বাঘারপাড়ায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রদর্শনী, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি সম্প্রসারণে সেমিনার
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের বাঘারপাড়ায় স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত লাগসই প্রযুক্তির প্রয়োগ ও সম্প্রসারণ বিষয়ক সেমিনার এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজ্ঞানমনস্কতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনকে উৎসাহ প্রদান এবং স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ভাবিত প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
শনিবার (১৩ জুন) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির আয়োজন করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। উপজেলা প্রশাসন, বাঘারপাড়া এর বাস্তবায়ন করে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভুপালী সরকার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খান মাসুম বিল্লাহ বলেন, স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রযুক্তিকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে পারলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
তিনি বলেন, “দেশের তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তিকে বিকশিত করার সুযোগ তৈরি করতে হবে। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমুখী করে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে তারাই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির নেতৃত্ব দেবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) কর্মকর্তা ড. মাহমুদা বেগম এবং সায়েন্টিফিক অফিসার আমিন হোসেন। তারা গবেষণা ও উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, স্থানীয় সমস্যার স্থানীয় সমাধান বের করতে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের বিকল্প নেই।
এছাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওয়ালিদ হোসেন রুম্মান, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।
সেমিনারে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি অনুরাগীরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করে স্মার্ট ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক ১৯টি প্রদর্শনী স্টল। এসব স্টলে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন মডেল উপস্থাপন করেন। অতিথিরা স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, গবেষণাধর্মী চিন্তাভাবনা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
স্টলগুলোতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, কৃষি উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন উদ্ভাবন তুলে ধরা হয়, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠান শেষে বাঘারপাড়া পাইলট স্কুল মাঠে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দিনব্যাপী আয়োজিত এ কর্মসূচি প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকরা। অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও আগ্রহ অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত করে তোলে।























