জনগণকে দেওয়া ওয়াদা পূরণ করতে পেরে আমরা আনন্দিত: প্রতিমন্ত্রী অমিত
স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
নির্বাচনের পূর্বে জনগণকে দেওয়া সবচেয়ে বড় ওয়াদা পূরণের মধ্য দিয়ে যশোরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো বিশেষ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ। একই সাথে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণে দফায় দফায় নানামুখী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি।
শনিবার দিনভর যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়ন, যশোর ইনস্টিটিউট এবং ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আয়োজিত পৃথক তিনটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
এদিন, দুপুরে যশোর সদরের চাঁচড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে দুই হাজার ৪২টি হতদরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত নারীপ্রধান পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে জেলায় এই পাইলট কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মা-বোনেদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আজকে আমাদের অত্যন্ত আনন্দের দিন। নির্বাচনের পূর্বে জনগণকে দেওয়া আমাদের সবচেয়ে বড় ওয়াদাটি আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি। আজ প্রায় ২০ হাজার ৪২ জন মা-বোন ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ২৫০০ টাকা করে পেয়েছেন। এটি শুধু তাদের জন্যই আনন্দের বার্তা বয়ে আনেনি। আমরা যারা রাজনৈতিক কর্মী, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য রাজনীতি করি, আমরা আমাদের কথা রাখতে পেরেছি বলে আমরাও অত্যন্ত আনন্দিত।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আপাতত ৪টি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মা-বোনেরা এই কার্ডের আওতায় এসেছেন। আগামীতে জনগণের দোয়া ও সমর্থন থাকলে সরকারের এই ৫ বছর মেয়াদেই যশোর সদরের ১৫টি ইউনিয়নের ১৩৫টি ওয়ার্ড এবং যশোর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডেই ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে।
বক্তব্যের শেষভাগে প্রতিমন্ত্রী ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও যুবকদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, এদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাঁদপুরে একটি বাটন ক্লিক করে দেশব্যাপী এই কার্যক্রমের সূচনা করার সাথে সাথেই যশোরের সুবিধাভোগী নারীরা তাদের বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টে ২৫০০ টাকা পেয়ে যান।
এর আগে সকালে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া প্রতিরোধে যশোর পৌর এলাকায় মাসব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। তিনি নিজেই যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরির পুকুরে নেমে এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সূচনা করেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার বিস্তার ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতি শনিবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় যশোর পৌর এলাকায় এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আমরা যদি আমাদের বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখতে পারি, তাহলে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়াসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। একই সাথে কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এ কার্যক্রমকে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিতভাবে চালিয়ে যেতে হবে।
জেলা প্রশাসন ও যশোর পৌরসভার সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম প্রমুখ।
দুপুরে যশোরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ষষ্ঠ তলার কনফারেন্স রুমে জেলা হাসপাতাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সভাপতি হিসেবে সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
সভায় জেলার স্বাস্থ্যসেবার সার্বিক উন্নয়ন, রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ, হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, চিকিৎসক ও জনবল সংকট নিরসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় প্রতিমন্ত্রী ও অন্যান্য বক্তারা হাসপাতাল সেবার মান বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বলেন, হাসপাতালের সেবার মান আরও উন্নত করতে চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সভায় সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সাবিরা নাজমুল মুন্নী, যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আবু হাসনাত মোঃ আহসান হাবীব, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোঃ হোসাইন শাফায়েতসহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।























