যশোর সদরের যুবদল নেতা বিপুলের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের বাঘারপাড়ায় প্রকাশ্যে যুবদল নেতা রুবেল হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সভাপতি বিপুল কুমার ঘোষের (৩৫) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা যশোর ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক রহস্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গত শুক্রবার সকালে স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগ, গত ১৫ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিপুলকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় কয়েকজন যুবক। এরপর তাকে পাশের একটি শ্মশানে আটকে রেখে রাতভর নির্মম নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনকারীরা বিপুলের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা না দিলে প্রাণনাশসহ তার বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।
পরিবারের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি রাজনৈতিক পক্ষের আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে। ঘটনার রাতে ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন নেতা বিপুলের বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে আশ্বস্ত করলেও পরদিন সকালে ঝিনাইদহের বারোবাজারে রেললাইনের পাশে বিপুলের রক্তাক্ত মরদেহ মেলার খবর আসে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, পরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ডকে এখন আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে একটি মহল তৎপর রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের একটি পক্ষ পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং চাঁদা দাবির ঘটনার সঙ্গে তাদের কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে, একই দলের আরেকটি পক্ষ ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন। এই দুই পক্ষের অভিযোগ, প্রভাবশালী ওই মহলটি বিপুলের পরিবারকে মামলা না করার জন্য বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেখাচ্ছে। ফলে বিপুল কুমার ঘোষের মৃত্যুকে ঘিরে জেলাজুড়ে নানা প্রশ্ন ও রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে।
এই বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের পরিবার যদি এই বিষয়ে কোনো আইনি সহায়তা চায়, তবে পুলিশ অবশ্যই তাদের পাশে থাকবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেবে।













