শহীদ কমরেড দিপুসহ বামপন্থী নেতাদের স্মরণ করল বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
শহীদ কমরেড আবু বকর জাফরুদ্দৌলা দিপুসহ মুক্তিকামী বামপন্থী নেতাদের স্মরণ ও তাদের আদর্শের মূল্যায়ন নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে যশোরে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশি বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ যশোর জেলা সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম নেতা কমরেড তসলিম-উর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ।
এছাড়াও সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতা ও যশোর জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড নাজিম উদ্দিন শহীদ, কমরেড দিপুর ছোট ভাই আবুল বাশার সাইফউদ্দৌলা, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পরিষদের আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ এবং বিপ্লবী স্মৃতি রক্ষা কমিটির অন্যতম সদস্য ও লেখক মফিজুর রহমান রুন্নু।
আলোচনা সভায় বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধোত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বামপন্থীদের ঐতিহাসিক ভূমিকার নানা দিক তুলে ধরেন। এসময় বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যখন সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লড়াই গড়ে উঠছিল, ঠিক সেই সময় রক্ষীবাহিনীর হাতে এদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের অনেক বামপন্থী মুক্তিকামী মুক্তিযোদ্ধা ও নেতা প্রাণ হারান। শহীদ কমরেড দিপু, মহিউদ্দীন, হায়দার ও ঝর্ণারা যে শোষণমুক্ত সমাজ ও শ্রমজীবী-মেহনতি মানুষের বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, আজ পর্যন্ত তার বাস্তবায়ন হয়নি।
বক্তারা আরও বলেন, আজকের দিনে শহীদদের স্মরণ করে বক্তারা পুঁজিপতি ও সাম্রাজ্যবাদের নিকট নতজানু রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে একটি প্রকৃত জনকল্যাণমুখী ও শ্রমজীবী মানুষের দেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৪৫ সালে কৃষক বিদ্রোহের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও শহীদ আবু বকরের নামানুসারে ১৯৪৭ সালের ২৯ অক্টোবর জন্ম নেওয়া কমরেড দিপু ছাত্রজীবন থেকেই আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, এম এম কলেজের ছাত্র অধিকার আদায়ের লড়াই এবং ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (মেনন) সদর মহকুমা সভাপতি ও জেলা সম্মেলনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একাত্তরের কালরাত্রির পর নড়াইল ও যশোরের শালিখা, খাজুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় পার্টির প্রতিরোধ বাহিনীর হয়ে অস্ত্র হাতে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন কমরেড দিপু। শালিখা থানা আক্রমণসহ বহু ঐতিহাসিক অপারেশনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৭২ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত পুলিশ, রক্ষীবাহিনী ও মুজিববাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্যেও তিনি শ্রমিক-কৃষকের পক্ষে আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৭৪ সালের ৪ নভেম্বর কোরবানি ঈদের চার দিন আগে বাড়িতে মায়ের হাতের শেষ খাবার খেয়ে আসার পর কোটচাঁদপুরে পার্টির একটি গোপন সভায় রক্ষীবাহিনীর অতর্কিত আক্রমণে কমরেড দিপু, মহিউদ্দিন, হায়দার ও ঝর্ণাসহ অন্যকমরেডদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।






















