Jashore , Wednesday, 28 October 2026
সর্বশেষ:
বন্দর ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে যশোরে এনডিএফ’র বিক্ষোভ ও সমাবেশ বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য জব্দ পল্টনে সিপিবি কার্যালয়ে হামলা ও অবরুদ্ধ করার ঘটনায় গণসংহতি আন্দোলনের নিন্দা যশোরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৩৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৪ ‘বিগ বি’ উদ্যোগ যৌথভাবে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ-জাপান একমত সকালে প্রভাতী ট্রেন চালুসহ ৬ দফা দাবিতে রেলপথমন্ত্রীকে যশোর সংগ্রাম কমিটির স্মারকলিপি যশোরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সিজন-২ এর মার্শাল আর্ট ইভেন্টে পৌরসভা দল বাছাই সম্পন্ন যশোরে গণঅধিকার পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন যশোরে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ সফল করতে এনসিপির লিফলেট বিতরণ আইডিইএক্স ২০২৭-এ অংশ নিতে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ

পাবনায় পুলিশ সদস্য হত্যায় ২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নরুল ইসলাম পাবনা জেলা প্রতিনিধি:- পাবনার সদরে সৈয়দ দলিল উদ্দিন (৫৫) নামে অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ সদস্য হত্যার দায়ে দু’জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেয়া দিয়েছে আদালত।

রবিবার বিকেল ৩টায় পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ইশরাত জাহান মুন্নি এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মজিদপুর গ্রামের নওজেশ আলীর ছেলে দেওয়ান রতন (৪২) এবং একই গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস আলী খানের ছেলে মো. ওয়াদুদ আলী (৪০)। দুই আসামির উপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করেন বিচারক।হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য দলিল উদ্দিন পাবনা সদর উপজেলার মজিদপুর মহল্লার মৃত সৈয়দ মঈদ উদ্দিনের ছেলে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পুলিশবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করার পর ১৫ বছর যাবৎ এলাকায় একটি গভীর নলকূপসহ পাহারা দেয়ার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন দলিল উদ্দিন।

২০০০ সালের ৩১শে অক্টোবর রাতে মজিদপুর এলাকার গভীর নলকূপের পাহারারত অবস্থায় বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করতে আসে স্থানীয় কয়েকজন যুবক। এ সময় তিনি বাধা দিলে শ্বাসরোধ ও কুপিয়ে হত্যা করে সেই নলকূপের ভিতরে মরদেহ ফেলে বাহিরে থেকে তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যায় আসামিরা।

পরেরদিন সকালে নিহত ব্যক্তি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়না। এক পর্যায়ে নলকূপের ভিতরের তালাবদ্ধ অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরের দিন ২০০০ সালের ১লা নভেম্বর রাতে নিহতেন ছেলে হাবিবুর রহমান কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাত কয়েকজনের নামে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে ২০০৫ সালে ১০ জনের নামে চার্জশিট দাখিল হয়।পুলিশ ফোনের কললিস্ট ধরে তদন্ত করে সবাইকে গ্রেপ্তার করেন। দীর্ঘ শুনানির পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দু’জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। বাকি ৮ জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।আসামিপক্ষের আইনজীবী আলহাজ্ব এমএ মতিন জানান, তারা রায়ে সন্তুষ্ট নয়। ন্যায় বিচারের পেতে উচ্চ আদালতে আপিল করদবেন।

সেখান থেকে দণ্ডপ্রাপ্তরা নিরপরাধ হিসেবে খালাস পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।তবে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. ইউসুফ আলী ডেইলি বাংলাদেশ টুডে ডটকম কে বলেন, এই মামলায় সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে দু’জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। হত্যার সঙ্গে জড়িত প্রমাণিত না হওয়ায় বাকি ৮ জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 07:28 pm, Sunday, 9 January 2022
23 Time View

পাবনায় পুলিশ সদস্য হত্যায় ২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

Update Time : 07:28 pm, Sunday, 9 January 2022

নরুল ইসলাম পাবনা জেলা প্রতিনিধি:- পাবনার সদরে সৈয়দ দলিল উদ্দিন (৫৫) নামে অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ সদস্য হত্যার দায়ে দু’জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেয়া দিয়েছে আদালত।

রবিবার বিকেল ৩টায় পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ইশরাত জাহান মুন্নি এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মজিদপুর গ্রামের নওজেশ আলীর ছেলে দেওয়ান রতন (৪২) এবং একই গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস আলী খানের ছেলে মো. ওয়াদুদ আলী (৪০)। দুই আসামির উপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করেন বিচারক।হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য দলিল উদ্দিন পাবনা সদর উপজেলার মজিদপুর মহল্লার মৃত সৈয়দ মঈদ উদ্দিনের ছেলে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পুলিশবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করার পর ১৫ বছর যাবৎ এলাকায় একটি গভীর নলকূপসহ পাহারা দেয়ার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন দলিল উদ্দিন।

২০০০ সালের ৩১শে অক্টোবর রাতে মজিদপুর এলাকার গভীর নলকূপের পাহারারত অবস্থায় বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করতে আসে স্থানীয় কয়েকজন যুবক। এ সময় তিনি বাধা দিলে শ্বাসরোধ ও কুপিয়ে হত্যা করে সেই নলকূপের ভিতরে মরদেহ ফেলে বাহিরে থেকে তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যায় আসামিরা।

পরেরদিন সকালে নিহত ব্যক্তি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়না। এক পর্যায়ে নলকূপের ভিতরের তালাবদ্ধ অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরের দিন ২০০০ সালের ১লা নভেম্বর রাতে নিহতেন ছেলে হাবিবুর রহমান কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাত কয়েকজনের নামে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে ২০০৫ সালে ১০ জনের নামে চার্জশিট দাখিল হয়।পুলিশ ফোনের কললিস্ট ধরে তদন্ত করে সবাইকে গ্রেপ্তার করেন। দীর্ঘ শুনানির পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দু’জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। বাকি ৮ জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।আসামিপক্ষের আইনজীবী আলহাজ্ব এমএ মতিন জানান, তারা রায়ে সন্তুষ্ট নয়। ন্যায় বিচারের পেতে উচ্চ আদালতে আপিল করদবেন।

সেখান থেকে দণ্ডপ্রাপ্তরা নিরপরাধ হিসেবে খালাস পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।তবে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. ইউসুফ আলী ডেইলি বাংলাদেশ টুডে ডটকম কে বলেন, এই মামলায় সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে দু’জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। হত্যার সঙ্গে জড়িত প্রমাণিত না হওয়ায় বাকি ৮ জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।