Jashore , Friday, 30 October 2026
সর্বশেষ:
মহিলা পরিষদ যশোরের নতুন সভাপতি আফরোজা বেগম, সম্পাদক কামরুন নাহার জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উপকরণের দাবিতে সতীঘাটায় হাটসভা তাহসিফের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত চান বাবা, এখনো হয়নি মামলা যশোর সীমান্তে ১৭ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ খোকনের মৃত্যুতে ৮৫ ফ্রেন্ডস ক্লাবের দোয়া মাহফিল দেশবিরোধী চুক্তি প্রতিহত করার ঘোষণা বামপন্থী নেতাদের অনুমোদন জটিলতায় ১ নভেম্বর চালু হচ্ছে না সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ কর্মী নেওয়ার খবর নাকচ করল জাপান যশোরে পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিট চালুর পথে তুরাগ নদ থেকে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার: কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

মহিলা পরিষদ যশোরের নতুন সভাপতি আফরোজা বেগম, সম্পাদক কামরুন নাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ যশোর জেলা কমিটির একাদশ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট আফরোজা বেগমকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার কনাকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্মেলনে ১৩০ জন কাউন্সিলরসহ মোট ১৫০ জন অংশ নেন। নতুন কমিটির সদস্যরা আগামী তিন বছরের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে দিনব্যাপী যশোরের বাঁচতে শেখা মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ‘অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, নারী-পুরুষের সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র, সমাজ ও সংগঠন গড়ে তুলি এবং নারীর মানবাধিকার রক্ষায় অভিন্ন পারিবারিক আইনের প্রস্তাবনা চালু করি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম। সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন যশোর জেলা কমিটির সভাপতি আফরোজা শিরীন। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। সকাল পৌনে ১০টার দিকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে র‌্যালি বের করা হয়।

সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন একাদশ জেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক আফরোজা শিরীন। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত প্রশিক্ষণ সম্পাদক রুমা পারভীন। প্রয়াতদের স্মরণে উপস্থিত সবাই এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুলতানা রহমান জলি।

তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতাসংগ্রাম এবং অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও সমতাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে আত্মত্যাগকারীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হবে। একই সঙ্গে নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যাঁরা পথ দেখিয়েছেন, তাঁদের অবদানও স্মরণীয়। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি সুফিয়া কামালের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম, প্রকাশনা সম্পাদক সারাবান তহুরা, কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির সদস্য হাবিবা শেফা, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট রবিউল আলম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির যশোর জেলা কমিটির সভাপতি মাহবুবুর রহমান মজনু, বাঁচতে শেখার প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক অ্যাঞ্জেলা গোমেজ, উলাসী সৃজনী সংঘের নির্বাহী পরিচালক আজিজুল হক মনি এবং সাংবাদিক কাজী খালেদসহ অন্যরা।

কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম বলেন, সমস্যা চিহ্নিত করে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। আদর্শ, গঠনতন্ত্র, সংস্কৃতি ও ঘোষণাপত্র অনুযায়ী সংগঠন পরিচালনার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। সরকারের নীতি নির্ধারণে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি ১৫০টি আসনে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নারী প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করার আহ্বান জানান, যাতে রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ে।

দ্বিতীয় অধিবেশনে জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুলতানা রহমান জলি সাংগঠনিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এ ছাড়া সংগঠন, অর্থ, আন্দোলন, আইনি সহায়তা, প্রশিক্ষণ, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ, প্রচার-প্রকাশনা ও গণমাধ্যম এবং শিক্ষা-সংস্কৃতিবিষয়ক উপপরিষদের প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। সাধারণ প্রস্তাবনাগুলোও পাঠ করা হয়। পরে কাউন্সিলরদের আলোচনা শেষে প্রতিবেদনগুলো সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এ অধিবেশনে ২০১৮ সালের ১০ মার্চ অনুষ্ঠিত দশম জেলা সম্মেলনে গঠিত কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

সমাপনী অধিবেশনে অ্যাডভোকেট আফরোজা বেগমকে সভাপতি এবং অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার কনাকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩১ সদস্যের নতুন জেলা কমিটি নির্বাচিত করা হয়। কাউন্সিলররা সর্বসম্মতিক্রমে নতুন কমিটির প্রতি সমর্থন জানান। কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম নতুন সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান।

নতুন কমিটির সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রোজিনা রহমান, হামিদা বেগম, নাসিমা বানু লিলি, সুলতানা রহমান জলি, বীথিকা সরকার, রেহেনা বেগম ও মনিরা বেগম। সহসাধারণ সম্পাদক তহমিনা সুলতানা কাকলি, সংগঠন সম্পাদক উম্মে মাকসুদা মাসু, অর্থ সম্পাদক আমেনা বেগম কাকলি, আন্দোলন সম্পাদক সুফিয়া বেগম, আইনি সহায়তা সম্পাদক অ্যাডভোকেট সোনিয়া আক্তার জলি, প্রশিক্ষণ সম্পাদক সায়েদা বানু শিল্পী, পরিবেশ সম্পাদক উম্মে কুলসুম আলো, স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুলতানা পারভীন, প্রচার-প্রকাশনা ও গণমাধ্যম সম্পাদক রুমা পারভীন এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক নাসরিন নাহার আশা নির্বাচিত হয়েছেন।

কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন হাবিবা শেফা, আফরোজা শিরীন, খুরশীদা জাহান খাঁন, শায়লা নার্গিস শাওন, তৃপ্তি রানী বৈরাগী, রুবিনা পারভীন, মনোয়ারা বেগম, জোৎস্না রানী ঘোষ, সুমা বড়াল, সানজিদা সুমী, সামিরা বেগম ও নাজমা আক্তার শোভা।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : One minute ago
5 Time View

মহিলা পরিষদ যশোরের নতুন সভাপতি আফরোজা বেগম, সম্পাদক কামরুন নাহার

Update Time : One minute ago

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ যশোর জেলা কমিটির একাদশ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট আফরোজা বেগমকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার কনাকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্মেলনে ১৩০ জন কাউন্সিলরসহ মোট ১৫০ জন অংশ নেন। নতুন কমিটির সদস্যরা আগামী তিন বছরের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে দিনব্যাপী যশোরের বাঁচতে শেখা মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ‘অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, নারী-পুরুষের সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র, সমাজ ও সংগঠন গড়ে তুলি এবং নারীর মানবাধিকার রক্ষায় অভিন্ন পারিবারিক আইনের প্রস্তাবনা চালু করি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম। সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন যশোর জেলা কমিটির সভাপতি আফরোজা শিরীন। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। সকাল পৌনে ১০টার দিকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে র‌্যালি বের করা হয়।

সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন একাদশ জেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক আফরোজা শিরীন। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত প্রশিক্ষণ সম্পাদক রুমা পারভীন। প্রয়াতদের স্মরণে উপস্থিত সবাই এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুলতানা রহমান জলি।

তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতাসংগ্রাম এবং অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও সমতাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে আত্মত্যাগকারীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হবে। একই সঙ্গে নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যাঁরা পথ দেখিয়েছেন, তাঁদের অবদানও স্মরণীয়। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি সুফিয়া কামালের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম, প্রকাশনা সম্পাদক সারাবান তহুরা, কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির সদস্য হাবিবা শেফা, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট রবিউল আলম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির যশোর জেলা কমিটির সভাপতি মাহবুবুর রহমান মজনু, বাঁচতে শেখার প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক অ্যাঞ্জেলা গোমেজ, উলাসী সৃজনী সংঘের নির্বাহী পরিচালক আজিজুল হক মনি এবং সাংবাদিক কাজী খালেদসহ অন্যরা।

কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম বলেন, সমস্যা চিহ্নিত করে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। আদর্শ, গঠনতন্ত্র, সংস্কৃতি ও ঘোষণাপত্র অনুযায়ী সংগঠন পরিচালনার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। সরকারের নীতি নির্ধারণে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি ১৫০টি আসনে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নারী প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করার আহ্বান জানান, যাতে রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ে।

দ্বিতীয় অধিবেশনে জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুলতানা রহমান জলি সাংগঠনিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এ ছাড়া সংগঠন, অর্থ, আন্দোলন, আইনি সহায়তা, প্রশিক্ষণ, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ, প্রচার-প্রকাশনা ও গণমাধ্যম এবং শিক্ষা-সংস্কৃতিবিষয়ক উপপরিষদের প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। সাধারণ প্রস্তাবনাগুলোও পাঠ করা হয়। পরে কাউন্সিলরদের আলোচনা শেষে প্রতিবেদনগুলো সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এ অধিবেশনে ২০১৮ সালের ১০ মার্চ অনুষ্ঠিত দশম জেলা সম্মেলনে গঠিত কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

সমাপনী অধিবেশনে অ্যাডভোকেট আফরোজা বেগমকে সভাপতি এবং অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার কনাকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩১ সদস্যের নতুন জেলা কমিটি নির্বাচিত করা হয়। কাউন্সিলররা সর্বসম্মতিক্রমে নতুন কমিটির প্রতি সমর্থন জানান। কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম নতুন সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান।

নতুন কমিটির সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রোজিনা রহমান, হামিদা বেগম, নাসিমা বানু লিলি, সুলতানা রহমান জলি, বীথিকা সরকার, রেহেনা বেগম ও মনিরা বেগম। সহসাধারণ সম্পাদক তহমিনা সুলতানা কাকলি, সংগঠন সম্পাদক উম্মে মাকসুদা মাসু, অর্থ সম্পাদক আমেনা বেগম কাকলি, আন্দোলন সম্পাদক সুফিয়া বেগম, আইনি সহায়তা সম্পাদক অ্যাডভোকেট সোনিয়া আক্তার জলি, প্রশিক্ষণ সম্পাদক সায়েদা বানু শিল্পী, পরিবেশ সম্পাদক উম্মে কুলসুম আলো, স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুলতানা পারভীন, প্রচার-প্রকাশনা ও গণমাধ্যম সম্পাদক রুমা পারভীন এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক নাসরিন নাহার আশা নির্বাচিত হয়েছেন।

কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন হাবিবা শেফা, আফরোজা শিরীন, খুরশীদা জাহান খাঁন, শায়লা নার্গিস শাওন, তৃপ্তি রানী বৈরাগী, রুবিনা পারভীন, মনোয়ারা বেগম, জোৎস্না রানী ঘোষ, সুমা বড়াল, সানজিদা সুমী, সামিরা বেগম ও নাজমা আক্তার শোভা।