Jashore , Tuesday, 3 November 2026
সর্বশেষ:
কাশিমপুর থানা ঘেরাও ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ: টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডে শ্রমিক ছত্রভঙ্গ যশোরে পাঁচফোড়নকে ১ লাখ ও ফার্মেসিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আওয়ামী লীগের নাশকতার ষড়যন্ত্র প্রতিহতের ঘোষণায় যশোরে বিক্ষোভ গার্মেন্টস শ্রমিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে যশোরে বিক্ষোভ সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও অপরাধ দমনে বিজিবি-বিএসএফের সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন: জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে যশোরে স্মারকলিপি পরকীয়া আড়াল করতেই জোড়া খুন! যশোরে বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধার যশোর হাসপাতালে স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের চেষ্টায় নারী আটক অভয়নগরে পুলিশের হাত থেকে মৎস্যজীবী লীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিলেন বিএনপি নেতা!

কেশবপুরের চাঞ্চল্যকর হত্যায় গ্রেফতার ২

পরকীয়া আড়াল করতেই জোড়া খুন!

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালী গ্রামের ব্রাক্ষণডাঙ্গা এলাকায় চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগম (৩৮) ও মোস্তফা কামাল (৪৫) নামের দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা মাগুরখালী সর্দারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঁচিও উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মনিরামপুর সার্কেল এর সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে সহকারী পুলিশ সুপার জানান, গত শুক্রবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে কেশবপুর থানার ব্রাক্ষণডাঙ্গা গ্রামের জনৈক প্রভাত বিশ্বাসের ধানি জমিতে সেচ মেশিনের পানি পড়ার স্থান থেকে অজ্ঞাতনামা দুই জনের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় গ্রামবাসীদের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশ পিবিআই এর মাধ্যমে লাশের পরিচয় শনাক্ত করে।

নিহতরা হলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী আলেক নুর ইসলাম ও মাজেদা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর নিহতের মেয়ে সাবিনা খাতুন বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।

মামলার পর কেশবপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা নজরদারি ও বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত জেসমিন বেগমকে গ্রেফতার করে। পরবর্তী সময়ে প্রাপ্ত তথ্য ও তদন্তের সূত্রে অপর আসামি মোস্তফা কামালকেও আইনের আওতায় আনা হয়।

তিনি আরও বলেন জিজ্ঞাসাবাদ ও আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার মিল বন্ধ থাকায় আসামি জেসমিন বেগম ও নিহত মাজেদা ঘাস কাটার উদ্দেশ্যে মাঠে যান। পূর্বপরিচিত মোস্তফা কামালের সাথে জেসমিনের দীর্ঘ ৪-৫ মাস ধরে অনৈতিক সম্পর্ক চলে আসছিল। ঘটনার দিন মাঠে পৌঁছানোর পর মোস্তফার সাথে তাদের দেখা হয়। একপর্যায়ে মাজেদা তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে জেসমিনের নাম ধরে ডাক দিলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

ঘটনা জানাজানির ভয়ে মোস্তফা ও জেসমিন কৌশলে মাজেদা ও আলেককে কলমি শাক তোলার কথা বলে ঘেরের পাশে নিয়ে যায়। পথিমধ্যে তালতলার ভেড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে মোস্তফা তার হাতে থাকা পাসনি দিয়ে আলেক নুর ইসলামের বগলের নিচে ও মাথায় আঘাত করে। একই সময়ে জেসমিন মাজেদার ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে তাকে কলাগাছের আড়ালে ফেলে দেন।

সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক আরও বলেন, আলেক শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় এবং মোস্তফার পাসনির আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে পুরোনো সেলো মেশিনের গর্তে পড়ে যান এবং উঠতে পারেননি। অন্যদিকে মাজেদাকে গলায় ফাঁস দেওয়ার পরও নিশ্বাস নিতে দেখে ঘাতকরা আরও নৃশংস হয়ে ওঠে। তারা কাঁচি দিয়ে মাজেদার তলপেটে ও পায়ে উপর্যুপরি আঘাত করে নিশ্চিত মৃত্যুর জন্য সেলো মেশিনের গর্তে ফেলে দেয়। আলেক মারা যাওয়ার পর তার গায়ের গামছা দিয়ে মরদেহ ঢেকে দেওয়া হয় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঁচিটি ঘেরের পানিতে ধুয়ে ফেলে আলামত গোপনের চেষ্টা করা হয়। জোড়া এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 10 Hours Ago
15 Time View

কেশবপুরের চাঞ্চল্যকর হত্যায় গ্রেফতার ২

পরকীয়া আড়াল করতেই জোড়া খুন!

Update Time : 10 Hours Ago

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালী গ্রামের ব্রাক্ষণডাঙ্গা এলাকায় চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগম (৩৮) ও মোস্তফা কামাল (৪৫) নামের দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা মাগুরখালী সর্দারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঁচিও উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মনিরামপুর সার্কেল এর সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে সহকারী পুলিশ সুপার জানান, গত শুক্রবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে কেশবপুর থানার ব্রাক্ষণডাঙ্গা গ্রামের জনৈক প্রভাত বিশ্বাসের ধানি জমিতে সেচ মেশিনের পানি পড়ার স্থান থেকে অজ্ঞাতনামা দুই জনের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় গ্রামবাসীদের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশ পিবিআই এর মাধ্যমে লাশের পরিচয় শনাক্ত করে।

নিহতরা হলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী আলেক নুর ইসলাম ও মাজেদা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর নিহতের মেয়ে সাবিনা খাতুন বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।

মামলার পর কেশবপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা নজরদারি ও বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত জেসমিন বেগমকে গ্রেফতার করে। পরবর্তী সময়ে প্রাপ্ত তথ্য ও তদন্তের সূত্রে অপর আসামি মোস্তফা কামালকেও আইনের আওতায় আনা হয়।

তিনি আরও বলেন জিজ্ঞাসাবাদ ও আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার মিল বন্ধ থাকায় আসামি জেসমিন বেগম ও নিহত মাজেদা ঘাস কাটার উদ্দেশ্যে মাঠে যান। পূর্বপরিচিত মোস্তফা কামালের সাথে জেসমিনের দীর্ঘ ৪-৫ মাস ধরে অনৈতিক সম্পর্ক চলে আসছিল। ঘটনার দিন মাঠে পৌঁছানোর পর মোস্তফার সাথে তাদের দেখা হয়। একপর্যায়ে মাজেদা তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে জেসমিনের নাম ধরে ডাক দিলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

ঘটনা জানাজানির ভয়ে মোস্তফা ও জেসমিন কৌশলে মাজেদা ও আলেককে কলমি শাক তোলার কথা বলে ঘেরের পাশে নিয়ে যায়। পথিমধ্যে তালতলার ভেড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে মোস্তফা তার হাতে থাকা পাসনি দিয়ে আলেক নুর ইসলামের বগলের নিচে ও মাথায় আঘাত করে। একই সময়ে জেসমিন মাজেদার ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে তাকে কলাগাছের আড়ালে ফেলে দেন।

সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক আরও বলেন, আলেক শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় এবং মোস্তফার পাসনির আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে পুরোনো সেলো মেশিনের গর্তে পড়ে যান এবং উঠতে পারেননি। অন্যদিকে মাজেদাকে গলায় ফাঁস দেওয়ার পরও নিশ্বাস নিতে দেখে ঘাতকরা আরও নৃশংস হয়ে ওঠে। তারা কাঁচি দিয়ে মাজেদার তলপেটে ও পায়ে উপর্যুপরি আঘাত করে নিশ্চিত মৃত্যুর জন্য সেলো মেশিনের গর্তে ফেলে দেয়। আলেক মারা যাওয়ার পর তার গায়ের গামছা দিয়ে মরদেহ ঢেকে দেওয়া হয় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঁচিটি ঘেরের পানিতে ধুয়ে ফেলে আলামত গোপনের চেষ্টা করা হয়। জোড়া এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।