Jashore , Thursday, 5 November 2026
সর্বশেষ:
যশোরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও সিলগালা কেশবপুরে উপমহাদেশের প্রখ্যাত অভিনেতা ধীরাজ ভট্টাচার্যের ১২১তম জন্মবার্ষিকী পালিত যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ যশোর এমএম কলেজে সহকারী অধ্যাপক নাঈমা ফারহানার স্মরণে শোকসভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত বেনাপোলে স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে বিক্ষোভ ও পথসভা যশোরে জমকালো আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’ উদ্বোধন যশোরে তেলাপোকা ও অনিয়মের অভিযোগে ‘বনফুল’কে লাখ টাকা জরিমানা বিএনপিও আন্দোলনে জামায়াত-শিবিরের ভূত দেখে: নাহিদ ইসলাম বাগেরহাটে একাধিক প্রকল্প উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোরে জেলা পর্যায়ে শিশু-কিশোর ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

কেশবপুরে উপমহাদেশের প্রখ্যাত অভিনেতা ধীরাজ ভট্টাচার্যের ১২১তম জন্মবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
উপমহাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্রাভিনেতা, ‘মাথিনের কূপ’খ্যাত ধীরাজ ভট্টাচার্যের ১২১তম জন্মবার্ষিকী অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে। বসুন্ধরা শুভসংঘ কেশবপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ উপলক্ষে একটি আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে কেশবপুরের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন বিদ্যাপীঠ পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বসুন্ধরা শুভসংঘ কেশবপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ অসীম কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে ধীরাজ ভট্টাচার্যের বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা করেন তাঁর জীবনী গ্রন্থের লেখক সহকারী অধ্যাপক তাপস মজুমদার।

পাঁজিয়া সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সহ-সম্পাদক মানব মণ্ডলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল ব্যানার্জী, পাঁজিয়া সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি নজরুল ইসলাম খান, পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সুব্রত চক্রবর্তী এবং অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিদিশা ব্যানার্জী বিন্দু।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ কেশবপুর শাখার নির্বাহী কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম খান, বসুন্ধরা শুভসংঘের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য স্বস্তিকা ঘোষ, সাংবাদিক রায়হান জনিসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থী বৃন্দ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৯০৫ সালের ৫ নভেম্বর কেশবপুরের এই পাঁজিয়া গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন ধীরাজ ভট্টাচার্য এবং এই পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়েই তাঁর শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি হয়েছিল। দেশভাগের পূর্বে তিনি পরিবারসহ ওপার বাংলায় চলে যান। সেখানে তিনি প্রথমে পুলিশে চাকরি করেন, পরবর্তীতে চলচ্চিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেন এবং একজন সফল সাহিত্যিক হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেন।

তাঁর বিখ্যাত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘যখন পুলিশ ছিলাম’ ও ‘যখন নায়ক ছিলাম’ অত্যন্ত জনপ্রিয়। পুলিশে চাকরি করাকালীন তিনি টেকনাফ থানায় কর্মরত অবস্থায় মগ রাজার কন্যা মাথিনের প্রেমে পড়েন। সেই অমর ও ট্র্যাজিক প্রেমের স্মৃতিবিজড়িত টেকনাফ থানার সেই কূপটি আজও ‘মাথিনের কূপ’ নামে পরিচিত। কলকাতা ফিরে তিনি চলচ্চিত্রে নায়ক ও খলনায়ক উভয় ভূমিকাতেই অভিনয় করে বাঙালি দর্শকের হৃদয় জয় করেছিলেন।

জন্মভূমি কেশবপুরে কৃতি এই অভিনেতার ১২১তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে আয়োজিত অনুষ্ঠানটিতে বক্তারা তাঁর জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত আগ্রহের সাথে এই স্মরণানুষ্ঠান উপভোগ করে। আলোচনা সভা শেষে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে।

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : One hour ago
17 Time View

কেশবপুরে উপমহাদেশের প্রখ্যাত অভিনেতা ধীরাজ ভট্টাচার্যের ১২১তম জন্মবার্ষিকী পালিত

Update Time : One hour ago

নিজস্ব প্রতিবেদক
উপমহাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্রাভিনেতা, ‘মাথিনের কূপ’খ্যাত ধীরাজ ভট্টাচার্যের ১২১তম জন্মবার্ষিকী অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে। বসুন্ধরা শুভসংঘ কেশবপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ উপলক্ষে একটি আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে কেশবপুরের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন বিদ্যাপীঠ পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বসুন্ধরা শুভসংঘ কেশবপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ অসীম কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে ধীরাজ ভট্টাচার্যের বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা করেন তাঁর জীবনী গ্রন্থের লেখক সহকারী অধ্যাপক তাপস মজুমদার।

পাঁজিয়া সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সহ-সম্পাদক মানব মণ্ডলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল ব্যানার্জী, পাঁজিয়া সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি নজরুল ইসলাম খান, পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সুব্রত চক্রবর্তী এবং অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিদিশা ব্যানার্জী বিন্দু।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ কেশবপুর শাখার নির্বাহী কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম খান, বসুন্ধরা শুভসংঘের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য স্বস্তিকা ঘোষ, সাংবাদিক রায়হান জনিসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থী বৃন্দ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৯০৫ সালের ৫ নভেম্বর কেশবপুরের এই পাঁজিয়া গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন ধীরাজ ভট্টাচার্য এবং এই পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়েই তাঁর শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি হয়েছিল। দেশভাগের পূর্বে তিনি পরিবারসহ ওপার বাংলায় চলে যান। সেখানে তিনি প্রথমে পুলিশে চাকরি করেন, পরবর্তীতে চলচ্চিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেন এবং একজন সফল সাহিত্যিক হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেন।

তাঁর বিখ্যাত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘যখন পুলিশ ছিলাম’ ও ‘যখন নায়ক ছিলাম’ অত্যন্ত জনপ্রিয়। পুলিশে চাকরি করাকালীন তিনি টেকনাফ থানায় কর্মরত অবস্থায় মগ রাজার কন্যা মাথিনের প্রেমে পড়েন। সেই অমর ও ট্র্যাজিক প্রেমের স্মৃতিবিজড়িত টেকনাফ থানার সেই কূপটি আজও ‘মাথিনের কূপ’ নামে পরিচিত। কলকাতা ফিরে তিনি চলচ্চিত্রে নায়ক ও খলনায়ক উভয় ভূমিকাতেই অভিনয় করে বাঙালি দর্শকের হৃদয় জয় করেছিলেন।

জন্মভূমি কেশবপুরে কৃতি এই অভিনেতার ১২১তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে আয়োজিত অনুষ্ঠানটিতে বক্তারা তাঁর জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত আগ্রহের সাথে এই স্মরণানুষ্ঠান উপভোগ করে। আলোচনা সভা শেষে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে।