যশোরে কবিরাজ পরিচয়ে প্রতারণা, স্বর্ণালংকারসহ গ্রেপ্তার ২
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে কবিরাজ পরিচয়ে চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে এক নারীর কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাইবার ইনভেস্টিগেশন টিম। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ১৫ দশমিক ২৮ গ্রাম ওজনের তিনটি স্বর্ণের চেইন ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা।
রোববার (৮ নভেম্বর) ভোরে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কোটচাঁদপুর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের ওলিয়ার হোসেনের ছেলে আশিক (২০) এবং সলেমানপুর গ্রামের প্রশান্ত কর্মকারের ছেলে তন্ময় কর্মকার (৩৩)।
যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের উপপরিদর্শক (এসআই) দেবব্রত ঘোষ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার অন্য একটি মামলার আসামি গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। অভিযানের একপর্যায়ে একটি সাধারণ ডায়েরির তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার রাত আড়াইটার দিকে কোটচাঁদপুরে নিজ বাড়ি থেকে আশিককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সকাল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে কোটচাঁদপুর বাজারের গার্লস স্কুল রোডে অবস্থিত ‘পলাশ জুয়েলার্স’ নামের একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে তন্ময় কর্মকারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে আশিকের কাছ থেকে একটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। অন্যদিকে তন্ময় কর্মকারের হেফাজত থেকে ৬ দশমিক ৫০ গ্রাম, ২ দশমিক ৯৮ গ্রাম ও ৫ দশমিক ৮০ গ্রাম ওজনের তিনটি স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা স্বর্ণের ওজন ১৫ দশমিক ২৮ গ্রাম।
এ ঘটনায় রোববার যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারীর স্বামী শহরতলীর বাসিন্দা মো. ইউনুস আলী।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি মুঠোফোনে নিজেদের কবিরাজ পরিচয় দিয়ে তাঁর স্ত্রীর শারীরিক ব্যথা নিরাময়ের আশ্বাস দেন। একপর্যায়ে তাঁরা কৌশলে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই নারীর কাছ থেকে ১ ভরি ৭ আনা স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১৯ হাজার ৩০০ টাকা হাতিয়ে নেন।
পুলিশের অভিযান ও তদন্তের ধারাবাহিকতায় এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


























