নদী দখলমুক্ত ও জলাবদ্ধতা নিরসনে জেলা প্রশাসকের কঠোর নির্দেশনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে নদ-নদী রক্ষা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নদী রক্ষা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কমলেশ মজুমদারের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। সভায় জেলা প্রশাসক নদী খনন ও পলি অপসারণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে যেকোনো মূল্যে শতভাগ কাজ নিশ্চিতের তাগিদ দেন। তিনি বলেন, জলমহলের পাশে অবিলম্বে ৩০ হাজার বৃক্ষরোপণ নিশ্চিত করতে হবে এবং আমডাঙ্গা খালের নকশা বা অ্যালাইনমেন্ট পরিবর্তনের যে প্রস্তাব বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে, তার চূড়ান্ত অনুমোদন ত্বরান্বিত করতে হবে। এছাড়া জেলার ক্লিনিকে হেলথ কার্ড শতভাগ প্রস্তুত এবং ৬টি নদীর হেলথ কার্ড তৈরির কাজ দ্রুত সম্পন্নের নির্দেশ দেন তিনি।
নদীর সীমানা ও ইজারা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক স্পষ্ট জানান, দড়াটানা হতে কাঠের পুল পর্যন্ত নদীর সীমানা নির্ধারণ কাজ শেষ হয়েছে। কোনো ঘের মালিক সরকারি রাস্তা ঘেরের পাড় হিসেবে ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মৎস্য কর্মকর্তাকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে, ভৈরব পার্ক ইজারা দেওয়া এবং দর্শনার্থীদের কাছ থেকে ফি নির্ধারণের প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি সম্পদের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সাধারণ মানুষের ওপর ফি আরোপ কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি নিয়ে পরে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, হাইটেক পার্ক সংলগ্ন ভরাট হওয়া পুকুরের পাশে পাইপ বসিয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নেয় পৌরসভা। এছাড়া নওয়াপাড়া নদীবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের উন্নীতকরণ এবং নদের কচুরিপানা সমস্যা সমাধানে উপজেলা ও পৌরসভার উন্নয়ন ফান্ড থেকে ১ শতাংশ অর্থ ব্যয় করে লবণ প্রয়োগ বা অপসারণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
সভায় যশোরের বিভিন্ন নদ-নদী ও খালের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা বক্তব্য প্রদান করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি জানান, খর্ণিয়া এলাকায় ভাসমান এসকেভেটর দিয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ মিটার নদী খনন করতে পারলে ওই অঞ্চলের জলাবদ্ধতা বহুলাংশে কমে আসবে। ইতোমধ্যে একটি মেশিন চালু রয়েছে এবং দ্রুতই আরও একটি ভাসমান মেশিন সেখানে যুক্ত হবে। এছাড়া মনিরামপুরের পলাশী খাল ভূমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে খনন করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান।
পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী আরে জানান, গতানুগতিক খননের বাইরে এখন নদীর পাড়ে সাধারণ মানুষের বসার স্থান ও সৌন্দর্যবর্ধনের নতুন প্রজেক্ট হাতে নেওয়া হচ্ছে। বাওড় খনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের সুবিধার্থে দ্রুত ডাটা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
সামাজিক বনায়নের প্রতিনিধি অনিতা মন্ডল জানান, উলশী খালের পাড়ে ৩০ হাজার গাছের চারা রোপণের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।
বাঘারপাড়া ও মনিরামপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ জানান, নদী খননের পর পাড়ে মাটি রাখায় কিছু স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং মনিরামপুরে স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক বাধার কারণে নিলাম হওয়া মাটি বিক্রি আটকে আছে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভূপালি সরকার, কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুনসহ জেলার নদী রক্ষা কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।













