Jashore , Sunday, 1 November 2026
সর্বশেষ:
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে: শফিকুর রহমান টিকটকে নেতিবাচক কমেন্ট নিয়ে আশুগঞ্জে দুই গোষ্ঠীর দফায় দফায় সংঘর্ষ আরেকটি বিপ্লবের হুঁশিয়ারি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক মোল্যার প্রয়াণ, পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন কন্দাল ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি ও গবেষণা জোরদারে যশোরে আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত যশোর শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসির পাসের হার ৪৪.৯২%, জিপিএ-৫ ৩২২৮ মহিলা পরিষদ যশোরের নতুন সভাপতি আফরোজা বেগম, সম্পাদক কামরুন নাহার জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উপকরণের দাবিতে সতীঘাটায় হাটসভা তাহসিফের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত চান বাবা, এখনো হয়নি মামলা যশোর সীমান্তে ১৭ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

যশোরে খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে নতুন করে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এবার শ্বেতগঙ্গা খাল খনন কর্মসূচির প্রায় দুই লাখ টাকার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সামনে এসেছে।

জানা গেছে, শ্বেতগঙ্গা খাল খনন কর্মসূচির সভাপতি ছিলেন ইউপি সদস্য আব্দুল আলিম। কমিটির অন্যান্য সদস্য হলেন রুস্তম সর্দার, আয়ুব হোসেন ও আব্দুল ওহাব। কমিটির সদস্য আয়ুব হোসেন জানান, শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে তারা কাজ সম্পন্ন করেছেন। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর থেকে চার দিনব্যাপী পরিচালিত এ কর্মসূচিতে যথাক্রমে ৩১, ৩৫, ৪৫ ও ৪১ জন শ্রমিক কাজ করেন। প্রতিদিন ৫০০ টাকা হাজিরা হিসেবে মোট ১৫২ জন শ্রমিকের মজুরি বাবদ ব্যয় হয় ৭৬ হাজার টাকা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কাগজে-কলমে প্রকল্প পরিচালনা কমিটি থাকলেও প্রকল্পের পুরো অর্থ উত্তোলন করেন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজ উদ্যোগে প্রকল্প এনে ইউপি সদস্যকে দিয়ে কাজ করান। অথচ দুই লাখ টাকার প্রকল্পে প্রকৃত ব্যয় হয়েছে মাত্র ৭৬ হাজার টাকা। বাকি অর্থ কোথায় গেছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রকল্প কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য আব্দুল আলিম বলেন, “সচিব ফরহাদ হোসেন আমাকে জানান, এটি ইউনিয়ন পরিষদের নয়, উপজেলার অতিরিক্ত প্রকল্পের কাজ। এলাকার স্বার্থে কাজটি করতে বলেন। আমি সরল বিশ্বাসে খালি চেকে স্বাক্ষর করি। পরে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের জন্য তিনি আমাকে ৭৬ হাজার টাকা দেন। এছাড়া তিনি জানান, পিআইও অফিসের জন্য ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অবশিষ্ট টাকা কোথায় গেছে, তা আমার জানা নেই।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব ফরহাদ হোসেন বলেন, “এই প্রকল্প সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। আমি সেখানে কখনও যাইনি। এ বিষয়ে প্রকল্পের সভাপতির সঙ্গে কথা বলুন।”

এদিকে, ঝিকরগাছা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জালাল উদ্দীনের কার্যালয়ের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

বিষয়টি নিয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাইদ বলেন, “দুই লাখ টাকার কাজ কেউ ৭৬ হাজার টাকায় করলে আমাদের কিছু করার নেই। আমরা দেখি, আমাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ হয়েছে কি না।” সচিব ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠার পরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “লিখিত অভিযোগ না পেলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব নয়।”

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা সরকারি অর্থ অপচয় ও অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 05:05 pm, Tuesday, 9 June 2026
63 Time View

যশোরে খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ

Update Time : 05:05 pm, Tuesday, 9 June 2026

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে নতুন করে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এবার শ্বেতগঙ্গা খাল খনন কর্মসূচির প্রায় দুই লাখ টাকার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সামনে এসেছে।

জানা গেছে, শ্বেতগঙ্গা খাল খনন কর্মসূচির সভাপতি ছিলেন ইউপি সদস্য আব্দুল আলিম। কমিটির অন্যান্য সদস্য হলেন রুস্তম সর্দার, আয়ুব হোসেন ও আব্দুল ওহাব। কমিটির সদস্য আয়ুব হোসেন জানান, শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে তারা কাজ সম্পন্ন করেছেন। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর থেকে চার দিনব্যাপী পরিচালিত এ কর্মসূচিতে যথাক্রমে ৩১, ৩৫, ৪৫ ও ৪১ জন শ্রমিক কাজ করেন। প্রতিদিন ৫০০ টাকা হাজিরা হিসেবে মোট ১৫২ জন শ্রমিকের মজুরি বাবদ ব্যয় হয় ৭৬ হাজার টাকা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কাগজে-কলমে প্রকল্প পরিচালনা কমিটি থাকলেও প্রকল্পের পুরো অর্থ উত্তোলন করেন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজ উদ্যোগে প্রকল্প এনে ইউপি সদস্যকে দিয়ে কাজ করান। অথচ দুই লাখ টাকার প্রকল্পে প্রকৃত ব্যয় হয়েছে মাত্র ৭৬ হাজার টাকা। বাকি অর্থ কোথায় গেছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রকল্প কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য আব্দুল আলিম বলেন, “সচিব ফরহাদ হোসেন আমাকে জানান, এটি ইউনিয়ন পরিষদের নয়, উপজেলার অতিরিক্ত প্রকল্পের কাজ। এলাকার স্বার্থে কাজটি করতে বলেন। আমি সরল বিশ্বাসে খালি চেকে স্বাক্ষর করি। পরে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের জন্য তিনি আমাকে ৭৬ হাজার টাকা দেন। এছাড়া তিনি জানান, পিআইও অফিসের জন্য ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অবশিষ্ট টাকা কোথায় গেছে, তা আমার জানা নেই।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব ফরহাদ হোসেন বলেন, “এই প্রকল্প সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। আমি সেখানে কখনও যাইনি। এ বিষয়ে প্রকল্পের সভাপতির সঙ্গে কথা বলুন।”

এদিকে, ঝিকরগাছা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জালাল উদ্দীনের কার্যালয়ের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

বিষয়টি নিয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাইদ বলেন, “দুই লাখ টাকার কাজ কেউ ৭৬ হাজার টাকায় করলে আমাদের কিছু করার নেই। আমরা দেখি, আমাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ হয়েছে কি না।” সচিব ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠার পরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “লিখিত অভিযোগ না পেলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব নয়।”

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা সরকারি অর্থ অপচয় ও অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।