জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এক দফা দাবির হুঁশিয়ারি জামায়াত নেতার
নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারের কাছে উত্থাপিত ১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা এক দফায় রূপ নিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসেন। তিনি বলেছেন, যারা সাত দফার বিরোধিতা করছেন, তারাও কোনো না কোনোভাবে এসব দাবির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আগামী ৩১ অক্টোবর যশোরের ইতিহাসে বড় সমাবেশ হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। এদিন লংমার্চের বহর যশোরে পৌঁছালে রাস্তার দুই পাশে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ দাঁড়িয়ে তা স্বাগত জানাবেন বলে তাঁরা জানতে পারছেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে ৩১ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্য যশোর জেলা আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মোবারক হোসেন বলেন, সাত দফা দাবি জনমানুষের চাহিদা ও দুর্ভোগের ভিত্তিতে উত্থাপন করা হয়েছে। এসব দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই তাঁরা কর্মসূচি পালন করছেন। সাত দফা এক দফায় রূপ নিলে দেশে আবার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে—এমন ধারণা কল্পনাপ্রসূত। তাঁরা জনমানুষের পক্ষে দাবি তুলেছেন এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছেন।
তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়েও মানুষের ভোগান্তি রয়েছে। এসব সংকটের সমাধানে সরকারকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
সরকারের কার্যক্রমের সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, সরকার গত সাত মাসে কী করতে পারত এবং কী করেছে, তা দৃশ্যমান। সরকার চাইলে আরও ভালো কিছু করতে পারত। তবে তাঁরা সরকারকে কাজ করার সুযোগ দিতে চান। সরকারের কাজে বাধা সৃষ্টি করা তাঁদের উদ্দেশ্য নয়; বরং জনস্বার্থে সহযোগিতা করতে চান। কিন্তু মানুষের সমস্যা সমাধানে যথাযথ উদ্যোগ না নেওয়া হলে তাঁরা বিরোধী দল হিসেবে সোচ্চার থাকবেন।
অতীতের রাজনৈতিক নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে মোবারক হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে তাঁদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। কুকুরের মতো পিটিয়ে অত্যাচার-নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁদের সর্বোচ্চ নেতাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এমন পরিস্থিতির পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁদের আঁতাতের প্রশ্নই আসে না বলে মন্তব্য করেন এই জামায়াত নেতা।
আগামী ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, এ কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। যশোরের বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ লংমার্চের বহরকে স্বাগত জানাবেন বলে তাঁরা জানতে পারছেন। যশোরের মানুষ সাত দফা দাবির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
মোবারক হোসেন জানান, ঢাকায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সকাল ৭টায় উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চের কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর বাগেরহাটের কাটাখালী মোড়, খুলনার বাবরি চত্বর, ফুলতলা এবং যশোরের মুড়লিপুরে কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়াতেও বড় সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, লংমার্চের বহর যশোরের মনিহার এলাকা হয়ে অগ্রসর হবে। এ কর্মসূচিকে সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচিটি জনসমুদ্রে পরিণত হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।
লংমার্চ চলাকালে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংবাদকর্মীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের গাড়ি চিহ্নিত করতে বিশেষ স্টিকার ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এতে সাংবাদিকেরা সহজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারবেন এবং লংমার্চের বহরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল। এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যশোর জেলা আহ্বায়ক নুরুজ্জামানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।






















