কাশিমপুর থানা ঘেরাও ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ: টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডে শ্রমিক ছত্রভঙ্গ
স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) কাশিমপুর থানা ঘেরাও করে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েকটি টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এই সংঘর্ষে পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানা এলাকায় এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর এলাকায় ডিবিএল গ্রুপের একটি কারখানার শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। খবর পেয়ে কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা মোহাম্মদ খালিদ হোসেনসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন এবং অতর্কিত ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। পরিস্থিতির অবনতি দেখে পুলিশ পিছু হটলে একদল শ্রমিক তাদের ধাওয়া করেন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত দৌড়ে থানায় ফিরে আসেন। এরপর বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা থানার আশপাশে জড়ো হয়ে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন এবং একপর্যায়ে থানা ঘেরাও করেন। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় পুলিশ বাধ্য হয়ে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এই আকস্মিক ঘটনায় পুরো থানা ও আশপাশের এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পুলিশের অতিরিক্ত একাধিক টিম ঘটনাস্থলে যোগ দিয়ে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর পরপরই আন্দোলনকারীরা স্থান ত্যাগ করে চলে যান।
থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা ও সংঘর্ষের বিষয়ে কাশিমপুর থানার ওসি মোল্লা মোহাম্মদ খালিদ হোসেন জানান, আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কিছু দুষ্কৃতকারী যোগ দিয়ে থানার আশপাশে অবস্থান নেয়। বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা থানা এলাকা ছেড়ে না গিয়ে চড়াও হয়। পরে বাধ্য হয়ে পুলিশের একাধিক টিম টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।






















