অন্ধকার যুগ ভেদ করে সংস্কৃতির নতুন প্রভাত আনতে চাই: সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী
স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, “গত ২০ বছর ছিল একটি অন্ধকার ও তমসাবৃত যুগ। আমরা এই অন্ধকারের দেয়াল ভেদ করে দেশে নতুন প্রভাত ও নতুন সূর্যের উদয় ঘটাতে চাই। সব ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা আবার জীবনের গান গাইব।”
রোববার যশোরের ঐতিহ্যবাহী যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমি-র কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে সংস্কৃতি মন্ত্রী যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরির গৌরবময় ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে বলেন, “যশোরের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতি এবং এখানকার মানুষের অর্জন আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। কারণ আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই যশোর জেলাকে কেন্দ্র করেই। নাগরিকত্ব ও পরিচয়পত্রে আমি এখনও যশোরকেই মনে-প্রাণে ধারণ করি।”
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার গঠনের পর তিন মাস ধরে দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময়ের চেয়েও এখন আমাদের বেশি খাটতে হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে এই পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করে গেছেন। তাঁর এই আগমন আমাদের সবাইকে উদ্বেলিত ও অনুপ্রাণিত করেছে।”
মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের মানুষকে আবার পাঠাগারমুখী করতে তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন যৌথ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হচ্ছে। পাঠাগারগুলোর পরিবেশকে নান্দনিক ও আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
লাইব্রেরির উন্নয়নে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের আশ্বাস দিয়ে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “আজ আমি লাইব্রেরিটি ঘুরে যা দেখলাম, তা সংস্কার ও আধুনিকায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া হবে। পাশাপাশি পুরোনো বই সংরক্ষণ ও নতুন বই কেনার বিষয়ে স্থানীয় কমিটি ও গুণীজনদের পরামর্শ নিয়ে তালিকা প্রস্তুত করা হবে।”
যশোর ইনস্টিটিউটের ঐতিহ্য ও পূর্বের অবস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ছয়টি প্রাথমিক প্রস্তাবনা মন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানা যায়। নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে ই-বুক চালু, ওয়েবসাইট হালনাগাদ এবং আধুনিক আইসিটি প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়। এছাড়া আগামী ২২, ২৩ ও ২৪ মে একটি ইনডোর বইমেলার আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়।
পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে আরও উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আশেক হাসান, দেলোয়ার হোসেন খোকন, সুজন সরকার, জাহিদ হাসান টুকুন এবং এ জেড এম সালেকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।























