Jashore , Tuesday, 27 October 2026
সর্বশেষ:
যশোরে গণঅধিকার পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন যশোরে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ সফল করতে এনসিপির লিফলেট বিতরণ আইডিইএক্স ২০২৭-এ অংশ নিতে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ শার্শায় ৩০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার যশোরে ২৪ লাখ টাকার স্বর্ণের বারসহ আটক ১ খুলনায় আতঙ্কের নাম ‘বি কোম্পানি’: আড়ালে সন্ত্রাসী তাণ্ডব ও রাজনৈতিক ছত্রছায়া যশোরে সড়ক দূর্ঘটনায় মা ও শিশু নিহত; আহত বাবা চুরির অপবাদে কিশোর স্বাধীনকে হত্যা: বিচারের দাবিতে মায়ের সংবাদ সম্মেলন ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ সফল করতে যশোরে এনসিপির লিফলেট বিতরণ চার দিনের সরকারি সফরে জাপানের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সিলেটে পাথর উত্তোলনের নামে বছরের পর বছর চলেছে ধ্বংসযজ্ঞ

ডা. ওমর সিলেট জেলা প্রতিনিধি:- সিলেটে পাথর উত্তোলনের নামে বছরের পর বছর চলেছে ধ্বংসযজ্ঞ থেকে শুরু করে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, চা বাগান বাদ যায়নি কিছুই।


দেরিতে হলেও প্রকৃতির এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। কিন্তু পাথর কোয়ারি চালু রাখতে নানা মহলে তদবির চলছে।

মেঘালয়ের পাহাড়ঘেষা কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার শাহ আরেফিন টিলা। যার কেন্দ্রে ৩৬০ আউলিয়ার একজন শাহ আরেফিন (র.) এর মাজার। একসময়ের সবুজ শ্যামল, উঁচু ও বিশাল আয়তনের এ টিলাটি এখন রীতিমতো একাধিক গভীর হ্রদের সমাহার।

শুধু আরেফিন টিলাই নয়, পাথর উত্তোলনের নামে ক্ষত বিক্ষত হয়েছে সিলেটের চার উপজেলার সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা। যার মধ্যে আছে জাফলং, বিছনাকান্দি, ভোলাগঞ্জের মতো বিখ্যাত পর্যটন স্পটও। গত তিন বছরে অবৈধ পাথর উত্তোলনের বলি হয়েছেন ৭৬ নীরিহ শ্রমিক।

দেরি হলেও চলতি মৌসুমে অবাধে পাথর উত্তোলন বন্ধ করে প্রশাসন। কিন্তু ইজারার নামে নামমাত্র রাজস্ব দিয়ে হাজার কোটি টাকার অবৈধ পাথর ব্যবসায় বাধা আসায় নানা মহলে তদবির চালাচ্ছে একটি চক্র।

সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ সভাপতি আবু তাহের মোহাম্মদ শোয়েব জানান,’প্রশাসনের মাধ্যমে যদি কোয়ারিগুলো লিজ দিয়ে ব্যবসা করা হয় তবে আমাদের যারা শ্রমিক আছেন তারাও বাঁচবেন। এই পাথরের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন।’

সিলেট আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন,’এই পাখর কোয়ারিগুলো সচল থাকলে সরাকার এখান থেকে প্রচুর পরিমাণে রাজস্ব পায়। সিলেটের এই অঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মানুষ যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে সরকারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

পরিবেশকর্মীরা বলছেন, এসব যুক্তি অজুহাতমাত্র। পরিবেশ রক্ষা করে পাথর উত্তোলন অসম্ভব। সিলেট বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কীম জানান, ‘একটা সময় পাহাড়ি ঢলে পাথর আসতো, শ্রমিকরা সেগুলো সংগ্রহ করতো। এতে পরিবেশে কোন প্রভাব পড়তো না। কিন্তু যখনই আমরা ভূপ্রকৃতির মধ্যে ঢুকে গেছি তখনই এটা পরিবেশ এবং প্রকৃতির মধ্যে একটা আঘাত।’

বিভাগীয় কমিশনার জানালেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার বিভাগের সচিবের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে অনেক কিছু। সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, ‘মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে একটি কমিটি করে দেয়া আছে। তারা এসে দেখে গিয়েছেন। তারা প্রতিবেদন জমা দেবার পর সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’

পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসতে শুরু করেছে জাফলং, ভোলাগঞ্জ, বিছনাকান্দির মতো স্পটগুলো। সিলেটের পর্যটন শিল্প ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ পাথর বাণিজ্য বন্ধের বিকল্প নেই বলেই মনে করছেন পরিবেশকর্মীরা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 09:12 am, Tuesday, 22 September 2020
124 Time View

সিলেটে পাথর উত্তোলনের নামে বছরের পর বছর চলেছে ধ্বংসযজ্ঞ

Update Time : 09:12 am, Tuesday, 22 September 2020

ডা. ওমর সিলেট জেলা প্রতিনিধি:- সিলেটে পাথর উত্তোলনের নামে বছরের পর বছর চলেছে ধ্বংসযজ্ঞ থেকে শুরু করে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, চা বাগান বাদ যায়নি কিছুই।


দেরিতে হলেও প্রকৃতির এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। কিন্তু পাথর কোয়ারি চালু রাখতে নানা মহলে তদবির চলছে।

মেঘালয়ের পাহাড়ঘেষা কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার শাহ আরেফিন টিলা। যার কেন্দ্রে ৩৬০ আউলিয়ার একজন শাহ আরেফিন (র.) এর মাজার। একসময়ের সবুজ শ্যামল, উঁচু ও বিশাল আয়তনের এ টিলাটি এখন রীতিমতো একাধিক গভীর হ্রদের সমাহার।

শুধু আরেফিন টিলাই নয়, পাথর উত্তোলনের নামে ক্ষত বিক্ষত হয়েছে সিলেটের চার উপজেলার সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা। যার মধ্যে আছে জাফলং, বিছনাকান্দি, ভোলাগঞ্জের মতো বিখ্যাত পর্যটন স্পটও। গত তিন বছরে অবৈধ পাথর উত্তোলনের বলি হয়েছেন ৭৬ নীরিহ শ্রমিক।

দেরি হলেও চলতি মৌসুমে অবাধে পাথর উত্তোলন বন্ধ করে প্রশাসন। কিন্তু ইজারার নামে নামমাত্র রাজস্ব দিয়ে হাজার কোটি টাকার অবৈধ পাথর ব্যবসায় বাধা আসায় নানা মহলে তদবির চালাচ্ছে একটি চক্র।

সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ সভাপতি আবু তাহের মোহাম্মদ শোয়েব জানান,’প্রশাসনের মাধ্যমে যদি কোয়ারিগুলো লিজ দিয়ে ব্যবসা করা হয় তবে আমাদের যারা শ্রমিক আছেন তারাও বাঁচবেন। এই পাথরের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন।’

সিলেট আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন,’এই পাখর কোয়ারিগুলো সচল থাকলে সরাকার এখান থেকে প্রচুর পরিমাণে রাজস্ব পায়। সিলেটের এই অঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মানুষ যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে সরকারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

পরিবেশকর্মীরা বলছেন, এসব যুক্তি অজুহাতমাত্র। পরিবেশ রক্ষা করে পাথর উত্তোলন অসম্ভব। সিলেট বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কীম জানান, ‘একটা সময় পাহাড়ি ঢলে পাথর আসতো, শ্রমিকরা সেগুলো সংগ্রহ করতো। এতে পরিবেশে কোন প্রভাব পড়তো না। কিন্তু যখনই আমরা ভূপ্রকৃতির মধ্যে ঢুকে গেছি তখনই এটা পরিবেশ এবং প্রকৃতির মধ্যে একটা আঘাত।’

বিভাগীয় কমিশনার জানালেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার বিভাগের সচিবের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে অনেক কিছু। সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, ‘মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে একটি কমিটি করে দেয়া আছে। তারা এসে দেখে গিয়েছেন। তারা প্রতিবেদন জমা দেবার পর সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’

পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসতে শুরু করেছে জাফলং, ভোলাগঞ্জ, বিছনাকান্দির মতো স্পটগুলো। সিলেটের পর্যটন শিল্প ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ পাথর বাণিজ্য বন্ধের বিকল্প নেই বলেই মনে করছেন পরিবেশকর্মীরা।