যশোরে পাঁচফোড়নকে ১ লাখ ও ফার্মেসিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর শহরের পাঁচফোড়ন হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও নানা অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত। রান্নাঘরে মশা-মাছির উপদ্রব, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এবং একই ফ্রিজে রান্না করা খাবারের সঙ্গে কাঁচা মাংস সংরক্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমনা পালের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। একই দিনে পৃথক অভিযানে শহরের পালবাড়ি এলাকার বিশ্বাস ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়ার অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
অভিযানের শুরুতে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের দলটি শহরের এমকে রোডে অবস্থিত পাঁচফোড়ন রেস্টুরেন্টে এবং পরবর্তীতে বিমান অফিস রোডে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির রান্নাঘরে সরেজমিনে পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় রান্নাঘরে মশা-মাছির উপদ্রব, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং রান্নার কাজে নিয়োজিত কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে, একই ফ্রিজে রান্না করা খাবারের সঙ্গে কাঁচা মাংস সংরক্ষণ এবং অন্য একটি ফ্রিজে দীর্ঘদিনের পুরোনো বাসি মাংস পাওয়া যায়। এছাড়া রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ কর্মীদের স্বাস্থ্য সনদ, স্যানিটারি সনদ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রয়োজনীয় কোনো কাগজপত্রই দেখাতে পারেনি।
সার্বিক অনিয়মের দায়ে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক রেস্টুরেন্টটির কর্ণধার কংকন কুন্ডুকে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। তবে পরবর্তী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে জরিমানার টাকা পরিশোধ করার শর্তে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
এই অভিযانকালে শহরের দড়াটানায় অবস্থিত নিউ ভৈরব হোটেল ও জনি হোটেলেও অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে পরিবেশ ও কাগজপত্র যাচাই করে বড় কোনো অনিয়ম না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটির কর্তৃপক্ষকে প্রাথমিকভাবে সতর্ক করা হয়।
এদিকে পৃথক অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে শহরের পালবাড়ি মোড়ের বিশ্বাস ফার্মেসিতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ফার্মেসিটিতে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মজুত ও বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। অপরাধ স্বীকার করায় ফার্মেসির মালিক মাসুদ রানার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
অভিযানগুলোতে জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আব্দুর রহমান, সদর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মহিবুর রহমান, বেঞ্চ সহকারী হাফিজুর রহমানসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের ভেজালবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
















