Jashore , Monday, 2 November 2026
সর্বশেষ:
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে: শফিকুর রহমান টিকটকে নেতিবাচক কমেন্ট নিয়ে আশুগঞ্জে দুই গোষ্ঠীর দফায় দফায় সংঘর্ষ আরেকটি বিপ্লবের হুঁশিয়ারি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক মোল্যার প্রয়াণ, পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন কন্দাল ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি ও গবেষণা জোরদারে যশোরে আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত যশোর শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসির পাসের হার ৪৪.৯২%, জিপিএ-৫ ৩২২৮ মহিলা পরিষদ যশোরের নতুন সভাপতি আফরোজা বেগম, সম্পাদক কামরুন নাহার জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উপকরণের দাবিতে সতীঘাটায় হাটসভা তাহসিফের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত চান বাবা, এখনো হয়নি মামলা যশোর সীমান্তে ১৭ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের প্রয়াণ

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
এক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৩ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী আয়েশা সুলতানা, সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব রহমান রুহেলসহ তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের রাজনৈতিক জীবন ছিল আদর্শ ও ত্যাগের এক অনন্য উদাহরণ। তিনি চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে মোট সাতবার (১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

১৯৯৬ সালে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এবং ২০১৫ সালে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদানের জন্য ২০১৯ সালে তাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক’-এ ভূষিত করা হয়।

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে চট্টগ্রামের নৃশংসতা ঠেকাতে তিনি সাহসী ভূমিকা পালন করেন। ১ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে তার নেতৃত্বে বীর যোদ্ধারা শুভপুর ব্রিজ উড়িয়ে দিয়ে কুমিল্লা থেকে আসা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পথ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ভারত থেকে স্পেশাল ট্রেনিং নিয়ে তিনি দেশের অভ্যন্তরে বহু গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন পরিচালনা করেন।

১৯৪৩ সালে মিরসরাইয়ের ধুম ইউনিয়নে জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিবিদের পরিবার ছিল জনপ্রতিনিধিত্বের ঐতিহ্যবাহী। তিনি লাহোরের ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারিগরী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি সম্পন্ন করেন। লাহোরে পড়াশোনা অবস্থাতেই তিনি ৬ দফা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুতে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

মরহুমের প্রথম জানাজা বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১১টায় চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে। যোহরের নামাজের পর মিরসরাইয়ের ধুম ইউনিয়নে এস রহমান কলেজ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 04:12 pm, Wednesday, 13 May 2026
42 Time View

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের প্রয়াণ

Update Time : 04:12 pm, Wednesday, 13 May 2026

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
এক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৩ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী আয়েশা সুলতানা, সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব রহমান রুহেলসহ তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের রাজনৈতিক জীবন ছিল আদর্শ ও ত্যাগের এক অনন্য উদাহরণ। তিনি চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে মোট সাতবার (১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

১৯৯৬ সালে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এবং ২০১৫ সালে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদানের জন্য ২০১৯ সালে তাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক’-এ ভূষিত করা হয়।

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে চট্টগ্রামের নৃশংসতা ঠেকাতে তিনি সাহসী ভূমিকা পালন করেন। ১ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে তার নেতৃত্বে বীর যোদ্ধারা শুভপুর ব্রিজ উড়িয়ে দিয়ে কুমিল্লা থেকে আসা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পথ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ভারত থেকে স্পেশাল ট্রেনিং নিয়ে তিনি দেশের অভ্যন্তরে বহু গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন পরিচালনা করেন।

১৯৪৩ সালে মিরসরাইয়ের ধুম ইউনিয়নে জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিবিদের পরিবার ছিল জনপ্রতিনিধিত্বের ঐতিহ্যবাহী। তিনি লাহোরের ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারিগরী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি সম্পন্ন করেন। লাহোরে পড়াশোনা অবস্থাতেই তিনি ৬ দফা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুতে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

মরহুমের প্রথম জানাজা বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১১টায় চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে। যোহরের নামাজের পর মিরসরাইয়ের ধুম ইউনিয়নে এস রহমান কলেজ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।