Jashore , Wednesday, 28 October 2026
সর্বশেষ:
বন্দর ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে যশোরে এনডিএফ’র বিক্ষোভ ও সমাবেশ বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য জব্দ পল্টনে সিপিবি কার্যালয়ে হামলা ও অবরুদ্ধ করার ঘটনায় গণসংহতি আন্দোলনের নিন্দা যশোরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৩৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৪ ‘বিগ বি’ উদ্যোগ যৌথভাবে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ-জাপান একমত সকালে প্রভাতী ট্রেন চালুসহ ৬ দফা দাবিতে রেলপথমন্ত্রীকে যশোর সংগ্রাম কমিটির স্মারকলিপি যশোরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সিজন-২ এর মার্শাল আর্ট ইভেন্টে পৌরসভা দল বাছাই সম্পন্ন যশোরে গণঅধিকার পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন যশোরে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ সফল করতে এনসিপির লিফলেট বিতরণ আইডিইএক্স ২০২৭-এ অংশ নিতে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ

একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানুষের ঢল

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে একুশের প্রথম প্রহর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নামে সর্বস্তরের মানুষের ঢল।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ মিনার চত্বর সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

শনিবার সকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষ পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ মিনারের দিকে দীর্ঘ লাইন। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করছেন বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্যরা। একে একে সবাই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি।

অনেককে খালি পায়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নিতে দেখা যায়। কারো হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, কারো হাতে ব্যানার-ফেস্টুন।

শ্রদ্ধা জানাতে আসে ইডেন মহিলা কলেজ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ছায়ানট, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, টিআইবি, বাংলাদেশ স্কাউটস, উদীচী, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।

সংগঠনের বাইরে ব্যক্তিগতভাবেও অনেকেই এসেছেন। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ আবার শিশুদের হাত ধরে শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়েছেন। শিশুদের কাছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতেও দেখা গেছে অনেক অভিভাবককে।

ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার বলেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শুধু বইয়ে পড়ার বিষয় নয়, এটা আমাদের আত্মপরিচয়ের অংশ। প্রতি বছর এখানে এসে শ্রদ্ধা জানালে সেই ইতিহাসকে নতুন করে অনুভব করি।

ধানমন্ডি থেকে বাবা-মামার সঙ্গে আসা সিনথিয়া তামান্না (৯) বলে, আজ একুশে ফেব্রুয়ারি। যারা মায়ের ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে তাদের ফুল দিতে এসেছি।

রাজবাড়ী থেকে শ্রদ্ধা জানাতে আসা মতিউর বলেন, গত ১৭ বছরের শাসনামলে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। তিনি বলেন, জনগণ আর সেই পরিস্থিতিতে ফিরতে চায় না।

শ্রদ্ধা নিবেদনকারী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের মধ্যে ছিল– জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, এনডিএম, এবি পার্টি, জাতীয় পার্টি, বিজেপি, জেপি, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, জেএসডি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। এছাড়া ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্রমৈত্রীর নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন কলেজের পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পাশাপাশি জুলাই ঐক্য ও জুলাই মঞ্চসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।

এর আগে প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন প্রথমে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাত ১২টা ৮ মিনিটে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় মন্ত্রিসভার সদস্যরা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর পর বিএনপি ও জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

এরপরই সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জোটের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 02:04 pm, Saturday, 21 February 2026
49 Time View

একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানুষের ঢল

Update Time : 02:04 pm, Saturday, 21 February 2026

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে একুশের প্রথম প্রহর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নামে সর্বস্তরের মানুষের ঢল।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ মিনার চত্বর সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

শনিবার সকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষ পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ মিনারের দিকে দীর্ঘ লাইন। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করছেন বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্যরা। একে একে সবাই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি।

অনেককে খালি পায়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নিতে দেখা যায়। কারো হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, কারো হাতে ব্যানার-ফেস্টুন।

শ্রদ্ধা জানাতে আসে ইডেন মহিলা কলেজ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ছায়ানট, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, টিআইবি, বাংলাদেশ স্কাউটস, উদীচী, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।

সংগঠনের বাইরে ব্যক্তিগতভাবেও অনেকেই এসেছেন। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ আবার শিশুদের হাত ধরে শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়েছেন। শিশুদের কাছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতেও দেখা গেছে অনেক অভিভাবককে।

ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার বলেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শুধু বইয়ে পড়ার বিষয় নয়, এটা আমাদের আত্মপরিচয়ের অংশ। প্রতি বছর এখানে এসে শ্রদ্ধা জানালে সেই ইতিহাসকে নতুন করে অনুভব করি।

ধানমন্ডি থেকে বাবা-মামার সঙ্গে আসা সিনথিয়া তামান্না (৯) বলে, আজ একুশে ফেব্রুয়ারি। যারা মায়ের ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে তাদের ফুল দিতে এসেছি।

রাজবাড়ী থেকে শ্রদ্ধা জানাতে আসা মতিউর বলেন, গত ১৭ বছরের শাসনামলে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। তিনি বলেন, জনগণ আর সেই পরিস্থিতিতে ফিরতে চায় না।

শ্রদ্ধা নিবেদনকারী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের মধ্যে ছিল– জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, এনডিএম, এবি পার্টি, জাতীয় পার্টি, বিজেপি, জেপি, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, জেএসডি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। এছাড়া ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্রমৈত্রীর নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন কলেজের পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পাশাপাশি জুলাই ঐক্য ও জুলাই মঞ্চসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।

এর আগে প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন প্রথমে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাত ১২টা ৮ মিনিটে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় মন্ত্রিসভার সদস্যরা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর পর বিএনপি ও জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

এরপরই সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জোটের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।