Jashore , Tuesday, 27 October 2026
সর্বশেষ:
যশোরে গণঅধিকার পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন যশোরে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ সফল করতে এনসিপির লিফলেট বিতরণ আইডিইএক্স ২০২৭-এ অংশ নিতে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ শার্শায় ৩০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার যশোরে ২৪ লাখ টাকার স্বর্ণের বারসহ আটক ১ খুলনায় আতঙ্কের নাম ‘বি কোম্পানি’: আড়ালে সন্ত্রাসী তাণ্ডব ও রাজনৈতিক ছত্রছায়া যশোরে সড়ক দূর্ঘটনায় মা ও শিশু নিহত; আহত বাবা চুরির অপবাদে কিশোর স্বাধীনকে হত্যা: বিচারের দাবিতে মায়ের সংবাদ সম্মেলন ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ সফল করতে যশোরে এনসিপির লিফলেট বিতরণ চার দিনের সরকারি সফরে জাপানের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

তৃণমূলের সুপারিশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চান নেতাকর্মীরা

মেহেদী হাসান:- নির্বাচন এবং বিএনপির আন্দোলন মোকাবিলায় দলের বিভেদ দূর করতে কী উদ্যোগ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ-এই প্রশ্ন এখন তৃণমূল নেতাদের।

রোববার দলের বিশেষ বর্ধিত সভায় সারা দেশে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধ স্পষ্ট করেছেন এই নেতারা। আর এক দিন না যেতেই সোমবার চূড়ান্ত করা হয়েছে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের তারিখ। শনিবার জরুরি ভিত্তিতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে দলটির দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে। তৃণমূল নেতাদের প্রত্যাশা-কার্যনির্বাহী সংসদের এ বৈঠকেই কঠোর সিদ্ধান্ত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে জনবিচ্ছিন্ন এমপিরা যাতে আবারও দলের মনোনয়ন না পান, সেই বার্তার অপেক্ষা করছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারা। বিশেষ বর্ধিত সভায় যোগ দেওয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রত্যাশার কথা জানা গেছে।

প্রায় ছয় বছর পর গণভবনে অনুষ্ঠিত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় তৃণমূল নেতারা তাদের ক্ষোভ, দুঃখ, বঞ্চনা, উপেক্ষা ও হতাশার কথা বলার এই সুযোগ পান। একাধিক নেতা প্রায় অভিন্ন সুরে যুগান্তরকে বলেছেন, এ সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভয়ংকর করোনা মহামারি দেখেছে দেশের মানুষ। সেসময় অধিকাংশ মন্ত্রী-এমপি এলাকায় অনুপস্থিত ছিলেন। তারা দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াননি। আর এখন রাজপথে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির একদফার আন্দোলন মোকাবিলা করতে হচ্ছে উপেক্ষিত ও বঞ্চিত এসব নেতাকর্মীকেই।

দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কাছে পেয়ে তৃণমূল নেতারা ক্ষোভ, যন্ত্রণা ও কষ্টের কথা বলেছেন। তাদের বক্তব্য দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। তাই তৃণমূল নেতা ও কর্মীদের প্রত্যাশা-সেসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন দলের সভাপতি।

আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ বর্ধিত সভায় তৃণমূল নেতাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তারা (তৃণমূল নেতারা) যেসব সমস্যার কথা বলেছেন, তা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা সমাধানের চেষ্টা করবেন। কার্যনির্বাহী সংসদের শনিবারের বৈঠকে নির্দিষ্ট এজেন্ডা রয়েছে। তারপরও বিশেষ বর্ধিত সভায় দেওয়া তৃণমূল নেতাদের প্রস্তাবগুলো নিয়ে প্রয়োজন হলে আলোচনা তো হতেই পারে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগ একটি কর্মীনির্ভর রাজনৈতিক দল। এখানে কোনো সম্রাজ্ঞী বা নষ্ট শাহজাদার অস্তিত্ব নেই। জাতির পিতার কন্যা আমাদের নেত্রী এবং সর্বজনশ্রদ্ধেয় নীতিনির্ধারক। কিন্তু তিনি দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সম্মান করেন এবং তাদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আওয়ামী লীগের তৃণমূল কখনো ভুল করে না। বিশেষ বর্ধিত সভায় তৃণমূলের সম্মানিত নেতৃবৃন্দ প্রদত্ত মতামতগুলো কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় আলোচনা হবে এবং তাদের মতামতের আলোকে সভার সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দেবেন।

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অনিল সরকার মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, আমি মনে করি আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে যারা রয়েছেন, তারা সবাই বিশেষ বর্ধিত সভায় দেওয়া আমাদের বক্তব্য শুনেছেন। তাই কার্যনির্বাহী সংসদের আগামী (শনিবারের) বৈঠকে তারা বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন। এতে দল উপকৃত হবে।

রোববার গণভবনে অনুষ্ঠিত বিশেষ বর্ধিত সভায় রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের এই নেতা তৃণমূলে নেতাকর্মীদের মধ্যকার ঐক্যের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ থাকলে দল যাকেই সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী দেবে, তিনিই বিজয়ী হবেন।

পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর মঙ্গলবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, আমাদের প্রত্যাশা-আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে বিশেষ বর্ধিত সভার সুপারিশ বা প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হোক। প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন হলে দল উপকৃত হবে।

রোববার গণভবনে অনুষ্ঠিত বিশেষ বর্ধিত সভায় কাজী আলমগীরের জ্বালাময়ী বক্তব্য সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তিনি ওই সভায় বলেছিলেন, তার জেলার বাউফল উপজেলায় দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে মায়ের কোল খালি হয়েছে। এই কোন্দলের সুরাহা হওয়া দরকার। এছাড়া এমপি ও জনপ্রতিনিধিরা কমিটমেন্ট করেও দলের নেতাকর্মীদের পাশে থাকেননি।

পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট যুগান্তরকে বলেন, বিশেষ বর্ধিত সভায় যেসব সমস্যার কথা তৃণমূল নেতারা বলেছেন, এর সমাধান হওয়া উচিত। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা বাস্তবায়ন হলে আওয়ামী লীগ আরও সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হবে। নির্বাচনের আগে এটা খুবই জরুরি।

আনোয়ার সাদাত সম্রাট বিশেষ বর্ধিত সভায় নির্বাচনের আগে তার জেলায় সংগঠনের মধ্যকার বিরোধ তুলে ধরে তা নিরসনে উদ্যোগী হয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন। তার বক্তব্য ছিল নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগকে আরও সুসংগঠিত করতে হবে।

সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ তালুকদার যুগান্তরকে বলেন, বিশেষ বর্ধিত সভায় তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য নিশ্চয় দলের সভাপতি শেখ হাসিনা আমলে নেবেন। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ বিষয়গুলো সম্পর্কে সিদ্ধান্ত ও কৌশল নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়ন করা হলে আওয়ামী লীগ এবং নেতাকর্মীরা উপকৃত হবেন। তিনি (আবদুস সামাদ তালুকদার) রোববার গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় দলের সভাপতি শেখ হাসিনার উদ্দেশে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা এখানে (ঢাকায়) ঐক্যবদ্ধ থাকার কমিটমেন্ট করে; কিন্তু এলাকায় গিয়ে আবার গ্রুপিংয়ে জড়িয়ে পড়ে। এটা যেন না হয়, এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 09:30 pm, Wednesday, 9 August 2023
23 Time View

তৃণমূলের সুপারিশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চান নেতাকর্মীরা

Update Time : 09:30 pm, Wednesday, 9 August 2023

মেহেদী হাসান:- নির্বাচন এবং বিএনপির আন্দোলন মোকাবিলায় দলের বিভেদ দূর করতে কী উদ্যোগ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ-এই প্রশ্ন এখন তৃণমূল নেতাদের।

রোববার দলের বিশেষ বর্ধিত সভায় সারা দেশে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধ স্পষ্ট করেছেন এই নেতারা। আর এক দিন না যেতেই সোমবার চূড়ান্ত করা হয়েছে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের তারিখ। শনিবার জরুরি ভিত্তিতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে দলটির দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে। তৃণমূল নেতাদের প্রত্যাশা-কার্যনির্বাহী সংসদের এ বৈঠকেই কঠোর সিদ্ধান্ত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে জনবিচ্ছিন্ন এমপিরা যাতে আবারও দলের মনোনয়ন না পান, সেই বার্তার অপেক্ষা করছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারা। বিশেষ বর্ধিত সভায় যোগ দেওয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রত্যাশার কথা জানা গেছে।

প্রায় ছয় বছর পর গণভবনে অনুষ্ঠিত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় তৃণমূল নেতারা তাদের ক্ষোভ, দুঃখ, বঞ্চনা, উপেক্ষা ও হতাশার কথা বলার এই সুযোগ পান। একাধিক নেতা প্রায় অভিন্ন সুরে যুগান্তরকে বলেছেন, এ সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভয়ংকর করোনা মহামারি দেখেছে দেশের মানুষ। সেসময় অধিকাংশ মন্ত্রী-এমপি এলাকায় অনুপস্থিত ছিলেন। তারা দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াননি। আর এখন রাজপথে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির একদফার আন্দোলন মোকাবিলা করতে হচ্ছে উপেক্ষিত ও বঞ্চিত এসব নেতাকর্মীকেই।

দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কাছে পেয়ে তৃণমূল নেতারা ক্ষোভ, যন্ত্রণা ও কষ্টের কথা বলেছেন। তাদের বক্তব্য দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। তাই তৃণমূল নেতা ও কর্মীদের প্রত্যাশা-সেসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন দলের সভাপতি।

আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ বর্ধিত সভায় তৃণমূল নেতাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তারা (তৃণমূল নেতারা) যেসব সমস্যার কথা বলেছেন, তা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা সমাধানের চেষ্টা করবেন। কার্যনির্বাহী সংসদের শনিবারের বৈঠকে নির্দিষ্ট এজেন্ডা রয়েছে। তারপরও বিশেষ বর্ধিত সভায় দেওয়া তৃণমূল নেতাদের প্রস্তাবগুলো নিয়ে প্রয়োজন হলে আলোচনা তো হতেই পারে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগ একটি কর্মীনির্ভর রাজনৈতিক দল। এখানে কোনো সম্রাজ্ঞী বা নষ্ট শাহজাদার অস্তিত্ব নেই। জাতির পিতার কন্যা আমাদের নেত্রী এবং সর্বজনশ্রদ্ধেয় নীতিনির্ধারক। কিন্তু তিনি দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সম্মান করেন এবং তাদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আওয়ামী লীগের তৃণমূল কখনো ভুল করে না। বিশেষ বর্ধিত সভায় তৃণমূলের সম্মানিত নেতৃবৃন্দ প্রদত্ত মতামতগুলো কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় আলোচনা হবে এবং তাদের মতামতের আলোকে সভার সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দেবেন।

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অনিল সরকার মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, আমি মনে করি আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে যারা রয়েছেন, তারা সবাই বিশেষ বর্ধিত সভায় দেওয়া আমাদের বক্তব্য শুনেছেন। তাই কার্যনির্বাহী সংসদের আগামী (শনিবারের) বৈঠকে তারা বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন। এতে দল উপকৃত হবে।

রোববার গণভবনে অনুষ্ঠিত বিশেষ বর্ধিত সভায় রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের এই নেতা তৃণমূলে নেতাকর্মীদের মধ্যকার ঐক্যের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ থাকলে দল যাকেই সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী দেবে, তিনিই বিজয়ী হবেন।

পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর মঙ্গলবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, আমাদের প্রত্যাশা-আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে বিশেষ বর্ধিত সভার সুপারিশ বা প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হোক। প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন হলে দল উপকৃত হবে।

রোববার গণভবনে অনুষ্ঠিত বিশেষ বর্ধিত সভায় কাজী আলমগীরের জ্বালাময়ী বক্তব্য সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তিনি ওই সভায় বলেছিলেন, তার জেলার বাউফল উপজেলায় দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে মায়ের কোল খালি হয়েছে। এই কোন্দলের সুরাহা হওয়া দরকার। এছাড়া এমপি ও জনপ্রতিনিধিরা কমিটমেন্ট করেও দলের নেতাকর্মীদের পাশে থাকেননি।

পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট যুগান্তরকে বলেন, বিশেষ বর্ধিত সভায় যেসব সমস্যার কথা তৃণমূল নেতারা বলেছেন, এর সমাধান হওয়া উচিত। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা বাস্তবায়ন হলে আওয়ামী লীগ আরও সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হবে। নির্বাচনের আগে এটা খুবই জরুরি।

আনোয়ার সাদাত সম্রাট বিশেষ বর্ধিত সভায় নির্বাচনের আগে তার জেলায় সংগঠনের মধ্যকার বিরোধ তুলে ধরে তা নিরসনে উদ্যোগী হয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন। তার বক্তব্য ছিল নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগকে আরও সুসংগঠিত করতে হবে।

সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ তালুকদার যুগান্তরকে বলেন, বিশেষ বর্ধিত সভায় তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য নিশ্চয় দলের সভাপতি শেখ হাসিনা আমলে নেবেন। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ বিষয়গুলো সম্পর্কে সিদ্ধান্ত ও কৌশল নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়ন করা হলে আওয়ামী লীগ এবং নেতাকর্মীরা উপকৃত হবেন। তিনি (আবদুস সামাদ তালুকদার) রোববার গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় দলের সভাপতি শেখ হাসিনার উদ্দেশে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা এখানে (ঢাকায়) ঐক্যবদ্ধ থাকার কমিটমেন্ট করে; কিন্তু এলাকায় গিয়ে আবার গ্রুপিংয়ে জড়িয়ে পড়ে। এটা যেন না হয়, এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে।