Jashore , Saturday, 31 October 2026
সর্বশেষ:
মহিলা পরিষদ যশোরের নতুন সভাপতি আফরোজা বেগম, সম্পাদক কামরুন নাহার জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উপকরণের দাবিতে সতীঘাটায় হাটসভা তাহসিফের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত চান বাবা, এখনো হয়নি মামলা যশোর সীমান্তে ১৭ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ খোকনের মৃত্যুতে ৮৫ ফ্রেন্ডস ক্লাবের দোয়া মাহফিল দেশবিরোধী চুক্তি প্রতিহত করার ঘোষণা বামপন্থী নেতাদের অনুমোদন জটিলতায় ১ নভেম্বর চালু হচ্ছে না সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ কর্মী নেওয়ার খবর নাকচ করল জাপান যশোরে পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিট চালুর পথে তুরাগ নদ থেকে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার: কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

‘একাত্তরে কসাই টিক্কা খানের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন গোলাম আযমরা’

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, “১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন নেতা গোলাম আযমসহ একদল রাজনীতিবিদ ‘কসাই’ খ্যাত জেনারেল টিক্কা খানের সঙ্গে বৈঠক করে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তারা ৪৭-কেও মানেন নাই, ৭১-কেও মানেন নাই। অথচ আজ ৪৭-এর বলিদান নিয়ে কথা বলেন।”

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিনে অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিকালের অধিবেশনের এই পর্যায়ে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।

মন্ত্রী তার বক্তব্যে একাত্তরের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, “৭১-এর ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন রাজারবাগে পুলিশ হত্যা করে বিভীষিকা তৈরি করেছিল, জাতি যখন দিশেহারা, তখন আমরা মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা শুনে উজ্জীবিত হয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখজনক হলো, তখন গোলাম আযমসহ কিছু রাজনীতিবিদ টিক্কা খানের সঙ্গে বৈঠক করে বাঙালি দমনে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিলেন।”

টুকু বলেন, “১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল এবং পরবর্তীকালে গোলাম আযম ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে গভর্নর হাউসে টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করেন। তারা শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনী গঠন করে মুক্তিকামী বাঙালিদের ওপর অপরাধ চালিয়েছেন। এটা ইতিহাসের ধ্রুব সত্য।”

মন্ত্রী বলেন, “একাত্তর বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের গর্বের জায়গায়, একাত্তর না হলে আমরা আজকে এই পার্লামেন্টে বসতে পারতাম না। একাত্তর না হলে আমরা কেউ সংসদ সদস্য হতে পারতাম না। একাত্তর না হলে আমরা এই দেশের মন্ত্রী হতে পারতাম না। তাই আমি বলবো— যারা বলেন সাতচল্লিশ। তারা ৪৭-কেও মানেন নাই, ৭১-কেও মানেন নাই। অথচ আজ ৪৭-এর বলিদান নিয়ে কথা বলেন। সাতচল্লিশ তারা কেন নিয়ে আসেন— আমি বুঝি না।”

জ্বালানি পরিস্থিতি   

দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “কিছুদিন আগেও পেট্রোল ও বিদ্যুৎ নিয়ে জনমনে উদ্বেগ ছিল। বিরোধী দলের সদস্যরাও এই নিয়ে কথা বলেছিলেন। কিন্তু আল্লাহর রহমতে এখন আর পেট্রোলের লাইন নেই, বিদ্যুতের লোডশেডিংও অনেক কমে গেছে। আমরা সরকারি ও বিরোধী দল মিলে কমিটি করেছি, দেশটাকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা নিরলস কাজ করছি।”

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 06:08 pm, Thursday, 30 April 2026
68 Time View

‘একাত্তরে কসাই টিক্কা খানের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন গোলাম আযমরা’

Update Time : 06:08 pm, Thursday, 30 April 2026

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, “১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন নেতা গোলাম আযমসহ একদল রাজনীতিবিদ ‘কসাই’ খ্যাত জেনারেল টিক্কা খানের সঙ্গে বৈঠক করে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তারা ৪৭-কেও মানেন নাই, ৭১-কেও মানেন নাই। অথচ আজ ৪৭-এর বলিদান নিয়ে কথা বলেন।”

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিনে অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিকালের অধিবেশনের এই পর্যায়ে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।

মন্ত্রী তার বক্তব্যে একাত্তরের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, “৭১-এর ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন রাজারবাগে পুলিশ হত্যা করে বিভীষিকা তৈরি করেছিল, জাতি যখন দিশেহারা, তখন আমরা মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা শুনে উজ্জীবিত হয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখজনক হলো, তখন গোলাম আযমসহ কিছু রাজনীতিবিদ টিক্কা খানের সঙ্গে বৈঠক করে বাঙালি দমনে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিলেন।”

টুকু বলেন, “১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল এবং পরবর্তীকালে গোলাম আযম ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে গভর্নর হাউসে টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করেন। তারা শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনী গঠন করে মুক্তিকামী বাঙালিদের ওপর অপরাধ চালিয়েছেন। এটা ইতিহাসের ধ্রুব সত্য।”

মন্ত্রী বলেন, “একাত্তর বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের গর্বের জায়গায়, একাত্তর না হলে আমরা আজকে এই পার্লামেন্টে বসতে পারতাম না। একাত্তর না হলে আমরা কেউ সংসদ সদস্য হতে পারতাম না। একাত্তর না হলে আমরা এই দেশের মন্ত্রী হতে পারতাম না। তাই আমি বলবো— যারা বলেন সাতচল্লিশ। তারা ৪৭-কেও মানেন নাই, ৭১-কেও মানেন নাই। অথচ আজ ৪৭-এর বলিদান নিয়ে কথা বলেন। সাতচল্লিশ তারা কেন নিয়ে আসেন— আমি বুঝি না।”

জ্বালানি পরিস্থিতি   

দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “কিছুদিন আগেও পেট্রোল ও বিদ্যুৎ নিয়ে জনমনে উদ্বেগ ছিল। বিরোধী দলের সদস্যরাও এই নিয়ে কথা বলেছিলেন। কিন্তু আল্লাহর রহমতে এখন আর পেট্রোলের লাইন নেই, বিদ্যুতের লোডশেডিংও অনেক কমে গেছে। আমরা সরকারি ও বিরোধী দল মিলে কমিটি করেছি, দেশটাকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা নিরলস কাজ করছি।”