জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন: জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে যশোরে স্মারকলিপি
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিকাণ্ড ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জেলাজুড়ে এখনো তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার, জুলাইযোদ্ধাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং স্মৃতিস্তম্ভের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে এবার জোরালো অবস্থান নিয়েছেন জুলাইযোদ্ধারা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও যশোরের পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে পৃথক আবেদনপত্র ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ‘জুলাইযোদ্ধা সংগঠন’ যশোর জেলা শাখা।
সংগঠনটির আহ্বায়ক মো. আহাদ হোসাইন ও সদস্যসচিব মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব স্বাক্ষরিত আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ কেবল একটি সাধারণ স্থাপনা নয়; এটি গণ-অভ্যুত্থানের আত্মত্যাগ, অসীম সংগ্রাম ও শহীদদের স্মৃতির এক ঐতিহাসিক প্রতীক। এই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা সরাসরি জুলাইয়ের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর চরম আঘাত।
প্রতিমন্ত্রীর কাছে দেওয়া আবেদনপত্রে বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের প্রতি রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে জুলাইয়ের চেতনা ও জুলাইযোদ্ধাদের নিরাপত্তার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার, জুলাইযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা, জেলার সব জুলাই স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর যৌথ প্রতিবাদ কর্মসূচিসহ ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা।
অন্যদিকে, যশোরের পুলিশ সুপারের কাছে প্রদত্ত স্মারকলিপিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত দুষ্কৃতকারীদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা, স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সার্বক্ষণিক পুলিশি টহল-নজরদারি জোরদার করার দাবি জানানো হয়। এর পাশাপাশি জুলাইযোদ্ধাদের ওপর সম্ভাব্য হামলা, হুমকি ও যেকোনো হয়রানি প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্মৃতিস্তম্ভটি দ্রুত সংস্কারের জোর দাবি জানান তারা।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে জুলাইযোদ্ধা সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের গ্রেফতার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
















