীতে যখনই তারা ক্ষমতায় ছিল নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে অভিবাসীদের। বিশেষ করে শরণার্থী ইস্যুতে লেবার পার্টি খুব মানবিক।গত ফেডারেল নির্বাচনে লেবার পার্টি শতকরা ৫৫ ভাগ ভোট পেয়ে লিবারেল পার্টি থেকে এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠন করতে পারেনি। কারণ লিবারেলরা আরও কয়েকটি ছোট দলকে নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে সরকার গঠন করে।

এবারের নির্বাচনে দেশটির প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।অপরপক্ষে বিরোধীদলীয় নেতা অ্যান্থনী আলবানেজি একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষ হিসেবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য।এবারের ফেডারেল নির্বাচনে দেশটির প্রধান ২টি রাজনৈতিক দল থেকে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে।

ধারনা করা হচ্ছে, এ সপ্তাহের মধ্যেই সব রাজনৈতিক দল তাদের প্রার্থীদের চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করবে।আগামী ৯ মে থেকে যেহেতু আগ্রিম ভোট দেয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে, তাই এখন থেকেই অস্ট্রেলিয়াজুড়ে নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষেরাও এখন ভোটের আলোচনায় মুখর। কমিউনিটির বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি ফেডারেল নির্বাচন নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারে কাছে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

গত ফেডারেল নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল লিবারেল পার্টি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন শাহে জামান টিটু। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে তিনি এই নির্বাচনে অংশ নিয়ে ইতিহাসের অংশ হয়ে যান। এবার তিনি নির্বাচন না করলেও লাকেম্বা ব্রাঞ্চের সভাপতি হিসেবে লিবারেল পার্টির পক্ষে কাজ করছেন।টিটু বলেন, ‘অ্যান্থনী আলবানেজির দেশের অর্থনীতি বিষয়ে কোন ধারনা নাই।

বর্তমান বিশ্ব এখন যে জটিল ও রাজনৈতিক মানচিত্রে বিরাজ করছে, তাতে অস্ট্রেলিয়ার মত একটি দেশের ক্ষমতায় আসার জন্য যোগ্য নেতার কোন বিকল্প নেই। সেদিক থেকে অস্ট্রেলিয়ানরা স্কট মরিসনকেই আবার নির্বাচিত করবে।’অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল মতিনের মতে, এই নির্বাচনে ক্ষমতাশীন দল লিবারেল পার্টির সরকারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে করোনা ও বিধ্বংসী বন্যার সংকট মোকাবিলায় অব্যবস্থাপনার বিষয়টি।

এদিকে লেবার পার্টির নেতা অ্যান্থনি আলবানিজ ভোটারদের কাছে একজন সৎ মানুষ হিসেবে পরিচিত। তাই অনেকেই আশা করছেন, এবারের নির্বাচনে লেবার পার্টিই জিতবে।’অস্ট্রেলিয়ায় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি রতন কুণ্ডু মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির নেতা স্কট মরিসন অন্যদের দোষারোপ করেন এবং নিজের ভুল স্বীকার করতে চান না।

বুশফায়ার থেকে শুরু করে কোভিড ভ্যাকসিন রোলআউট পর্যন্ত পর্যাপ্ত দ্রুত পরীক্ষা নিশ্চিত না করতে পারার মতো বিষয়গুলোর কারণে অস্ট্রেলিয়ানদের অনেক ভোগান্তি হয়েছে।রতন কুণ্ডু বলেন, ‘পক্ষান্তরে লেবার নেতা অ্যান্থনী আলবানেজি একজন ব্যক্তিত্ব সচেতন ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতা হিসেবে সমাদৃত। তিনি মেডিকেয়ার সুবিধা বিস্তৃতকরণের মাধ্যমে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাসহ শিশু ও বয়ষ্কদের সেবার খরচ কমানো, আয়কর কমিয়ে মধ্যবিত্তের ঋণের বোঝা লাঘব করা, চাকরির সুযোগবৃদ্ধি সহ অনেক গণমুখী কর্মসূচির ঘোষনা দিয়েছেন।

তাই এবার লেবার পার্টিই ক্ষমতায় আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রকাশিত পত্রিকা ‘স্বাধীন কণ্ঠ’র কর্ণধার কাজী আরমানের বক্তব্য, ‘আমরা এমন একজন নেতা চাই যিনি অস্ট্রেলিয়াকে আরো গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবেন। আশা করছি আগামী নির্বাচনে অস্ট্রেলিয়ার মানুষ তাদের নেতা নির্বাচনে ভুল করবে না।’অস্ট্রেলিয়ায় গত কাউন্সিল নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন পলি ফরহাদ। ফেডারেল নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে।

যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা যেন পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, পেট্রোল ও প্রপার্টির দামের উর্ধ্বগতিসহ আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো মাথায় রাখে। তারা যেন জনগণের জন্য জনগণের বন্ধু হয়ে কাজ করে। এটাই আমার প্রত্যাশা।