Jashore , Monday, 27 July 2026
সর্বশেষ:
আগামী সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর জাতীয় পর্বের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ কেশবপুরে সড়কে গতিরোধকের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন রোটারি ক্লাব অব যশোরের বৃক্ষরোপন কর্মসূচি ও ফলজ চারা বিতরণ চৌগাছায় ইয়াবাসহ যুবক আটক চৌগাছায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদকসহ আটক ১ এরশাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে যশোরে জেলা জাপা’র আলোচনা ও দোয়া মাহফিল নদী দখলমুক্ত ও জলাবদ্ধতা নিরসনে জেলা প্রশাসকের কঠোর নির্দেশনা গোপালগঞ্জে শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে মারধরের প্রতিবাদে যশোরে মানববন্ধন যশোরে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার স্বর্ণসহ পাচারকারী আটক

ঢাকায় আন্ডারওয়ার্ল্ডের দ্বন্দ্বে নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী যশোরের টিটন

  • Reporter Name
  • Update Time : 07:23 pm, Wednesday, 29 April 2026
  • 42 Time View

স্বাধীন কণ্ঠ ডেস্ক
আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে রাজধানীতে গুলিতে নিহত হয়েছেন দেশের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী নাইমুর হাসান টিটন (৫৭)।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য বলছে, যশোরের খড়কি এলাকা থেকে উঠে আসা এই সন্ত্রাসী নব্বইয়ের দশকে জোড়া হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকায় পাড়ি জমান। পরে তিনি গড়ে তোলেন শক্তিশালী অপরাধ নেটওয়ার্ক এবং জড়িয়ে পড়েন অস্ত্র ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে। টিটন তার অপরাধ জীবনের শুরু করে নব্বইয়ের দশকে। ২০২১ সালে সরকারের ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় ২ নম্বরে স্থান করে নেয় সে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকা কারাগার থেকে মুক্তি পায় টিটন।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, ১৯৯৯ সালে যশোর শহরের কারবালা এলাকায় মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় বিএনপি কর্মী মোসলেহ উদ্দিন খোকন ও টিপুকে। এই জোড়া হত্যাকাণ্ডে টিটন ও তার ভাই টুটুলের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। হত্যার কয়েক মাস পর, ২০০০ সালে র‍্যাবের কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হন টুটুল। এরপর টিটন ঢাকায় পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপনে থাকেন।

টিটনের বাড়ি যশোর শহরের খড়কি এলাকার ‘আপন মোড়’-এ। সাত ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে তিনি একজন। অল্প বয়সেই বড় ভাই টুটুলের ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, চাঁদাবাজি, জমি দখল, আধিপত্য বিস্তার, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধে তাদের দাপট ছিল।ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজেদুল ইসলাম ইমন ছিলেন টিটনের ভগ্নিপতি। তার মাধ্যমে টিটন বড় অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।

ঢাকায় গিয়ে মোহাম্মদপুর এলাকায় ঘাঁটি গড়ে তোলেন টিটন। সেখান থেকে তিনি শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, অস্ত্র চোরাচালানের জন্য যশোর-ঢাকা রুটে তার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ছিল। সীমান্তের অবৈধ পথ দিয়ে ভারতীয় অস্ত্র যশোর হয়ে ঢাকায় আনা হতো। সেখান থেকে তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ত। পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সঙ্গেও তার গভীর সম্পৃক্ততা ছিল।

টিটন একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা থাকলেও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বারবার রেহাই পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। মুক্তির পর আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠেন অপরাধ জগতে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত পৌনে ৮টার দিকে রাজধানীর নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন টিটন। ধারণা করা হচ্ছে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতার জেরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

টিটনের পিতা ফখরুদ্দিন খুলনার একটি জুটমিলে পদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। তার দুই স্ত্রী ছিল। বড় দুই ভাই রিপন ও তপন যশোরে থাকেন। অন্যরা দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করেন। পরিবার জানিয়েছে, টিটন অবিবাহিত ছিলেন। নিহতের বড় ভাই রিপন মরদেহ আনার জন্য ঢাকায় গেছেন। মরদেহ যশোরে এনে দাফন করা হবে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মাসুম খান বলেন, শুনেছি ঢাকায় নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসীর বাড়ি যশোরে। তবে আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি, এখানের সব তথ্য এখনো আপডেট করতে পারিনি। টিটনের নামে যশোরে কোনো মামলা আছে কি না, তা যাচাই করে জানানো হবে।

About Author Information

Shadhin Abdullah

জনপ্রিয়

আগামী সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর

ঢাকায় আন্ডারওয়ার্ল্ডের দ্বন্দ্বে নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী যশোরের টিটন

Update Time : 07:23 pm, Wednesday, 29 April 2026

স্বাধীন কণ্ঠ ডেস্ক
আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে রাজধানীতে গুলিতে নিহত হয়েছেন দেশের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী নাইমুর হাসান টিটন (৫৭)।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য বলছে, যশোরের খড়কি এলাকা থেকে উঠে আসা এই সন্ত্রাসী নব্বইয়ের দশকে জোড়া হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকায় পাড়ি জমান। পরে তিনি গড়ে তোলেন শক্তিশালী অপরাধ নেটওয়ার্ক এবং জড়িয়ে পড়েন অস্ত্র ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে। টিটন তার অপরাধ জীবনের শুরু করে নব্বইয়ের দশকে। ২০২১ সালে সরকারের ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় ২ নম্বরে স্থান করে নেয় সে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকা কারাগার থেকে মুক্তি পায় টিটন।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, ১৯৯৯ সালে যশোর শহরের কারবালা এলাকায় মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় বিএনপি কর্মী মোসলেহ উদ্দিন খোকন ও টিপুকে। এই জোড়া হত্যাকাণ্ডে টিটন ও তার ভাই টুটুলের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। হত্যার কয়েক মাস পর, ২০০০ সালে র‍্যাবের কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হন টুটুল। এরপর টিটন ঢাকায় পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপনে থাকেন।

টিটনের বাড়ি যশোর শহরের খড়কি এলাকার ‘আপন মোড়’-এ। সাত ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে তিনি একজন। অল্প বয়সেই বড় ভাই টুটুলের ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, চাঁদাবাজি, জমি দখল, আধিপত্য বিস্তার, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধে তাদের দাপট ছিল।ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজেদুল ইসলাম ইমন ছিলেন টিটনের ভগ্নিপতি। তার মাধ্যমে টিটন বড় অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।

ঢাকায় গিয়ে মোহাম্মদপুর এলাকায় ঘাঁটি গড়ে তোলেন টিটন। সেখান থেকে তিনি শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, অস্ত্র চোরাচালানের জন্য যশোর-ঢাকা রুটে তার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ছিল। সীমান্তের অবৈধ পথ দিয়ে ভারতীয় অস্ত্র যশোর হয়ে ঢাকায় আনা হতো। সেখান থেকে তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ত। পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সঙ্গেও তার গভীর সম্পৃক্ততা ছিল।

টিটন একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা থাকলেও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বারবার রেহাই পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। মুক্তির পর আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠেন অপরাধ জগতে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত পৌনে ৮টার দিকে রাজধানীর নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন টিটন। ধারণা করা হচ্ছে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতার জেরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

টিটনের পিতা ফখরুদ্দিন খুলনার একটি জুটমিলে পদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। তার দুই স্ত্রী ছিল। বড় দুই ভাই রিপন ও তপন যশোরে থাকেন। অন্যরা দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করেন। পরিবার জানিয়েছে, টিটন অবিবাহিত ছিলেন। নিহতের বড় ভাই রিপন মরদেহ আনার জন্য ঢাকায় গেছেন। মরদেহ যশোরে এনে দাফন করা হবে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মাসুম খান বলেন, শুনেছি ঢাকায় নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসীর বাড়ি যশোরে। তবে আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি, এখানের সব তথ্য এখনো আপডেট করতে পারিনি। টিটনের নামে যশোরে কোনো মামলা আছে কি না, তা যাচাই করে জানানো হবে।