যশোর শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসির পাসের হার ৪৪.৯২%, জিপিএ-৫ ৩২২৮
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে বোর্ডের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ৫১০ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করলেও পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫০ হাজার ৬৬৮ জন। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ২৯ হাজার ১৬৬ জন এবং ছাত্র ২১ হাজার ৫০২ জন। পরীক্ষায় বহিষ্কৃত হয়েছে ৪৩ জন।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বিজ্ঞান বিভাগ। এ বিভাগে ২১ হাজার ৬৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৫ হাজার ১৬৭ জন। পাসের হার ৭০ দশমিক ০৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৮৫৮ জন।
মানবিক বিভাগে ৭৯ হাজার ১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩০ হাজার ১৯১ জন। পাসের হার ৩৮ দশমিক ২১ শতাংশ। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৬৫ জন।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১২ হাজার ১১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫ হাজার ৩১০ জন। পাসের হার ৪৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০৫ জন।
বোর্ডের অধীন ১০ জেলার ফলাফলে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে যশোর জেলা। এ জেলায় পাসের হার ৫২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। উত্তীর্ণ হয়েছে ১০ হাজার ৩৫৪ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে খুলনা জেলা, যেখানে পাসের হার ৪৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং উত্তীর্ণ হয়েছে ১০ হাজার ৫১১ জন।
এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গায় পাসের হার ৪৬ দশমিক ১৩ শতাংশ (৩ হাজার ১৫২ জন), কুষ্টিয়ায় ৪৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ (৬ হাজার ৮৩০ জন), সাতক্ষীরায় ৪৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ (৫ হাজার ৩৬ জন), ঝিনাইদহে ৪১ দশমিক ৯৮ শতাংশ (৬ হাজার ৩৩ জন), মেহেরপুরে ৪০ দশমিক ৭৬ শতাংশ (১ হাজার ৪৬০ জন), বাগেরহাটে ৩৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ (৩ হাজার ৬৭ জন) এবং মাগুরায় ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ (২ হাজার ৪৪৯ জন)। সবচেয়ে কম পাসের হার নড়াইল জেলায়। এ জেলায় পাসের হার ৩৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৭৭৬ জন।
বোর্ডের গত চার বছরের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৮৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩ হাজার ১২৭ জন। ২০২৪ সালে পাসের হার কমে দাঁড়ায় ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশে। ওই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩ হাজার ৩৮১ জন। ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৫০ দশমিক ২০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫ হাজার ৯৯৫ জন। আর ২০২৬ সালে পাসের হার আরও কমে হয়েছে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২২৮ জন।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম হোসেন আলীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। বোর্ড সূত্রে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীরা অনলাইন ও এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারছেন।






















