Jashore , Sunday, 1 November 2026
সর্বশেষ:
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে: শফিকুর রহমান টিকটকে নেতিবাচক কমেন্ট নিয়ে আশুগঞ্জে দুই গোষ্ঠীর দফায় দফায় সংঘর্ষ আরেকটি বিপ্লবের হুঁশিয়ারি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক মোল্যার প্রয়াণ, পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন কন্দাল ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি ও গবেষণা জোরদারে যশোরে আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত যশোর শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসির পাসের হার ৪৪.৯২%, জিপিএ-৫ ৩২২৮ মহিলা পরিষদ যশোরের নতুন সভাপতি আফরোজা বেগম, সম্পাদক কামরুন নাহার জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উপকরণের দাবিতে সতীঘাটায় হাটসভা তাহসিফের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত চান বাবা, এখনো হয়নি মামলা যশোর সীমান্তে ১৭ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

যশোরে বরেণ্য চারুশিল্পী মুস্তফা মনোয়ার স্মরণে ‘আগুনের পরশমণি’ অনুষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হলো বাংলাদেশের পুতুলনাট্যের জনক ও বরেণ্য চারুশিল্পী মুস্তফা মনোয়ারকে। ‘আগুনের পরশমণি’ শিরোনামে এই গুণী শিল্পীর জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নৃত্যাঞ্জলির আয়োজন করা হয়।

শুক্রবার বিকেলে যশোর শহরের ঐতিহ্যবাহী চারুপীট প্রাঙ্গণে এই স্মরণ সভার আয়োজন করে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পমনস্ক প্রতিষ্ঠান ‘চারুপীট আর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট, যশোর’। ১৯৩৬ সালে জন্ম নেওয়া এই প্রখ্যাত শিল্পীর ২০২৬ সালে চলে যাওয়াকে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেন বক্তারা।

চারুপীটের সভাপতি হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মাহবুব জামান শামীম, চারুপীটের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ, সাবেক অধ্যক্ষ মফিজুর রহমান রুন্নু, কার্যনির্বাহী সদস্য সায়দা বানু শিল্পী, সানজিদা ইসলাম চুম্পা, নৃত্য শিল্পী আতিকা সুলতানা, যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাহিন ইকবালসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে বরেণ্য এই শিল্পীর বর্ণাঢ্য জীবন ও শিল্পচর্চায় তাঁর অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বক্তারা বলেন, মুস্তফা মনোয়ার শুধু একজন চিত্রশিল্পীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন এদেশের পুতুলনাট্য (পাপেট) আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং শিশুতোষ শিল্পকলার বাতিঘর। তিনি তাঁর সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর সৃষ্টি ও দর্শন নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য আজীবন পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।

স্মরণ সভায় বক্তারা আরও বলেন, শিল্পের কোনো মরণ নেই। মুস্তফা মনোয়ার শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে না থাকলেও তাঁর রেখে যাওয়া চিত্রকর্ম, পাপেট আর্ট এবং বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে তাঁর অনন্য রূপরেখা চিরকাল বেঁচে থাকবে। সরকারের উচিত তাঁর অসাধারণ শিল্পকর্মগুলোকে জাতীয়ভাবে সংরক্ষণ করা। যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই মহান শিল্পীর সাধনা সম্পর্কে জানতে পারে। আলোচনা শেষে উপস্থিত সকলে প্রয়াত শিল্পীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন।

আলোচনা সভা শেষে বরেণ্য এই শিল্পীর প্রিয় কিছু কালজয়ী গানের সুরে এক আবেগঘন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল নৃত্যশিল্পী আতিকা সুলতানা ও তাঁর দলের পরিবেশনায় বিশেষ নৃত্যাঞ্জলি। ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ গানের সঙ্গে চমৎকার কোরিওগ্রাফির মাধ্যমে নাচের মুদ্রায় প্রয়াত শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানান শিল্পীরা।

অনুষ্ঠানে চারুপীটের শিক্ষার্থী এবং সাধারণ সাংস্কৃতিক অনুরাগী উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 08:50 pm, Friday, 3 July 2026
60 Time View

যশোরে বরেণ্য চারুশিল্পী মুস্তফা মনোয়ার স্মরণে ‘আগুনের পরশমণি’ অনুষ্ঠান

Update Time : 08:50 pm, Friday, 3 July 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হলো বাংলাদেশের পুতুলনাট্যের জনক ও বরেণ্য চারুশিল্পী মুস্তফা মনোয়ারকে। ‘আগুনের পরশমণি’ শিরোনামে এই গুণী শিল্পীর জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নৃত্যাঞ্জলির আয়োজন করা হয়।

শুক্রবার বিকেলে যশোর শহরের ঐতিহ্যবাহী চারুপীট প্রাঙ্গণে এই স্মরণ সভার আয়োজন করে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পমনস্ক প্রতিষ্ঠান ‘চারুপীট আর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট, যশোর’। ১৯৩৬ সালে জন্ম নেওয়া এই প্রখ্যাত শিল্পীর ২০২৬ সালে চলে যাওয়াকে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেন বক্তারা।

চারুপীটের সভাপতি হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মাহবুব জামান শামীম, চারুপীটের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ, সাবেক অধ্যক্ষ মফিজুর রহমান রুন্নু, কার্যনির্বাহী সদস্য সায়দা বানু শিল্পী, সানজিদা ইসলাম চুম্পা, নৃত্য শিল্পী আতিকা সুলতানা, যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাহিন ইকবালসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে বরেণ্য এই শিল্পীর বর্ণাঢ্য জীবন ও শিল্পচর্চায় তাঁর অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বক্তারা বলেন, মুস্তফা মনোয়ার শুধু একজন চিত্রশিল্পীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন এদেশের পুতুলনাট্য (পাপেট) আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং শিশুতোষ শিল্পকলার বাতিঘর। তিনি তাঁর সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর সৃষ্টি ও দর্শন নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য আজীবন পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।

স্মরণ সভায় বক্তারা আরও বলেন, শিল্পের কোনো মরণ নেই। মুস্তফা মনোয়ার শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে না থাকলেও তাঁর রেখে যাওয়া চিত্রকর্ম, পাপেট আর্ট এবং বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে তাঁর অনন্য রূপরেখা চিরকাল বেঁচে থাকবে। সরকারের উচিত তাঁর অসাধারণ শিল্পকর্মগুলোকে জাতীয়ভাবে সংরক্ষণ করা। যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই মহান শিল্পীর সাধনা সম্পর্কে জানতে পারে। আলোচনা শেষে উপস্থিত সকলে প্রয়াত শিল্পীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন।

আলোচনা সভা শেষে বরেণ্য এই শিল্পীর প্রিয় কিছু কালজয়ী গানের সুরে এক আবেগঘন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল নৃত্যশিল্পী আতিকা সুলতানা ও তাঁর দলের পরিবেশনায় বিশেষ নৃত্যাঞ্জলি। ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ গানের সঙ্গে চমৎকার কোরিওগ্রাফির মাধ্যমে নাচের মুদ্রায় প্রয়াত শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানান শিল্পীরা।

অনুষ্ঠানে চারুপীটের শিক্ষার্থী এবং সাধারণ সাংস্কৃতিক অনুরাগী উপস্থিত ছিলেন।