Jashore , Monday, 2 November 2026
সর্বশেষ:
অভয়নগরে পুলিশের হাত থেকে মৎস্যজীবী লীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিলেন বিএনপি নেতা! যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ: দুই পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার, বিক্ষোভ ঢাকায় পোষাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ যশোরে চৌগাছার জিআই পণ্য খেজুরের গুড় রক্ষায় গাছি সমাবেশ ও চারা বিতরণ ফের এলপিজির দাম বাড়াল ২২৩ টাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিকের দাফনে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে যশোরে গণসমাবেশ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে আদালতে মানহানি মামলা যশোরে নিষিদ্ধ কফ সিরাপসহ আটক ২ যশোরে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪১ গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে: শফিকুর রহমান

যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ: দুই পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার, বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর শহরের বকুলতলায় অবস্থিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে’ মোটরসাইকেলে এসে অগ্নিসংযোগ করেছে একদল ব্যক্তি। আগুন ধরিয়েই তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শহরজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক এএসআই ও নায়েককে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, একদল অচেনা লোক মোটরসাইকেলে চেপে বকুলতলা এলাকায় এসে স্মৃতিস্তম্ভটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে সটকে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ছাত্র-জনতা ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। অগ্নিসংযোগের সময় দায়িত্বে চরম অবহেলার কারণে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জাহিদ এবং নায়েক মো. মুসাকে তাৎক্ষণিক দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে যশোর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্মৃতিস্তম্ভ ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে, স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে সোমবার সন্ধ্যায় বকুলতলায় এক বিক্ষোভ সমাবেশ করে ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি ও মানুষের আত্মত্যাগের প্রতীক এই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ অত্যন্ত নিন্দনীয় ও ঘৃণ্য কাজ। এটি শুধু একটি স্থাপনায় আঘাত নয়, বরং জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে অবমাননার শামিল। অবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িত দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।

বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী নুরুজ্জামান, সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান আজাদ, জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সালমা আক্তার আশা, জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শাহেদ মোহাম্মদ রিজভী ও জেলা মুখপাত্র সাঈদ সান। এ ছাড়া সংহতি প্রকাশ করে কর্মসূচিতে অংশ নেন যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাজিদুর রহমান সাগর।

এ বিষয়ে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে পুলিশের স্পেশাল টিম তদন্ত শুরু করেছে। স্মৃতিস্তম্ভসহ শহরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা জুড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও অপরাধীদের দমনে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 2 Hours Ago
17 Time View

যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ: দুই পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার, বিক্ষোভ

Update Time : 2 Hours Ago

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর শহরের বকুলতলায় অবস্থিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে’ মোটরসাইকেলে এসে অগ্নিসংযোগ করেছে একদল ব্যক্তি। আগুন ধরিয়েই তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শহরজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক এএসআই ও নায়েককে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, একদল অচেনা লোক মোটরসাইকেলে চেপে বকুলতলা এলাকায় এসে স্মৃতিস্তম্ভটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে সটকে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ছাত্র-জনতা ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। অগ্নিসংযোগের সময় দায়িত্বে চরম অবহেলার কারণে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জাহিদ এবং নায়েক মো. মুসাকে তাৎক্ষণিক দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে যশোর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্মৃতিস্তম্ভ ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে, স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে সোমবার সন্ধ্যায় বকুলতলায় এক বিক্ষোভ সমাবেশ করে ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি ও মানুষের আত্মত্যাগের প্রতীক এই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ অত্যন্ত নিন্দনীয় ও ঘৃণ্য কাজ। এটি শুধু একটি স্থাপনায় আঘাত নয়, বরং জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে অবমাননার শামিল। অবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িত দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।

বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী নুরুজ্জামান, সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান আজাদ, জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সালমা আক্তার আশা, জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শাহেদ মোহাম্মদ রিজভী ও জেলা মুখপাত্র সাঈদ সান। এ ছাড়া সংহতি প্রকাশ করে কর্মসূচিতে অংশ নেন যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাজিদুর রহমান সাগর।

এ বিষয়ে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে পুলিশের স্পেশাল টিম তদন্ত শুরু করেছে। স্মৃতিস্তম্ভসহ শহরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা জুড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও অপরাধীদের দমনে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।