Jashore , Wednesday, 4 November 2026
সর্বশেষ:
কাশিমপুর থানা ঘেরাও ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ: টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডে শ্রমিক ছত্রভঙ্গ যশোরে পাঁচফোড়নকে ১ লাখ ও ফার্মেসিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আওয়ামী লীগের নাশকতার ষড়যন্ত্র প্রতিহতের ঘোষণায় যশোরে বিক্ষোভ গার্মেন্টস শ্রমিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে যশোরে বিক্ষোভ সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও অপরাধ দমনে বিজিবি-বিএসএফের সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন: জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে যশোরে স্মারকলিপি পরকীয়া আড়াল করতেই জোড়া খুন! যশোরে বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধার যশোর হাসপাতালে স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের চেষ্টায় নারী আটক অভয়নগরে পুলিশের হাত থেকে মৎস্যজীবী লীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিলেন বিএনপি নেতা!

স্বামী-শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ, বিচার ও নিরাপত্তা দাবি

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন, যৌতুকের দাবিতে অত্যাচার, প্রতারণা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে বিচার ও নিরাপত্তা দাবি করেছেন ঢাকার বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা নার্গিস আক্তার খালেদা। বৃহস্পতিবার যশোর প্রেসক্লাব-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে নার্গিস আক্তার খালেদা জানান, ২০০৭ সালে যশোর জেলার রামনগর ইউনিয়নের মোবারককাঠি গ্রামের বাসিন্দা বদিয়ার রহমানের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর মধ্যে স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা আত্মসাৎ, ঋণ নিয়ে আত্মগোপন এবং তার স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ২০১২ সালের মার্চ মাসে সন্তান জন্মের কয়েকদিন আগে তার শাশুড়ি ও ভাসুর ঢাকার বাসা থেকে প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে যান। এ ঘটনায় তিনি খিলগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নার্গিস আক্তার আরও অভিযোগ করেন, ২০২১ সালে তার স্বামী প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যান। এছাড়া ২০২৪ সালে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তিনি স্বামীর একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয় জানতে পারেন। এর প্রতিবাদ করলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

তার অভিযোগ, স্বামী বদিয়ার রহমান, শাশুড়ি সুফিয়া বেগম, ভাসুর মশিয়ার গাজী, ননদ সালমা ও সালমার স্বামী মোস্তফাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে মারধর করেন এবং সন্তানকে ছিনিয়ে নেওয়ার হুমকি দেন।

ভুক্তভোগী আরও জানান, বাবার জমি বিক্রির প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনি শ্বশুরের জমিতে একটি বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। কিন্তু এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৯ মার্চ তার স্বামী তাকে তালাক দিয়ে আত্মগোপন করেন। পরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে ও তার সন্তানকে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় তিনি কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। তবে মামলার আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে তাকে ও তার সন্তানকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন নার্গিস আক্তার।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খালেদার ছেলে খালেদ রহান আলিফ ও মেয়ে রুবাইয়া রহমান।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 07:23 pm, Thursday, 14 May 2026
86 Time View

স্বামী-শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ, বিচার ও নিরাপত্তা দাবি

Update Time : 07:23 pm, Thursday, 14 May 2026

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন, যৌতুকের দাবিতে অত্যাচার, প্রতারণা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে বিচার ও নিরাপত্তা দাবি করেছেন ঢাকার বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা নার্গিস আক্তার খালেদা। বৃহস্পতিবার যশোর প্রেসক্লাব-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে নার্গিস আক্তার খালেদা জানান, ২০০৭ সালে যশোর জেলার রামনগর ইউনিয়নের মোবারককাঠি গ্রামের বাসিন্দা বদিয়ার রহমানের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর মধ্যে স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা আত্মসাৎ, ঋণ নিয়ে আত্মগোপন এবং তার স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ২০১২ সালের মার্চ মাসে সন্তান জন্মের কয়েকদিন আগে তার শাশুড়ি ও ভাসুর ঢাকার বাসা থেকে প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে যান। এ ঘটনায় তিনি খিলগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নার্গিস আক্তার আরও অভিযোগ করেন, ২০২১ সালে তার স্বামী প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যান। এছাড়া ২০২৪ সালে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তিনি স্বামীর একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয় জানতে পারেন। এর প্রতিবাদ করলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

তার অভিযোগ, স্বামী বদিয়ার রহমান, শাশুড়ি সুফিয়া বেগম, ভাসুর মশিয়ার গাজী, ননদ সালমা ও সালমার স্বামী মোস্তফাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে মারধর করেন এবং সন্তানকে ছিনিয়ে নেওয়ার হুমকি দেন।

ভুক্তভোগী আরও জানান, বাবার জমি বিক্রির প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনি শ্বশুরের জমিতে একটি বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। কিন্তু এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৯ মার্চ তার স্বামী তাকে তালাক দিয়ে আত্মগোপন করেন। পরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে ও তার সন্তানকে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় তিনি কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। তবে মামলার আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে তাকে ও তার সন্তানকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন নার্গিস আক্তার।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খালেদার ছেলে খালেদ রহান আলিফ ও মেয়ে রুবাইয়া রহমান।