Jashore , Wednesday, 28 October 2026
সর্বশেষ:
বন্দর ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে যশোরে এনডিএফ’র বিক্ষোভ ও সমাবেশ বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য জব্দ পল্টনে সিপিবি কার্যালয়ে হামলা ও অবরুদ্ধ করার ঘটনায় গণসংহতি আন্দোলনের নিন্দা যশোরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৩৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৪ ‘বিগ বি’ উদ্যোগ যৌথভাবে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ-জাপান একমত সকালে প্রভাতী ট্রেন চালুসহ ৬ দফা দাবিতে রেলপথমন্ত্রীকে যশোর সংগ্রাম কমিটির স্মারকলিপি যশোরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সিজন-২ এর মার্শাল আর্ট ইভেন্টে পৌরসভা দল বাছাই সম্পন্ন যশোরে গণঅধিকার পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন যশোরে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ সফল করতে এনসিপির লিফলেট বিতরণ আইডিইএক্স ২০২৭-এ অংশ নিতে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ

ফেটে গেছে পাইপ, প্রথম জাহাজই ব্যর্থ

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:- গভীর সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহের শুরুতেই বড় ধরনের বিপত্তি দেখা দিয়েছে। কক্সবাজারের মাতারবাড়ি থেকে প্রথমবারের মতো জাহাজ থেকে তেল খালাস করতে গিয়েই পাইপ ফেটে গেছে।

কিছু জ্বালানি তেল ভেসে গেছে সাগরেও।পাইপ ফাটার মাধ্যমে সাময়িকভাবে ভেস্তে গেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অধীন কোম্পানি ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের পরিকল্পনা। সনাতন পদ্ধতিতেই এখন তেল খালাস করতে হতে পারে তাদের। বিষয়টি নিয়ে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করছে ইস্টার্ন।

ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন’ নামে প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে ৮ হাজার ২২২ কোটি টাকা।বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের মুখপাত্র ও মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আশরাফ আমিন বলেন, ‘এসপিএম প্রকল্পের জ্বালানি তেল নিয়ে আসা প্রথম জাহাজ যথাযথভাবে তেল পাইপলাইন দিয়ে খালাস করতে পারেনি। কী কারণে তারা ব্যর্থ হয়েছে তা আমার জানা নেই। শুনেছি তাদের পাইপ ফেটে গেছে।’প্রায় ৮২ হাজার টন অশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি গত ২৪ জুন দেশে পৌঁছে ৷ গত মঙ্গলবার তেল খালাস শুরু হয়।ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. লোকমানের সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি। কথা বলেননি এসপিএম প্রকল্পের পরিচালক শরীফ হাসনাতও।

কল রিসিভ করেননি মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মোস্তফা কুদরত-ই-ইলাহিও।প্রকল্পটির মাধ্যমে তেল সরবরাহ করতে না পারায় সনাতন পদ্ধতিতেই এখন তেল খালাস করছে তারা। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন থেকে দুটি লাইটার জাহাজ গেছে মাতারবাড়ীতে। সেখানে বড় জাহাজ থেকে তেল খালাস করবে তারা। ইস্টার্ন রিফাইনারির দায়িত্বশীল কেউ সমকালের ফোনে সাড়া দেননি। তবে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) দুটি লাইটার জাহাজ পাঠানোর কথা সমকালের কাছে স্বীকার করেছে।চ্যালেঞ্জ বাড়ল আরওপ্রথম জাহাজ থেকে পরিকল্পনা অনুযায়ী তেল খালাস করতে না পারায় এসপিএম প্রকল্পের চ্যালেঞ্জ আরও বেড়ে গেছে। সাগরের তীব্র স্রোতে জাহাজ দাঁড়িয়ে থাকতে না পারায় পাইপ নির্ধারিত স্থান থেকে ছুটে গেছে বলে জানা গেছে। আরেকটি সূত্র বলছে, পাইপ লিক করেছে।

সাগরে কিছু জ্বালানি ভেসে গেছে। ঠিক কী পরিমাণ জ্বালানি সাগরে পড়েছে তা গতকাল পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিবেশ অধিদপ্তরেরও কেউ এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করেছে ইস্টার্ন রিফাইনারি কর্তৃপক্ষ।আমদানিকৃত ক্রুড অয়েল ও ফিনিশড প্রোডাক্ট স্বল্প সময়ে, স্বল্প খরচে এবং নিরাপদে খালাস করার স্বপ্ন দেখিয়েছিল এ প্রকল্প। বলা হয়েছিল, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে জিটুজি ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়।বলা হচ্ছিল, প্রকল্পটি পরিপূর্ণভাবে চালু হলে ১১ দিনে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল খালাস করা যায়, সেটির সময় কমে আসবে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায়। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর লাইটার জাহাজের প্রয়োজন হবে না। ফলে বছরে পরিবহন খরচের প্রায় ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। জ্বালানি সক্ষমতা বাড়বে ৩৩ শতাংশ।বর্তমানে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করতে পারে। ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে পরিশোধন ক্ষমতা ৪৫ লাখ টনে উন্নীত হবে।

এসপিএম প্রকল্পটি পরিশোধন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তাকরছে। এতে জ্বালানি তেলের মজুত ও সংরক্ষণ ক্ষমতা এবং জোগানের নিরাপত্তাও বাড়বে বলে ধারণা করা হয়েছিল।গতানুগতিক লাইটার পদ্ধতি সময়সাপেক্ষ, ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল হওয়ায় গভীর সমুদ্রে মুরিং পয়েন্ট নির্মাণ এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল আনার লক্ষ্যে এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ৯০ একরের কাছাকাছি জায়গা অধিগ্রহণ করে প্রকল্পের জন্য ছয়টি স্টোরেজ ট্যাঙ্কার নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি পরিশোধিত তেলের জন্য, বাকিগুলো অপরিশোধিত তেলের জন্য।

প্রতিটি পরিশোধিত স্টোরেজ ট্যাঙ্কারের ধারণক্ষমতা ৫০ হাজার ঘনমিটার। অপরিশোধিত স্টোরেজ ট্যাঙ্কারের ধারণক্ষমতা ৩০ হাজার ঘনমিটার। প্রকল্পটির আওতায় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার অফশোর পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। ১৭টি এইচডিডিসহ অনশোরে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। সব কাজ শেষে জ্বালানি তেল নিয়ে এসেছিল প্রথম জাহাজ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 09:04 pm, Friday, 7 July 2023
24 Time View

ফেটে গেছে পাইপ, প্রথম জাহাজই ব্যর্থ

Update Time : 09:04 pm, Friday, 7 July 2023

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:- গভীর সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহের শুরুতেই বড় ধরনের বিপত্তি দেখা দিয়েছে। কক্সবাজারের মাতারবাড়ি থেকে প্রথমবারের মতো জাহাজ থেকে তেল খালাস করতে গিয়েই পাইপ ফেটে গেছে।

কিছু জ্বালানি তেল ভেসে গেছে সাগরেও।পাইপ ফাটার মাধ্যমে সাময়িকভাবে ভেস্তে গেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অধীন কোম্পানি ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের পরিকল্পনা। সনাতন পদ্ধতিতেই এখন তেল খালাস করতে হতে পারে তাদের। বিষয়টি নিয়ে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করছে ইস্টার্ন।

ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন’ নামে প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে ৮ হাজার ২২২ কোটি টাকা।বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের মুখপাত্র ও মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আশরাফ আমিন বলেন, ‘এসপিএম প্রকল্পের জ্বালানি তেল নিয়ে আসা প্রথম জাহাজ যথাযথভাবে তেল পাইপলাইন দিয়ে খালাস করতে পারেনি। কী কারণে তারা ব্যর্থ হয়েছে তা আমার জানা নেই। শুনেছি তাদের পাইপ ফেটে গেছে।’প্রায় ৮২ হাজার টন অশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি গত ২৪ জুন দেশে পৌঁছে ৷ গত মঙ্গলবার তেল খালাস শুরু হয়।ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. লোকমানের সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি। কথা বলেননি এসপিএম প্রকল্পের পরিচালক শরীফ হাসনাতও।

কল রিসিভ করেননি মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মোস্তফা কুদরত-ই-ইলাহিও।প্রকল্পটির মাধ্যমে তেল সরবরাহ করতে না পারায় সনাতন পদ্ধতিতেই এখন তেল খালাস করছে তারা। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন থেকে দুটি লাইটার জাহাজ গেছে মাতারবাড়ীতে। সেখানে বড় জাহাজ থেকে তেল খালাস করবে তারা। ইস্টার্ন রিফাইনারির দায়িত্বশীল কেউ সমকালের ফোনে সাড়া দেননি। তবে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) দুটি লাইটার জাহাজ পাঠানোর কথা সমকালের কাছে স্বীকার করেছে।চ্যালেঞ্জ বাড়ল আরওপ্রথম জাহাজ থেকে পরিকল্পনা অনুযায়ী তেল খালাস করতে না পারায় এসপিএম প্রকল্পের চ্যালেঞ্জ আরও বেড়ে গেছে। সাগরের তীব্র স্রোতে জাহাজ দাঁড়িয়ে থাকতে না পারায় পাইপ নির্ধারিত স্থান থেকে ছুটে গেছে বলে জানা গেছে। আরেকটি সূত্র বলছে, পাইপ লিক করেছে।

সাগরে কিছু জ্বালানি ভেসে গেছে। ঠিক কী পরিমাণ জ্বালানি সাগরে পড়েছে তা গতকাল পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিবেশ অধিদপ্তরেরও কেউ এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করেছে ইস্টার্ন রিফাইনারি কর্তৃপক্ষ।আমদানিকৃত ক্রুড অয়েল ও ফিনিশড প্রোডাক্ট স্বল্প সময়ে, স্বল্প খরচে এবং নিরাপদে খালাস করার স্বপ্ন দেখিয়েছিল এ প্রকল্প। বলা হয়েছিল, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে জিটুজি ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়।বলা হচ্ছিল, প্রকল্পটি পরিপূর্ণভাবে চালু হলে ১১ দিনে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল খালাস করা যায়, সেটির সময় কমে আসবে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায়। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর লাইটার জাহাজের প্রয়োজন হবে না। ফলে বছরে পরিবহন খরচের প্রায় ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। জ্বালানি সক্ষমতা বাড়বে ৩৩ শতাংশ।বর্তমানে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করতে পারে। ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে পরিশোধন ক্ষমতা ৪৫ লাখ টনে উন্নীত হবে।

এসপিএম প্রকল্পটি পরিশোধন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তাকরছে। এতে জ্বালানি তেলের মজুত ও সংরক্ষণ ক্ষমতা এবং জোগানের নিরাপত্তাও বাড়বে বলে ধারণা করা হয়েছিল।গতানুগতিক লাইটার পদ্ধতি সময়সাপেক্ষ, ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল হওয়ায় গভীর সমুদ্রে মুরিং পয়েন্ট নির্মাণ এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল আনার লক্ষ্যে এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ৯০ একরের কাছাকাছি জায়গা অধিগ্রহণ করে প্রকল্পের জন্য ছয়টি স্টোরেজ ট্যাঙ্কার নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি পরিশোধিত তেলের জন্য, বাকিগুলো অপরিশোধিত তেলের জন্য।

প্রতিটি পরিশোধিত স্টোরেজ ট্যাঙ্কারের ধারণক্ষমতা ৫০ হাজার ঘনমিটার। অপরিশোধিত স্টোরেজ ট্যাঙ্কারের ধারণক্ষমতা ৩০ হাজার ঘনমিটার। প্রকল্পটির আওতায় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার অফশোর পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। ১৭টি এইচডিডিসহ অনশোরে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। সব কাজ শেষে জ্বালানি তেল নিয়ে এসেছিল প্রথম জাহাজ।