যশোরে জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন ড্রেনেজ ও নদী ডাইভারশন প্ল্যান
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর শহরের দীর্ঘদিনের অভিশাপ জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী সমন্বিত বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। শহরের জমা পানি দ্রুত নিষ্কাশনে চারটিরও বেশি নতুন ড্রেনেজ পয়েন্ট তৈরি, উজান থেকে আসা পানির বাধা অপসারণ এবং বুয়েটের প্রকৌশল সার্ভেকে কাজে লাগিয়ে বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শে টেকসই সমাধান বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার যশোর পৌর মিলনায়তনে ‘দৈনিক গ্রামের কাগজ’ এবং সামাজিক সংগঠন ‘জনউদ্যোগ, যশোর’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘যশোর শহরের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মো. রফিকুল হাসান।
গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা উল্লেখ করেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে শহরের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ এখনো পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে। উজান বা উচ্চতর এলাকা থেকে আসা পানি চলাচলের পথে অপউজড জায়গা ও বিভিন্ন ধরণের স্থায়ী প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বিশেষ করে পানি বের হওয়ার পথে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থাকায় আইনি ও সরকারি জটিলতায় ড্রেন বা নালা নির্মাণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে যশোর মেডিক্যাল কলেজ মোড় ও সংলগ্ন এলাকা থেকে আসা পানির প্রবাহ আটকে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় দীর্ঘমেয়াদী পানি জমে থাকছে।
পৌরসভা ও গোলটেবিল আলোচনার তথ্য অনুযায়ী, শহরের বাবলাতলা ও শংকরপুরসহ পানিবন্দি এলাকাগুলোর পানি দ্রুত সরাতে ৪টি কৌশলগত পয়েন্ট দিয়ে নতুন ড্রেনেজ লাইন সংস্কার ও কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেডিক্যাল কলেজের ড্রেন হয়ে আসা পানি সরাসরি ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পাশ দিয়ে ঘুরে কোল্ড স্টোরেজ এলাকা হয়ে মূল ক্রসিং পয়েন্টে যাবে। এছাড়া আকিক ট্রেডার্স-এর পাশ দিয়ে, শংকরপুর বাস স্ট্যান্ডের নিচ দিয়ে এবং বাবলাতলার নির্ধারিত অংশসহ মোট ৪টি পয়েন্ট দিয়ে পানি বের করে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পানিকে শুধু হরিনার বিলে আটকে না রেখে রাস্তার পাশ দিয়ে বড় ড্রেন বা ক্যানাল তৈরি করে হরিনার খাল হয়ে সরাসরি মুক্তেশ্বরী ও ভৈরব নদীতে ডাইভার্ট করে নিয়ে যাওয়া হবে।
বাস স্ট্যান্ড ও হরিণাপাড়ার ঘের মালিক এবং স্থানীয়রা আশ্বাস দিয়েছেন যে, চলতি মাছ চাষের সিজন শেষে পানি বের হওয়ার সুবিধার্থে তাঁরা পাকা ড্রেন নির্মাণের জন্য জমি ছেড়ে দেবেন। একই সাথে ৩টি প্রধান সড়ক ও ড্রেনেজ সমস্যা নিরসনে সরকারের সংশ্লিষ্ট ৩টি সরকারি দপ্তরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
২০১৮-১৯ সালে বুয়েট পরিচালিত প্রযুক্তিগত সার্ভে রিপোর্টকে কাজে লাগিয়ে একটি বিশেষজ্ঞ টিম নিয়োগ করা হচ্ছে। ড্রেন নির্মাণের পর কত দ্রুত পানি সরছে তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে পানি সরার সময় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা হবে।
আলোচকরা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, শহরের এই ড্রেনেজ চ্যানেল ও ক্যানাল রুট সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে যশোর শহরের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ভবদহ অঞ্চল এবং সংলগ্ন বিলগুলোর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী নিরসন সম্ভব হবে।













