Jashore , Monday, 2 November 2026
সর্বশেষ:
অভয়নগরে পুলিশের হাত থেকে মৎস্যজীবী লীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিলেন বিএনপি নেতা! যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ: দুই পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার, বিক্ষোভ ঢাকায় পোষাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ যশোরে চৌগাছার জিআই পণ্য খেজুরের গুড় রক্ষায় গাছি সমাবেশ ও চারা বিতরণ ফের এলপিজির দাম বাড়াল ২২৩ টাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিকের দাফনে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে যশোরে গণসমাবেশ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে আদালতে মানহানি মামলা যশোরে নিষিদ্ধ কফ সিরাপসহ আটক ২ যশোরে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪১ গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে: শফিকুর রহমান

৪ শতাধিক কারখানা বন্ধ

ঢাকায় পোষাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
তৈরি পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে চরম সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তীব্র আন্দোলনের মুখে নিরাপত্তার স্বার্থে এসব এলাকার প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কেবল সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চলেই ২৬৪টি কারখানা এবং গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে আরও দেড় শতাধিক কারখানায় সোমবারের (২৬ অক্টোবর) জন্য ছুটি দেওয়া হয়েছে। দিনভর শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের একাধিক সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া সহিংসতার অভিযোগে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

আশুলিয়া ও সাভারের চিত্র

শিল্প পুলিশ-২ আশুলিয়া অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. মুমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলে মোট ২৬৪টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আন্দোলন চলাকালে বিক্ষোভকারীরা পিকার্ড বাংলাদেশ লিমিটেড, আর্টিস্টিক ডিজাইন, জনরন সোয়েটার লিমিটেড, ফেরারী গার্মেন্টস লিমিটেড, ডেনিটেক্স লিমিটেড, আনলিমা টেক্সটাইল লিমিটেড, আল ইসলাম টেক্সটাইল লিমিটেড এবং জি কিউ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সহ মোট আটটি কারখানায় হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। এর মধ্যে ‘আর্টিস্টিক’ কারখানার সামনে আন্দোলনরত শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আগুন ধরিয়ে দেন।

গাজীপুরের পরিস্থিতি ও বিজিবি মোতায়েন

অন্যদিকে, গাজীপুরের সার্বিক পরিস্থিতিও থমথমে। শিল্প পুলিশ-২ গাজীপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, “আজও (সোমবার) সকাল থেকে শ্রমিকরা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। এ সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং বেশ কিছু বাস-ট্রাক ভাঙচুর করেন।” সংঘাত এড়াতে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে ইতোমধ্যে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

গাজীপুরের কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার কারখানাগুলোর সামনে সকাল থেকেই শ্রমিকদের ব্যাপক জমায়েত দেখা যায়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট ও শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানা ফটকে অতিরিক্ত পুলিশ ও শিল্প পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়া আন্দোলন

মজুরি বৃদ্ধির এই হাওয়া লেগেছে অন্য শিল্প এলাকাগুলোতেও। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের একদফা দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধ করেছেন কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সেখানে যান চলাচল ব্যাহত হলেও কোনো কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে কি না তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, পোশাক শ্রমিকদের এই ধারাবাহিক আন্দোলনকে ঘিরে গাজীপুরে পূর্বে দায়ের হওয়া তিনটি মামলায় ইতোমধ্যে প্রায় চার হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে এবং ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্দোলনে সহিংসতায় ইন্ধনদাতাদের সম্পর্কিত তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : One hour ago
9 Time View

৪ শতাধিক কারখানা বন্ধ

ঢাকায় পোষাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ

Update Time : One hour ago

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
তৈরি পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে চরম সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তীব্র আন্দোলনের মুখে নিরাপত্তার স্বার্থে এসব এলাকার প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কেবল সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চলেই ২৬৪টি কারখানা এবং গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে আরও দেড় শতাধিক কারখানায় সোমবারের (২৬ অক্টোবর) জন্য ছুটি দেওয়া হয়েছে। দিনভর শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের একাধিক সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া সহিংসতার অভিযোগে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

আশুলিয়া ও সাভারের চিত্র

শিল্প পুলিশ-২ আশুলিয়া অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. মুমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলে মোট ২৬৪টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আন্দোলন চলাকালে বিক্ষোভকারীরা পিকার্ড বাংলাদেশ লিমিটেড, আর্টিস্টিক ডিজাইন, জনরন সোয়েটার লিমিটেড, ফেরারী গার্মেন্টস লিমিটেড, ডেনিটেক্স লিমিটেড, আনলিমা টেক্সটাইল লিমিটেড, আল ইসলাম টেক্সটাইল লিমিটেড এবং জি কিউ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সহ মোট আটটি কারখানায় হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। এর মধ্যে ‘আর্টিস্টিক’ কারখানার সামনে আন্দোলনরত শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আগুন ধরিয়ে দেন।

গাজীপুরের পরিস্থিতি ও বিজিবি মোতায়েন

অন্যদিকে, গাজীপুরের সার্বিক পরিস্থিতিও থমথমে। শিল্প পুলিশ-২ গাজীপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, “আজও (সোমবার) সকাল থেকে শ্রমিকরা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। এ সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং বেশ কিছু বাস-ট্রাক ভাঙচুর করেন।” সংঘাত এড়াতে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে ইতোমধ্যে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

গাজীপুরের কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার কারখানাগুলোর সামনে সকাল থেকেই শ্রমিকদের ব্যাপক জমায়েত দেখা যায়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট ও শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানা ফটকে অতিরিক্ত পুলিশ ও শিল্প পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়া আন্দোলন

মজুরি বৃদ্ধির এই হাওয়া লেগেছে অন্য শিল্প এলাকাগুলোতেও। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের একদফা দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধ করেছেন কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সেখানে যান চলাচল ব্যাহত হলেও কোনো কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে কি না তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, পোশাক শ্রমিকদের এই ধারাবাহিক আন্দোলনকে ঘিরে গাজীপুরে পূর্বে দায়ের হওয়া তিনটি মামলায় ইতোমধ্যে প্রায় চার হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে এবং ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্দোলনে সহিংসতায় ইন্ধনদাতাদের সম্পর্কিত তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।