নিজস্ব প্রতিবেদক
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দুই দিনব্যাপী ‘জুলাই উৎসব’ শুরু হয়েছে। যশোর সংস্কৃতি কেন্দ্রের উদ্যোগে ‘লাল জুলাইয়ের সেই উত্তাল দিন, রক্তে নাচুক ঢেউ, বাজাও সে বীণ’ স্লোগানকে সামনে রেখে বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৩টায় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ঐতিহাসিক ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের মাধ্যমে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুলাই বিপ্লবের শহীদ আব্দুল্লাহর পিতা আব্দুল জব্বার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও যশোর সংস্কৃতি কেন্দ্রের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক গোলাম রসুল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ গোলাম রসুল ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ২৪-এর গণবিপ্লবে ফ্যাসিবাদ মুক্তকরণ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের জন্য হাজারো তরুণ জীবন দিয়েছিল। কিন্তু মাত্র দুই বছরের মাথায় জাতি যেন সাড়ে ১৫ বছরের সেই চরম নির্যাতন ও নিষ্পেষণের ইতিহাস ভুলে যাচ্ছে। যে বৈষম্যহীন মানবিক ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে তরুণরা রক্ত দিয়েছিল, আজকে সর্বত্র আবারও সেই দলীয়করণ ও বৈষম্য শুরু হয়েছে।
সংস্কৃতিক অঙ্গনে সরকারি বরাদ্দের বৈষম্য তুলে ধরে তিনি বলেন, যশোরের রেজিস্টার্ড প্রায় ৫৬টি সাংস্কৃতিক সংগঠন অর্থ বরাদ্দ পেলেও যশোর সংস্কৃতি কেন্দ্র বা ফুলকড়ির মতো শিশু সংগঠনকে একটি টাকাও দেওয়া হয়নি। অথচ বিগত সাড়ে ১৫ বছর যারা ফ্যাসিবাদী সরকারকে টিকিয়ে রাখতে কাজ করেছে, সেই উদীচীর মতো সংগঠনকে সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে দলীয়করণের তীব্র সমালোচনা করে তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এডহক কমিটি গঠন, ফ্যামিলি কার্ড সুমারির রেজাল্ট বাতিল করে নিজেদের লোক বসানো এবং সরকারি বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের এমপিদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। এভাবে ক্ষমতার দাপট ও দলীয়করণ চালাতে থাকলে ইতিহাস কাউকে ছাড় দেবে না। ফ্যাসিবাদী সরকার ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়নি, কিন্তু ইতিহাস তাদের শিক্ষা দিয়েছে।
বর্তমান সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে গোলাম রসুল বলেন, আবু সাঈদ যদি ১৬ই জুলাই বুকের ছাতি পেতে না দিতেন, তবে আজকে যারা ক্ষমতায় বা এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন, তারা কেউ এই জায়গায় আসতে পারতেন না। আবু সাঈদের রক্ত ও ত্যাগের অনুভূতি যদি আমরা ভুলে যাই, তবে এ দেশে আবারও জুলাই ফিরে আসবে। তরুণরা আবারও লড়াই করে অধিকার ছিনিয়ে আনবে।
যশোর সংস্কৃতি কেন্দ্রের সদস্য সচিব অধ্যাপক আবুল হাশিম রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহা: কামরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, মাতবউদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান এবং যশোর সরকারি এম এম কলেজের সাবেক ভিপি আব্দুল কাদেরসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, দুই দিনব্যাপী এই উৎসবে আলোচনা সভা, জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিচারণ, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী, ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নাটক পরিবেশিত হবে।

Reporter Name 




















