জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উপকরণের দাবিতে সতীঘাটায় হাটসভা
নিজস্ব প্রতিবেদক
জ্বালানি তেলের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার, ন্যায্যমূল্যে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে যশোরে হাটসভা করেছে কৃষক সংগ্রাম সমিতি। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার সতীঘাটা বাজারে সংগঠনটির সদর থানা কমিটির উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
‘বাঁচার জন্য খাদ্য ও কাজ চাই, ফসলের জন্য সার, বীজ, বিদ্যুৎ ও ডিজেল চাই; যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই’—এমন স্লোগান সামনে রেখে আয়োজিত সভায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে বন্দর চুক্তি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিও জানানো হয়। কৃষক সংগ্রাম সমিতির সদর থানা কমিটির সহসভাপতি আবুল কাশেম মুন্সীর সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ বিশ্বাস।
সভায় বক্তব্য দেন সংগঠনটির জেলা সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সদর থানা কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার আমির, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আহাদ আলী লস্কর, কৃষক সংগ্রাম সমিতির সদর থানা কমিটির প্রচার সম্পাদক বিশ্বজিৎ বিশ্বাস এবং জাতীয় ছাত্রদলের জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মধুমঙ্গল বিশ্বাস।
সভায় বক্তারা বলেন, দুই দফায় ডিজেলসহ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কৃষি উপকরণের সংকট এবং বিদ্যুৎ সমস্যায় কৃষক ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা কঠিন হয়ে পড়েছে। এসব সংকট মোকাবিলায় কৃষক-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বন্যা, জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সমস্যা সমাধানে আশু, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু সেসব দাবি বাস্তবায়ন না করে অপরিকল্পিত নদী খনন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা অপচয় করা হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
তাঁদের দাবি, নদী খননের সময় উত্তোলিত মাটি নদীর মধ্যেই ফেলে রাখা এবং ভদ্রা, শ্রী ও হরি নদীতে ক্রস বাঁধ দিয়ে খনন করায় নদীর ভাটির অংশের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে জলাবদ্ধতা আরও বেড়েছে। এর ফলে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
বক্তারা বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে অবাধ জোয়ার-ভাটা চালু করে নদীর নাব্যতা বজায় রাখা এবং বিলের ভূমির উচ্চতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, সংশ্লিষ্ট বিলগুলোতে পরিকল্পিতভাবে জোয়ার-ভাটা চালু করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান সম্ভব।
এ জন্য ভদ্রা নদীর খর্নিয়ার ভাটির অংশে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার দিয়ে পলি অপসারণের দাবি জানান তাঁরা। একই সঙ্গে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে উপস্থাপিত আশু, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। এ বিষয়ে গত ৩১ আগস্ট যশোরের জেলা প্রশাসকের কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পাওয়া যাচ্ছে না। সার সংগ্রহ করতে গিয়ে কৃষকেরা ডিলারদের কাছে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। খোলাবাজারে চাহিদার তুলনায় কম পরিমাণ সার উচ্চমূল্যে কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকট যুক্ত হওয়ায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, জেলায় পর্যাপ্ত সার মজুত থাকার বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্যের সঙ্গে কৃষকদের বাস্তব অভিজ্ঞতার মিল নেই। এর মধ্যে দুই দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় কৃষির উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়েছে।
বক্তারা এসব সংকটের জন্য পুঁজিবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পাশাপাশি দেশীয় স্বার্থান্বেষী মহলকে দায়ী করেন। তাঁদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি দেশের কৃষি ও অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সভা থেকে অবিলম্বে বর্ধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রত্যাহার, ন্যায্যমূল্যে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি বাতিল এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে বন্দর চুক্তির বিরোধিতা করে কৃষক-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
























