‘১৭ বছরের জঞ্জাল একরাতে মুছবে না, রাষ্ট্র সংস্কারের সময় দিন’: নার্গিস বেগম
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেছেন, জনগণের বিপুল রায়ে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে যথাযথ সংস্কারের মাধ্যমেই রাষ্ট্রকে নতুন করে গড়ে তোলা হবে।
বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক আচরণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারের বিরোধিতা করছেন, তাদের বলব গঠনমূলক রাজনীতিতে আসুন। আমাদের হাতে কোনো আলাদিনের চেরাগ নেই যে ঘষা দিলেই রাতারাতি সব বদলে যাবে। বিগত ১৭ বছরের রেখে যাওয়া জঞ্জাল সরাতে সময়ের প্রয়োজন। আসুন, হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনে হাত বাড়াই।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত এক উত্তাল গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শুক্রবার শহরের চৌরাস্তা মোড়ে আয়োজিত এই গণসমাবেশে প্রখর তাপদাহ ও প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে জেলার ১৬টি সাংগঠনিক ইউনিটের হাজার হাজার নেতাকর্মী প্রকাণ্ড মিছিল নিয়ে যোগ দেন। এতে পুরো এলাকা উৎসব ও দাবির নগরীতে পরিণত হয়।
জনগণের তোপের মুখে শেখ হাসিনার পতনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, এ দেশের আপামর জনগণ যেভাবে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে বিতাড়িত করেছে, ঠিক সেভাবেই তার সকল অন্যায়-অপকর্মের বিচার নিশ্চিত করা হবে। বর্তমান তারেক রহমানের সরকার ‘ধর তক্তা মার পেরেক’ নীতিতে বিশ্বাসী নয়। সরকার সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক উপায়ে দেশ চালাচ্ছে। দেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছে। কেবল শেখ হাসিনা নন, তাঁর সুবিধাভোগী দোসরদেরও আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, জবাবদিহিমূলক, বৈষম্যহীন, ন্যায়বিচারভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের যে অঙ্গীকার আমরা করেছিলাম, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তা বাস্তবায়নের কাজ জোরদার করেছেন।
রাজনীতিতে নানা চক্রান্ত ও হুমকির কড়া জবাব দিয়ে বিএনপির এই প্রবীণ নেত্রী বলেন, আজকে যারা বিরোধী অবস্থানে থেকে বিএনপিকে হুমকি দিচ্ছেন, তাদের বলে রাখি হুমকি দিয়ে বিএনপিকে দমানো যাবে না। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং মানুষের বাক-স্বাধীনতা রক্ষার ইতিহাস নিয়ে বিএনপির জন্ম। সব সংকট মোকাবিলা করার শক্ত ভিত্তি আমাদের আছে। যারা আজকে বড় বড় কথা বলছেন, অতীতে তাদের অনেকেই প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে ফ্যাসিস্টদের সাথে আঁতাত করে কারো না কারো কাঁধে ভর দিয়ে রাজনীতিতে টিকে ছিলেন।
গণসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী এমপি।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সালের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব রাজিদুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু ও সাধারণ সম্পাদক (জেলা পরিষদের প্রশাসক) দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি সরদার নুরুজ্জামান, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনসারুল হক রানা ও জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলী হায়দার রানা ও নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা তরফদার রয়েল।
এ ছাড়া চৌগাছা, কেশবপুর, মনিরামপুর, শার্শা, অভয়নগর ও বাঘারপাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ গণসমাবেশে বক্তব্য দেন এবং শেখ হাসিনাসহ তার দোসরদের ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করার জোর দাবি জানান।





























