যশোরে পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে হত্যার পর থানায় আত্মসমর্পণ করলেন স্বামী
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর সদর উপজেলার শানতলা এলাকায় পরকীয়া সন্দেহের জেরে শাহানাজ খাতুন ওরফে শাহানারা (২৫) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতক স্বামী মো. আতিয়ার রহমান নিজেই থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর ) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শানতলা এলাকার নিজ বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত শাহানাজ খাতুন শানতলা এলাকার রাজমিস্ত্রি আতিয়ার রহমানের স্ত্রী।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেশায় রাজমিস্ত্রি আতিয়ার রহমান দীর্ঘ দিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। স্ত্রীর সঙ্গে অন্য পুরুষের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে এমন সন্দেহ করতেন তিনি। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। এই সন্দেহের জেরে প্রায় চার মাস আগে শাহানাজ খাতুনকে তালাক দিয়েছিলেন আতিয়ার। তবে গত সপ্তাহে তাদের সন্তান রায়হানের মধ্যস্থতায় তারা পুনরায় এক ছাদের নিচে সংসার শুরু করেছিলেন।
নিহতের ছেলে রায়হান জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তার বাবা-মায়ের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আতিয়ার রহমান তার স্ত্রীকে মারধর করেন এবং পরবর্তীতে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা শাহানারাকে দ্রুত উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাজীব রায়চৌধুরী জানান, নিহতের গলায় ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে; তাকে শ্বাসরোধ করেই হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্ত স্বামী আতিয়ার রহমান কোতোয়ালি থানায় উপস্থিত হয়ে খুনের কথা স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. বদরুজ্জামান জানান, অভিযুক্ত আতিয়ার রহমান বর্তমানে থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও প্রক্রিয়াধীন।






















