Jashore , Friday, 30 October 2026
সর্বশেষ:
মহিলা পরিষদ যশোরের নতুন সভাপতি আফরোজা বেগম, সম্পাদক কামরুন নাহার জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উপকরণের দাবিতে সতীঘাটায় হাটসভা তাহসিফের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত চান বাবা, এখনো হয়নি মামলা যশোর সীমান্তে ১৭ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ খোকনের মৃত্যুতে ৮৫ ফ্রেন্ডস ক্লাবের দোয়া মাহফিল দেশবিরোধী চুক্তি প্রতিহত করার ঘোষণা বামপন্থী নেতাদের অনুমোদন জটিলতায় ১ নভেম্বর চালু হচ্ছে না সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ কর্মী নেওয়ার খবর নাকচ করল জাপান যশোরে পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিট চালুর পথে তুরাগ নদ থেকে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার: কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

অনুমোদন জটিলতায় ১ নভেম্বর চালু হচ্ছে না সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় নির্ধারিত দিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে না। জাহাজমালিকেরা জানিয়েছেন, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগামী ৫ বা ৬ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে শনিবার প্রশাসনের সঙ্গে জাহাজমালিকদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ২৫ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনে আগের বছরের শর্তগুলো বহাল রাখা হয়। এতে নভেম্বর মাসে দিনে গিয়ে একই দিনে ফিরে আসা এবং ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে দ্বীপে রাতযাপনের সুযোগ রাখা হয়েছিল।

তবে এ নিয়ে পর্যটক, হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক ও জাহাজমালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। পরে ২৭ অক্টোবর আগের সিদ্ধান্ত সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের ভ্রমণ ও রাতযাপনের সুযোগ রাখা হয়। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপটিতে যেতে পারবেন বলেও জানানো হয়।

অনুমোদন না পাওয়ায় জাহাজ চলাচল অনিশ্চিত

সেন্টমার্টিনগামী জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বলেন, জাহাজ চলাচল শুরু করতে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রের পাশাপাশি নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অনুমোদন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) রুট পারমিট এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু এখনো এসব অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।

তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের তথ্য সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের যে সফটওয়্যার চালুর কথা, সেটিও এখনো প্রস্তুত হয়নি। এ কারণে ১ নভেম্বর থেকে জাহাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে ৫ বা ৬ নভেম্বর জাহাজ চলাচল শুরুর প্রস্তুতি চলছে।

প্রস্তুতি নিয়েও অনিশ্চয়তায় দ্বীপবাসী

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য দ্বীপটি উন্মুক্ত হওয়ার ঘোষণায় সেখানকার কয়েক হাজার মানুষ উচ্ছ্বসিত ছিলেন। পর্যটকদের রাতযাপনের জন্য ২৩০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমোদন না পাওয়ায় নির্ধারিত দিনে পর্যটক আসা শুরু হচ্ছে না।

তিনি বলেন, জাহাজ চলাচল শুরুর সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা শোনা যাচ্ছে। কেউ বলছেন ৫ থেকে ৭ নভেম্বর, আবার কেউ বলছেন ১৫ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। ফলে দ্বীপের পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই মিলবে অনুমতি

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলেও জাহাজের ফিটনেস ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে জাহাজমালিকদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠকে জাহাজ চলাচলের সুনির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, কক্সবাজারের বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট ছাড়া টেকনাফ, শাহপরীরদ্বীপ কিংবা উখিয়া থেকে নৌযানে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ নেই। একমাত্র সরকার অনুমোদিত জাহাজে অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে পর্যটকেরা দ্বীপটিতে যেতে পারবেন।

গত বছর পর্যটকবাহী একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জাহাজগুলোর ফিটনেস ও নিরাপত্তা যাচাই করছে। সবকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সন্তোষজনক ফল পাওয়া গেলেই জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।

কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট থেকে পর্যটকদের নিয়ে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল করে। নুনিয়ারছড়া থেকে দ্বীপটির দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। পুরো পথই বঙ্গোপসাগর দিয়ে পাড়ি দিতে হয়। ফলে পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জাহাজের ফিটনেস ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনকে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 4 Hours Ago
15 Time View

অনুমোদন জটিলতায় ১ নভেম্বর চালু হচ্ছে না সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল

Update Time : 4 Hours Ago

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় নির্ধারিত দিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে না। জাহাজমালিকেরা জানিয়েছেন, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগামী ৫ বা ৬ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে শনিবার প্রশাসনের সঙ্গে জাহাজমালিকদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ২৫ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনে আগের বছরের শর্তগুলো বহাল রাখা হয়। এতে নভেম্বর মাসে দিনে গিয়ে একই দিনে ফিরে আসা এবং ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে দ্বীপে রাতযাপনের সুযোগ রাখা হয়েছিল।

তবে এ নিয়ে পর্যটক, হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক ও জাহাজমালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। পরে ২৭ অক্টোবর আগের সিদ্ধান্ত সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের ভ্রমণ ও রাতযাপনের সুযোগ রাখা হয়। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপটিতে যেতে পারবেন বলেও জানানো হয়।

অনুমোদন না পাওয়ায় জাহাজ চলাচল অনিশ্চিত

সেন্টমার্টিনগামী জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বলেন, জাহাজ চলাচল শুরু করতে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রের পাশাপাশি নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অনুমোদন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) রুট পারমিট এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু এখনো এসব অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।

তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের তথ্য সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের যে সফটওয়্যার চালুর কথা, সেটিও এখনো প্রস্তুত হয়নি। এ কারণে ১ নভেম্বর থেকে জাহাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে ৫ বা ৬ নভেম্বর জাহাজ চলাচল শুরুর প্রস্তুতি চলছে।

প্রস্তুতি নিয়েও অনিশ্চয়তায় দ্বীপবাসী

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য দ্বীপটি উন্মুক্ত হওয়ার ঘোষণায় সেখানকার কয়েক হাজার মানুষ উচ্ছ্বসিত ছিলেন। পর্যটকদের রাতযাপনের জন্য ২৩০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমোদন না পাওয়ায় নির্ধারিত দিনে পর্যটক আসা শুরু হচ্ছে না।

তিনি বলেন, জাহাজ চলাচল শুরুর সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা শোনা যাচ্ছে। কেউ বলছেন ৫ থেকে ৭ নভেম্বর, আবার কেউ বলছেন ১৫ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। ফলে দ্বীপের পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই মিলবে অনুমতি

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলেও জাহাজের ফিটনেস ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে জাহাজমালিকদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠকে জাহাজ চলাচলের সুনির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, কক্সবাজারের বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট ছাড়া টেকনাফ, শাহপরীরদ্বীপ কিংবা উখিয়া থেকে নৌযানে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ নেই। একমাত্র সরকার অনুমোদিত জাহাজে অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে পর্যটকেরা দ্বীপটিতে যেতে পারবেন।

গত বছর পর্যটকবাহী একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জাহাজগুলোর ফিটনেস ও নিরাপত্তা যাচাই করছে। সবকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সন্তোষজনক ফল পাওয়া গেলেই জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।

কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট থেকে পর্যটকদের নিয়ে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল করে। নুনিয়ারছড়া থেকে দ্বীপটির দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। পুরো পথই বঙ্গোপসাগর দিয়ে পাড়ি দিতে হয়। ফলে পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জাহাজের ফিটনেস ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনকে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন।